ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গৃহকর্মীদের আইনি স্বীকৃতি মিললেও ভোগান্তি কমেনি

গৃহকর্মীদের আইনি স্বীকৃতি মিললেও ভোগান্তি কমেনি
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৫৮ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৫৯

গৃহকর্মীদের অধিকার রক্ষায় আইন ও নীতিগত অগ্রগতি হলেও তাদের প্রতি সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি এখনো বড় বাধা। ন্যায্য মজুরি ও কর্মঘণ্টা, কর্মক্ষেত্রে নির্যাতন ও হয়রানি, সীমিত সামাজিক সুরক্ষা এবং শ্রমিক হিসেবে মর্যাদার ঘাটতি এখনো বহু গৃহকর্মীর জীবনের বাস্তবতা।

বুধবার ঢাকার আলোকিতে বাংলাদেশে অক্সফ্যামের আয়োজনে “হ্যান্ডস দ্যট হোল্ড হোমস: রাইটস, রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব ডমেস্টিক ওয়ার্কারস” শীর্ষক দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

কানাডা সরকারের সহায়তায় ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত সুনীতি–নারী গৃহকর্মীদের অধিকার সুরক্ষা প্রকল্পের সাত বছরের অর্জন, শিখন, নীতিগত অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়।

বক্তারা বলেন, আইন পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিবার, নিয়োগকরী ও সমাজের মানসিকতায় পরিবর্তন না এলে গৃহকর্মীদের অধিকার বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত হবে না।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবির বলেন, গৃহকর্মীসহ যে কোনো খাতের  শ্রমিকদের অধিকার সরকারের একার পক্ষে শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে শিশু শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে কিনা তা সরকারের একার পক্ষে মনিটর করা সম্ভব নয়। কম মজুরি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, সামাজিক সুরক্ষার অভাব, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি এবং অধিকার সম্পর্কে সীমিত সচেতনতা এখনো গৃহকর্মীদের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি। 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, সবকিছু পরিবর্তন করলাম, কিন্তু মানসিকতা পরিবর্তন না করলে হবে না। আমার গৃহকর্মীকে আমি কেন আমার সহকর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারি না? তিনি কর্মজীবী মায়েদের জন্য কর্মস্থল ও আবাসিক ভবনে দিবাযত্ন কেন্দ্র নিশ্চিত করা এবং গৃহকর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, সংশোধিত শ্রম আইনে গৃহকর্মীদের স্বীকৃতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও তা এখনো আংশিক। নারী গৃহকর্মীদের কোনো কিছুই পূর্ণভাবে পাওয়া যায়নি। নতুন আইনের স্বীকৃতিও নয়। সুতরাং একটা দীর্ঘযাত্রা রয়ে গেছে।

কানাডা সরকারের অ্যাক্টিং হেড অব করোপরেশন জেন পালমার বলেন, সুনীতি প্রকল্প গৃহকর্মীদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং সমষ্টিগতভাবে সংগঠিত হওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমরা আশা করি ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের কাজ বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করবে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাংলাদেশ কার্যালয়ের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক নিরান রামজুথান বলেন, গৃহকর্মীদের অদৃশ্য ও অনানুষ্ঠানিক অবস্থান থেকে আইনি সুরক্ষার কাঠামোয় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রিডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, গৃহকর্মীদের নিয়ে সমাজের প্রচলিত মানসিকতায় এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি এবং শিশুরা যেন ভবিষ্যতে গৃহকর্মে না আসে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের ইন্টেরিম কান্ট্রি ডিরেক্টর অনিল পান্ত বলেন, আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি গৃহকর্মীদের অধিকার ও মর্যাদার প্রতি সামাজিক সম্মান নিশ্চিত করা জরুরি।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশনে গৃহকর্মীদের জাতীয় ফোরামের সভাপতি জাকিয়া সুলতানা বক্তব্য দেন। প্রকল্পের যাত্রা, অর্জন, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ তুলে ধরেন বাংলাদেশে অক্সফ্যামের কর্মসূচি পরিচালক মাহমুদা সুলতানা।

অনুষ্ঠানে সুনীতি প্রকল্পের সাত বছরের অভিজ্ঞতা, তথ্য-প্রমাণ, নীতিগত বিশ্লেষণ এবং গৃহকর্মীদের জীবনের দশটি গল্প নিয়ে প্রস্তুত প্রধান প্রকাশনার আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

আরও পড়ুন

×