ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিএফএফ-সমকাল বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসব

চট্টগ্রামে জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট স্কুল

চট্টগ্রামে জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট স্কুল
×

ছবি: সমকাল

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৫২

১২তম বিএফএফ-সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে চট্টগ্রামে জেলা পর্যায়ে জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। রানার্সআপ হয়েছে সরকারি মুসলিম হাই স্কুল। সেরা বক্তা নির্বাচিত হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন দলের নবম শ্রেণির ছাত্রী কাজী রুবাইদা জাহান।

‘বিতর্ক মানেই যুক্তি, বিজ্ঞানে মুক্তি’ এ স্লোগানে বৃহস্পতিবার নগরের বাংলাদেশ মহিলা সমিতি উচ্চ বিদ্যালয় (বাওয়া স্কুল) মিলনায়তনে দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া আটটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হোন। এসময় তাদের সঙ্গে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন। সকাল থেকেই শুরু হয় প্রতিযোগিতার প্রথম রাউন্ডের বিতর্ক প্রতিযোগিতা। দুপুরে অনুষ্ঠিত হয় সেমি ফাইনাল ও ফাইনাল। পরে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (বিএফএফ) ও দৈনিক সমকালের যৌথ আয়োজনে এবং শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত এবারের উৎসবে চট্টগ্রাম জেলার আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

সমকালের চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সম্পাদক ও ব্যুরো প্রধান সারোয়ার সুমনের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাওয়া স্কুলের অধ্যক্ষ আরিফ উল হাছান চৌধুরী, চট্টগ্রামের বিখ্যাত সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন দৃষ্টি চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ বকুল, হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক শ্রীপর্না দাশ শর্মা, সিলভার বেলস গার্লস হাই স্কুলের শিক্ষিকা জান্নাতুল মাওয়া, সরকারি মুসলিম হাই স্কুলের শিক্ষক মো. এনায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আজিজ আহমেদ প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘বিতর্ক চর্চা মননে বিশুদ্ধ চিন্তার উদ্ভব ঘটায়। কার জ্ঞানের পরীধি কতটুকু তাও প্রকাশ পায় বিতর্কের মাধ্যমেই। বিতর্ক চর্চা একজন শিক্ষার্থীকে অনেক কিছু জানতে এবং যুক্তি দিয়ে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করতেও শেখায়। প্রতিবছর সমকাল বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবের আয়োজন করে এক ছাদের নিচে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জ্ঞানকে ঝালাই করার সুযোগ করে দিচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। এজন্য সমকাল প্রশংসার দাবিদার।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, ‘অনেক পড়াশুনা করতে হবে। কারণ পড়ালেখার বিকল্প নেই। আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে তা তোমাদের ভালো ও ক্রিয়েটিভ কাজের ওপরই নির্ভর করবে। বর্তমানে আমাদের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশে সুনামের সাথে লিড দিচ্ছে। এটা অনেক আমাদের জন্য অনেক গর্ভের ও আনন্দের। চট্টগ্রাম শহরকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব আজকের শিক্ষার্থীদের কাধে তুলে নিতে হবে। কারণ এই শহর তোমার, আমার, আমাদের। সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে এগিয়ে যেতে পারলেই দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন করতে পারবো আমরা।’

সারোয়ার সুমন বলেন, ‘প্রতিবছর এক ছাদের নিচে শত শত বিতার্কিকদের আনার অসাধ্য কাজটি বিগত ১২ বছর ধরে সফলতার সাথে করে আসছে সমকাল। বছরব্যাপী এ ধরণের যুগোপযোগী নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে পাঠকপ্রিয় সমকাল। আমাদের এই প্রচেষ্টা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।’

জেলা পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বাকি ছয়টি দল হলো- ডা. খাস্তগীর উচ্চ বিদ্যালয়, সিলভার বেইস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি উচ্চ বিদ্যালয়, নাসিরাবাদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।

প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন- প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি ফজল আল মাহমুদ অয়ন, সাধারণ সম্পাদক সিভাত নুর চৌধুরী, সহ-সভাপতি মোসাররাফা পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ আলদীন ফারদিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অব ডিবেটের ডিবেটর অরভা হাসান, সহ-সভাপতি তানভিন কায়েস, ব্র্যান্ডিং ও অনলাইন বিষয়ক সম্পাদক মেহরাব বিন মিজান, গবেষণা ও উন্নয়ন সম্পাদক অরিজিৎ বড়ুয়া, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি সামি উদ্দিন চৌধুরী, চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটির সহ-সভাপতি মো. আবদুল্লাহ তালবি, দৃষ্টি চট্টগ্রামের সদস্য আবু জুনায়েদ আসাদ ও আকরাম হোসেন রানা।

আরও পড়ুন

×