কাদের মির্জার বিরুদ্ধে জাপা নেতাকে আটকে রাখার অভিযোগ
স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই লঞ্চ থেকে নামছেন যাত্রীরা- সমকাল
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ০৪:০৮ | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২১ | ০৬:৫৯
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ (কবিরহাট-কোম্পানীগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনকে (৫৮) তুলে নিয়ে আটকে রেখে নির্যা`তন করার অভিযোগ উঠেছে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা ও তার পেটুয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে। কাদের মির্জা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই।
স্বপন উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মোখলেছের রহমান পন্ডিত বাড়ির জিয়াউল হক জিয়ার ছেলে।
চরফকিরা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ও স্বপনের স্ত্রী নাজমা ইসলাম জানান, বেধড়ক মার`ধর করে তার স্বামীর মাথা থেতলে , হা`ত-পা ভেঙ্গে দেয় কাদের মির্জা ও তার অনুসারীরা। তাকে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দিয়ে মে`রে ফেলার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আগে থেকেই কাদের মির্জা স্বপনকে মুঠোফোনে গালিগালাজ করত, হুমকি দিত- এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, 'গত ৬ মাসে আমার স্বামী বসুরহাট যায়নি। বুধবার বিকেলে এক কাজে তিনি বসুরহাট বাজারে যান। খবর পেয়ে কাদের মির্জা তাকে আটক করে পৌরসভার ৩য় তলায় আটকে নির্মম নি`র্যাতন চালায়। মার`ধর করে কাদের মির্জার লোকেরা ভিডিও করেছে, জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করেছে।'
স্বপনের ছেলে কলেজ শিক্ষাথী মাইনুল ইসলাম শাওন অভিযোগ করে বলেন, কোম্পানীগঞ্জে রাজনীতিতে মির্জার বিরুদ্ধে যারা আছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার জন্য তার বাবাকে চাপ দেয় মির্জা। তার প্রতিপক্ষরা যে সকল অনিয়ম করে নাই, সে গুলো করছে বলে তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলে। এসব কথা বলতে বাধ্য করে তারা ভিডিও চিত্র ধারণ করে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি লতিফ মেম্বার এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজী হননি।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ও কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ ওবায়দুল কাদেরের ভাগ্নে মাহবুবুর রশিদ মঞ্জু বলেন, বুধবার বিকেল ৫টার দিকে জাতীয় পার্টির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম স্বপনকে তুলে নিয়ে নির্ম`মভাবে নির্যা`তন করেছে কাদের মির্জা ও তার পেটুয়া বাহিনী। তার মাথা ও হাত পা পি`টিয়ে থেত`লে দেওয়া হয়েছে। মু`মূ`র্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করেছে। সেই হিসাবে তারা সরকারের একটি অংশ। কাদের মির্জার হাত থেকে জাপা নেতাও রেহাই পেলেন না। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আব্দুল কাদের মির্জার ব্যক্তিগত সহকারী ও বসুরহাট পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হামিদ উল্যাহ হামিদ জাপা নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে কাদের মির্জার বিরুদ্ধে তার প্রতিপক্ষের লোকজন মিথ্যাচার করছে বলেও তিনি দাবি করেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো.সাইফুদ্দিন আনোয়ার জানান, কাদের মির্জার প্রতিপক্ষকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে পৌর মেয়র স্বপনকে পৌরসভায় ডেকে নিয়ে শাসিয়েছেন বলে শুনেছেন। তবে মারধরের বিষয়টি তিনি জানেন না।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আকরামুল হাসান বলেন, বিষয়টি তিনিও শুনেছেন। ঘটনাটি কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত করছেন। এ ব্যাপারে পরে বিস্তারিত বলা যাবে।
- বিষয় :
- কাদের মির্জা