ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে 'হাতিয়ার' করা চলছেই
×
রাশেদ মেহেদী
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ১৩:৪১
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আবারও সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। অন্য নাগরিকদেরও এই আইনে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে। যদিও স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী অনেকবার আশ্বাস দিয়েছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ হবে না। এরপরও বিতর্কিত গ্রেপ্তারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ঘটনাগুলো বিতর্কিত আইনটি বাতিলের দাবিকেই জোরালো করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, গত সাড়ে তিন বছরে প্রমাণ হয়েছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগই এ আইনের অপপ্রয়োগ। যেভাবেই প্রয়োগ করা হোক, সেটা অপপ্রয়োগ হয়ে যাচ্ছে, এটাই এখনকার দৃশ্যমান বাস্তবতা।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি জহুরুল হক এবং স্থানীয় যুবক আব্দুর রহমানকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার বাদী সাতক্ষীরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আরিফুজ্জামান। জহুরুল হককে গ্রেপ্তারের পর মামলার বাদী সাংবাদিকদের জানান, এ দু'জন সাতক্ষীরার সদ্য বদলি হওয়া সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির সম্পর্কে ফেসবুকে নানা ধরনের কটূক্তি করেছেন, যাতে তার ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ ছাড়া জহুরুল হক পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের কাছে অধস্তন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেনামিতে অভিযোগ দিয়েছেন।
তবে জহুরুল হকের স্ত্রী মাহমুদা খাতুন এবং স্থানীয় একাধিক সাংবাদিক জানান, বছরখানেক আগে জহুরুল হককে ইয়াবা পাওয়ার অভিযোগে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করেন পাটকেলঘাটা সার্কেলের এএসপি হুমায়ুন কবির। তাকে শারীরিক নির্যাতনও করে পুলিশ। জামিনে বের হয়ে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আবেদন করেন। এ আবেদনের সমর্থনে তিনি ফেসবুকেও লেখেন। কয়েক দিন আগে হুমায়ুন কবির বদলি হওয়ার পর জহুরুল হক আবারও তার প্রতি পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে পোস্ট দেন। এর পরই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, জহুরুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন মামলার বাদী এসআই আরিফুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ঊর্ধ্বতনদের কাছে অধস্তনদের বিরুদ্ধে বেনামি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আবার বলেছেন, জহুরুল হক নিজেই পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে ফেসবুকে কটূক্তি করেছেন। প্রশ্ন উঠছে, যে ব্যক্তি নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একজনের বিরুদ্ধে সরাসরি লেখেন, তিনি কেন বেনামি অভিযোগ করবেন? আর বেনামি অভিযোগ করলে পুলিশ কোন প্রক্রিয়ায় নিশ্চিত হলো অভিযোগ জহুরুল হকই করেছেন? তা ছাড়া পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে জহুরুল হক তাকে মিথ্যা মাদকের মামলায় ফাঁসানোসহ শারীরিক নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে যে আবেদন করেছিলেন, তা নিয়ে কোনো তদন্ত হয়েছে কিনা?
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অন্য গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে ফেনীর পরশুরামে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি সেখানকার স্থানীয় আবু তাহের নামে এক ব্যক্তিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা হয় পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ সম্পর্কে মন্তব্যের জন্য। আবু তাহের এলাকার স্থানীয় যুবদল নেতা বলেও পুলিশ জানিয়েছে। তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, মামলাটির বাদী শফিকুর রহমান মজুমদার নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। প্রশ্ন উঠছে, কোন ব্যক্তি দুরন্বয়ী একজনের সম্মান রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে মামলা করলেই পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে কিনা?
আরও প্রশ্ন উঠেছে, সাতক্ষীরায় একজন সহকারী পুলিশ সুপারের মর্যাদা বিনষ্টের আশঙ্কায় আরেকজন অধস্তন পুলিশ কর্মকর্তা মামলার বাদী হলেন, তাহলে পরশুরামে পুলিশের মহাপরিদর্শকের বিরুদ্ধে রুচিহীন মন্তব্যের জন্য কেন পুলিশের কেউ বাদী হয়ে মামলা করলেন না?
