ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

মগজ ধোলাই ৫.০

সমাজের মূল স্রোতের বাইরে থাকা শিশুদের বইপড়া উৎসব

সমাজের মূল স্রোতের বাইরে থাকা শিশুদের বইপড়া উৎসব

৬ টি বিদ্যালয় ও একই ধরনের বিভিন্ন সংস্থার ৯৬ জন মেধাবী শিশু আয়োজনটিতে অংশ নেয়

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৪ | ১৪:০৫ | আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৪ | ১৪:২৪

সম্প্রতি 'মগজ ধোলাই' -এর পঞ্চম পর্ব আয়োজন করেছে কেকে ফাউন্ডেশন ও গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন।

মগজ ধোলাই মূলত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বই পড়ার মাধ্যমে আনন্দ উদ্‌যাপনের একটি উৎসব। গত ২ মার্চ ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমি মাঠে বেলা ২:৩০টা থেকে ৪:৩০টা পর্যন্ত আয়োজিত মগজ ধোলাই ৫.০ সমাজের মূল স্রোতের বাইরে থাকা শিশুদের মাঝে বই পড়ার অভ্যাসকে উৎসাহিত করতে একটি মাইলফলক স্থাপন করেছে। 

২০২৩ সাল পর্যন্ত মগজ ধোলাই -এর চারটি পর্ব আয়োজিত হয়েছে। পূর্ববর্তী পর্বগুলোর সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে সেই ধারাবাহিকতায় এবারের মগজ ধোলাই ৫.০ আয়োজিত হয়। বিগত চারটি পর্বে অংশগ্রহণকারী হিসেবে ছিল ৩২ টি বিদ্যালয় এবং বিভিন্ন অলাভজনক সংস্থার ৬৭৫ জন শিশু। 

এবছর ৬ টি বিদ্যালয় ও একই ধরনের বিভিন্ন সংস্থার ৯৬ জন মেধাবী শিশু আয়োজনটিতে অংশ নেয়। সেসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: জয় সকল শিশুর শেল্টারহোম, বাসা এন্টারপ্রাইজ শেল্টারহোম, ডেইরি ফার্ম প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শিশু বিকাশ কেন্দ্র এবং জাগো ফাউন্ডেশন স্কুল। 

উক্ত আয়োজনে শিশুদেরকে বয়স ও শ্রেণির ভিত্তিতে দুইটি দলে ভাগ করা হয়। যেমন: 'উইংস' (৪র্থ-৬ষ্ঠ শ্রেণি) এবং 'প্লেনস এন্ড পাইলটস' (৭ম-৮ম শ্রেণি)। 

পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতোই, মগজ ধোলাই কেবল বই পড়া বিষয়ক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরাবরের মত এবারো ছিল তরুণদের বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রমে জড়িত করা যাতে তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ হয়। প্রত্যেক দলকে আয়োজনের এক মাস আগে দুইটি করে দই দেওয়া হয় পড়ার জন্য। 

'প্লেনস এন্ড পাইলটস' দলটি পড়ে মুহাম্মদ জাফর ইকবালের 'আমার বন্ধু রাশেদ' এবং শাহরিয়ার কবিরের 'নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড়'। আর 'উইংস' দলকে দেওয়া হয় মার্ক টোয়েনের 'এডভেঞ্চারস অব হাকলবারি ফিন' এবং হুমায়ূন আহমেদের 'বোতল ভূত'। 

দুইটি গ্রুপেই প্রত্যেক বিদ্যালয় বা সংস্থার ৮ জন করে শিক্ষার্থীর একটি দল অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী শিশুদের নির্বাচন করার জন্য প্রাক-মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়, যাতে মূল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর দ্বিগুণ সংখ্যক প্রতিযোগী অংশ নিতে পারে। এই বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা শিশুদের বই পড়ার আনন্দকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

নির্ধারিত পাঠ থেকে প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে 'হিট দ্যা গোল পোস্ট', 'কুইজ রিলে', এবং 'সলভ দ্যা পাজল'- এর মত খেলার আয়োজন করা হয়, যা শিশুদের শিক্ষণ কার্যক্রমে এক নতুন অভিজ্ঞতা যোগ করেছে। পাশাপাশি তাদের বিশ্লেষণধর্মী ক্ষমতাকেও বৃদ্ধি করেছে। ফলাফল সংকলনের পর প্রতিটি শ্রেণি ভিত্তিক দলের বিজয়ী এবং রানার-আপদের পুরস্কৃত করা হয়।

হবিগঞ্জ-৪ আসনের নবনির্বাচিত সাংসদ ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিশুদের সাথে কথা বলেন। অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয় এবং সংস্থাগুলো তাদের শিশুদের এমন একটি প্রাণবন্ত উৎসবে  অংশগ্রহণ করাতে পেরে নিজেদের উচ্ছ্বাস ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

সবশেষে সহযোগী সংগঠন, অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয় ও সংস্থাসহ অনুষ্ঠানটি সাফল্যমণ্ডিত করতে জড়িত সকলের প্রতি কেকেএফ ও গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

আরও পড়ুন

×