পর্বতারোহী রেশমা নাহার রত্মাকে চাপা দেওয়া কালো রঙের মাইক্রোবাসটি এখনও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনাস্থলসহ সম্ভাব্য সড়কগুলোর অন্তত ২৫০ পয়েন্টের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ গত ১১ দিনে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এরমধ্যে কয়েক স্থানে গাড়িটি দেখা গেলেও নম্বরপ্লেট স্পষ্ট বোঝা যায়নি। তবে প্রযুক্তিগত তদন্ত ও অন্যান্য উপায়ে দুর্ঘটনায় দায়ী যানটি খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সী সমকালকে বলেন, মর্মান্তিক ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশের একাধিক দল দিন-রাত কাজ করে চলেছে। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। অভিযানও চালানো হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। তবে এখনও মাইক্রোবাস বা এর চালককে শনাক্ত করা যায়নি।

গত ৭ আগস্ট সকালে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যান সংলগ্ন লেক রোডে মাইক্রোবাসের চাপায় গুরুতর আহত হন সাইকেল আরোহী রত্মা। তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভগ্নিপতি মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ক্যামেরায় মাইক্রোবাসটি পাশ থেকে দেখা গেছে। সেখানে নম্বরপ্লেট বোঝা যায়নি। এরপর যানটি গাবতলীর দিকে যায়। আর যাত্রাবাড়ীর দিক থেকে সেটি এসেছিল। বিপুল পরিমাণ সিসিটিভি ফুটেজ ঘেঁটে এতটুকু তথ্য বের করা গেছে। তবে চলাচলের পুরো পথে যানটি ট্র্যাক করা যায়নি। মাত্র পাঁচ-ছয়টি ক্যামেরায় কালো মাইক্রোবাসটি দেখা গেছে। কোনোটিতে নম্বরপ্লেট আংশিক দেখা গেছে, কোনোটিতে অস্পষ্ট, আবার কোনোটিতে ধরাই পড়েনি। তারপরও বাহ্যিক বর্ণনা ও আংশিক নম্বরের ওপর ভিত্তি করে গাড়িটি শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও যানবাহন পরিদর্শকসহ বিভিন্নজনের সহায়তা নিয়েও সুফল মেলেনি। এ কারণে অন্যান্য আরও কিছু উপায়ে চেষ্টা চলছে। আশা করা যায়, শিগগিরই দুর্ঘটনায় দায়ী যানটি শনাক্ত ও চালককে গ্রেপ্তার করতে পারবে পুলিশ।

পেশায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ৩৩ বছর বয়সী রত্মার স্বপ্ন ছিল হিমালয় পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট জয় করা। সেই লক্ষে তিনি নিজেকে একটু একটু করে তৈরি করছিলেন। দেশ-বিদেশের কয়েকটি পর্বতের চূড়ায় তিনি উড়িয়েছেন বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা। পর্বতারোহণের পাশাপাশি বই পড়া ও গান-আবৃত্তিসহ নানারকম সাংস্কৃতিক-সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা ছিল। তিনি সাইকেল চালাতে ভালোবাসতেন। ম্যারাথন দৌড়ে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। এরমধ্যেই সড়কে ধূলিসাৎ হয় তার স্বপ্ন।