ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা
মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা সকল আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন
মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ০৯:১২ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ০৯:১২
মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (এম এন লারমা) সকল আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তিনি শুধু পাহাড়ী মানুষের অধিকারের কথা বলেননি, তিনি সকল জাতিসত্ত্বার কথা বলেছেন। এম এন লারমার আদর্শ ধারণ করে তরুণ প্রজন্মকে আরো বেশি উজ্জীবিত হতে হবে। তিনি ছিলেন নিপীড়িত মানুষের কন্ঠস্বর।
বুধবার বিপ্লবী মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনলাইন আলোচনায় এসব কথা বলেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের ফেসবুক পেইজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল বলেন, বিশ্বের বড় বড় রাষ্ট্রগুলো সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর বৈচিত্রকে অস্বীকার করছে। বাংলাদেশর ক্ষেত্রেও সেটা পুরোপরি লক্ষ্যণীয়। কেননা যে আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এদেশের আদিবাসীরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল সেটি পুরোপুরি উপেক্ষিত।
সাহিত্যিক ও সিনিয়র সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, এম এন লারমা একজন ভিন্ন প্রকৃতির নেতা ছিলেন। তিনি শুধু পাহাড়ী মানুষের অধিকারের কথা বলেননি, তিনি সকল জাতিসত্বার কথা বলেছেন। একটি সমতাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তিনি সংগ্রাম করেছেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে বলেন, আদিবাসী এদেশে সবচেয়ে পশ্চাৎপদ জাতি। তাই তাদেরকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। একারণে এম এন লারমা সকল মেহনতি মানুষের কথা সংবিধানে অন্তর্ভূক্তির জন্য সোচ্চারভাবে দাবি তুলেছিলেন।
বরণ্যে রাজনীতিবিদ ও ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, এম এন লারমা একজন ব্যতিক্রমধর্মী জাতীয় নেতা ছিলেন। তিনি সমগ্র জুম্ম জাতিকে সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি দেশের গোটা বাঙালী সমাজকেও প্রভাবিত করেছিল। নারীদেরকে সংগ্রামে উদ্বুদ্ধকরণের মধ্য দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ-সভাপতি ও সাবেক সাংসদ ঊষাতন তালুকদার বলেন, এম এন লারমা ছিলেন প্রতিবাদী, সাহসী, সংগ্রামী, দৃঢচেতা, বিচক্ষণ ওপ্রতিভাবান। প্রতিবাদী ছিলেন বলে তিনিই প্রথম কাপ্তাই বাধের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম করেছিলেন। যার কারণে পাাকিস্তান সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে। এই বাধের ফলে ৫৪ হাজার একর ধানী জমি পানিতে তলিয়ে যায়, প্রায় ৬০ হাজার পাহাড়ী উদ্বাস্তু হয়ে পাশের দেশে নাগরিকত্বহীন অবস্থায় বসবাস করছে। ১৯৯৭ সালে সম্পাদিত পার্বত্য চুক্তি এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ায় পাহাড়ীদের মধ্যে হতাশা ও উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। এসময় পার্বত্য চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জোর দাবি জানান তিনি।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং এর সঞ্চালনায় ও সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সহ-সাধারণ সম্পাদক পল্লব চাকমা। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. রানাদাশ গুপ্ত, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের টেকনোক্রেট সদস্য জান্নাত ই ফেরদৌসী, বিএনপিএস এর উপ-পরিচালক শাহানাজ সুমি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সদস্য চঞ্চনা চাকমা, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধরণ সম্পাদক অলিক মৃ প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ১৯৩৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি শহরের মহাপূরমের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হতে ম্যাট্রিক ও চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে আইএ পাশ করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি বিএ পাশ করেন। এরপর তিনি বিএড এবং এলএলবি পাশ করেন। তার উদ্যোগে ১৯৭২ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গঠিত হয়। জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে বীরেন্দ্র কিশোর রোয়াজা ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- বিষয় :
- মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা
- আধিপত্যবাদ
- লড়াই
- আদিবাসী