মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আসকের নিন্দা ও উদ্বেগ
ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:১৯
রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের পর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
আসক বলেছে, প্রায় পাঁচ দশক ধরে নিম্নআয়ের মানুষের, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা একটি প্রতিষ্ঠান এভাবে ধ্বংস করে দেওয়া অত্যন্ত গুরুতর ও অগ্রহণযোগ্য। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে আসক জানায়, ২৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবেশ করে। তারা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে বেঁধে রেখে ওষুধ, টিকা ও চিকিৎসাসামগ্রীসহ বিভিন্ন জিনিস লুট করে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
১৯৭৪ সাল থেকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মাতৃ ও শিশুসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও টিকাদানসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছিল।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে আসক। সংগঠনটির বক্তব্য, ঘটনাস্থল থানার কাছেই এবং হামলার সময় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছিল বলে গণমাধ্যমে তথ্য এসেছে। এরপরও এত বিপুলসংখ্যক মানুষ কীভাবে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে লুটপাট চালিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ভবন গুঁড়িয়ে দিল, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।
পুলিশ কখন ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছিল, কী ব্যবস্থা নিয়েছিল এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার পরও কেন ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করা যায়নি- নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে আসক। দায়িত্বে অবহেলা বা নিষ্ক্রিয়তা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার কথা বলেছে সংগঠনটি।
জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি
আসক বলেছে, হামলা ও ধ্বংসের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি এর পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা স্বাধীনভাবে তদন্ত করে দায় নির্ধারণ করতে হবে।
ধ্বংসপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম দ্রুত পুনঃস্থাপন এবং নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আসকের মতে, মিরপুরের ঘটনাটি শুধু একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধ্বংসের বিষয় নয়; এটি আইনের শাসন, নাগরিক নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের জবাবদিহির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দৃশ্যমান জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।