এর আগে সেন্টার ফর গভর্নমেন্ট স্টাডিজ (সিজিএস), আর্টিকেল নাইন্টিন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রসহ একাধিক সংগঠনের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু ২০২১ সালেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ২২৫টি মামলা হয় ৪১৭ জনের বিরুদ্ধে। যেখানে গ্রপ্তার করা হয় ১৬৬ জনকে। এর মধ্যে ৬৮ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, যার মধ্যে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১৫। মোট মামলার মধ্যে ৯০টি মামলা হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতা কিংবা ক্ষমতা প্রয়োগে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট, মন্তব্য কিংবা সমালোচনা কিংবা কটূক্তির অভিযোগে।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য :বিশিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ূয়া সমকালকে বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধের যে কথা বলা হচ্ছে, তা লোক দেখানো।
তিনি বলেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের প্রতিকার চাওয়ার জন্য নির্যাতিতকে আবারও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে হাতিয়ার করে গ্রেপ্তার করা আইনের দৃষ্টিতে শুধু নয়, সাধারণ বিবেচনাবোধের জায়গা থেকেও গুরুতর অপরাধ। সবার আগে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত ছিল।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলেই সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা যাবে না বলে আইনমন্ত্রী এর আগে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অসাংবিধানিক। কারণ, সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রশ্ন এড়াতেই আইনমন্ত্রী এ ধরনের অগ্রহণযোগ্য বক্তব্য দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে বর্তমান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ছাড়া এর অপপ্রয়োগ বন্ধ সম্ভব নয়।
আর্টিকেল নাইন্টিনের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুক ফয়সাল বলেন, এখন যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে- আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে, সেটা দুর্ভাগ্যজনক। আইন সবার জন্য সমান এবং কোনো ব্যক্তি বিশেষ কিংবা গোষ্ঠীর জন্য তা পৃথকভাবে প্রয়োগ হতে পারে না। আবার কেউ কোনো আইনকে হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে কোনো 'হুইসেলব্লোয়ার' (তথ্য ফাঁসকারীর সুরক্ষা) আইন নেই। এর ফলে সরকারি কর্মকর্তা এবং ক্ষমতাধররা কোনো অপরাধ করলে তার প্রতিকার চাওয়ার ব্যবস্থাও কার্যত নেই। অতএব হুইসেলব্লোয়ার আইন হওয়া দরকার। আমি মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও নির্ভয়ে অন্যায়ের প্রতিকার চাইতে পারব, অভিযোগ করতে পারব, সেই অধিকার যখন পাব, তখনই আমি সত্যিকারের স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে বিবেচনা করতে পারব।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, গত সাড়ে তিন বছরে প্রমাণ হয়েছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগই এ আইনের অপপ্রয়োগ। যেভাবেই প্রয়োগ করা হোক, সেটা অপপ্রয়োগ হয়ে যাচ্ছে, এটাই এখনকার দৃশ্যমান বাস্তবতা।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি জহুরুল হক এবং স্থানীয় যুবক আব্দুর রহমানকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার বাদী সাতক্ষীরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আরিফুজ্জামান। জহুরুল হককে গ্রেপ্তারের পর মামলার বাদী সাংবাদিকদের জানান, এ দু'জন সাতক্ষীরার সদ্য বদলি হওয়া সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির সম্পর্কে ফেসবুকে নানা ধরনের কটূক্তি করেছেন, যাতে তার ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ ছাড়া জহুরুল হক পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের কাছে অধস্তন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেনামিতে অভিযোগ দিয়েছেন।
তবে জহুরুল হকের স্ত্রী মাহমুদা খাতুন এবং স্থানীয় একাধিক সাংবাদিক জানান, বছরখানেক আগে জহুরুল হককে ইয়াবা পাওয়ার অভিযোগে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করেন পাটকেলঘাটা সার্কেলের এএসপি হুমায়ুন কবির। তাকে শারীরিক নির্যাতনও করে পুলিশ। জামিনে বের হয়ে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আবেদন করেন। এ আবেদনের সমর্থনে তিনি ফেসবুকেও লেখেন। কয়েক দিন আগে হুমায়ুন কবির বদলি হওয়ার পর জহুরুল হক আবারও তার প্রতি পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে পোস্ট দেন। এর পরই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, জহুরুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন মামলার বাদী এসআই আরিফুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ঊর্ধ্বতনদের কাছে অধস্তনদের বিরুদ্ধে বেনামি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আবার বলেছেন, জহুরুল হক নিজেই পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে ফেসবুকে কটূক্তি করেছেন। প্রশ্ন উঠছে, যে ব্যক্তি নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একজনের বিরুদ্ধে সরাসরি লেখেন, তিনি কেন বেনামি অভিযোগ করবেন? আর বেনামি অভিযোগ করলে পুলিশ কোন প্রক্রিয়ায় নিশ্চিত হলো অভিযোগ জহুরুল হকই করেছেন? তা ছাড়া পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে জহুরুল হক তাকে মিথ্যা মাদকের মামলায় ফাঁসানোসহ শারীরিক নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে যে আবেদন করেছিলেন, তা নিয়ে কোনো তদন্ত হয়েছে কিনা?
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অন্য গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে ফেনীর পরশুরামে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি সেখানকার স্থানীয় আবু তাহের নামে এক ব্যক্তিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা হয় পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ সম্পর্কে মন্তব্যের জন্য। আবু তাহের এলাকার স্থানীয় যুবদল নেতা বলেও পুলিশ জানিয়েছে। তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, মামলাটির বাদী শফিকুর রহমান মজুমদার নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। প্রশ্ন উঠছে, কোন ব্যক্তি দুরন্বয়ী একজনের সম্মান রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে মামলা করলেই পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে কিনা?
আরও প্রশ্ন উঠেছে, সাতক্ষীরায় একজন সহকারী পুলিশ সুপারের মর্যাদা বিনষ্টের আশঙ্কায় আরেকজন অধস্তন পুলিশ কর্মকর্তা মামলার বাদী হলেন, তাহলে পরশুরামে পুলিশের মহাপরিদর্শকের বিরুদ্ধে রুচিহীন মন্তব্যের জন্য কেন পুলিশের কেউ বাদী হয়ে মামলা করলেন না?
এর আগে সেন্টার ফর গভর্নমেন্ট স্টাডিজ (সিজিএস), আর্টিকেল নাইন্টিন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রসহ একাধিক সংগঠনের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু ২০২১ সালেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ২২৫টি মামলা হয় ৪১৭ জনের বিরুদ্ধে। যেখানে গ্রপ্তার করা হয় ১৬৬ জনকে। এর মধ্যে ৬৮ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, যার মধ্যে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১৫। মোট মামলার মধ্যে ৯০টি মামলা হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতা কিংবা ক্ষমতা প্রয়োগে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট, মন্তব্য কিংবা সমালোচনা কিংবা কটূক্তির অভিযোগে।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য :বিশিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ূয়া সমকালকে বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধের যে কথা বলা হচ্ছে, তা লোক দেখানো।
তিনি বলেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের প্রতিকার চাওয়ার জন্য নির্যাতিতকে আবারও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে হাতিয়ার করে গ্রেপ্তার করা আইনের দৃষ্টিতে শুধু নয়, সাধারণ বিবেচনাবোধের জায়গা থেকেও গুরুতর অপরাধ। সবার আগে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত ছিল।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলেই সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা যাবে না বলে আইনমন্ত্রী এর আগে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অসাংবিধানিক। কারণ, সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রশ্ন এড়াতেই আইনমন্ত্রী এ ধরনের অগ্রহণযোগ্য বক্তব্য দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে বর্তমান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ছাড়া এর অপপ্রয়োগ বন্ধ সম্ভব নয়।
আর্টিকেল নাইন্টিনের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুক ফয়সাল বলেন, এখন যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে- আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে, সেটা দুর্ভাগ্যজনক। আইন সবার জন্য সমান এবং কোনো ব্যক্তি বিশেষ কিংবা গোষ্ঠীর জন্য তা পৃথকভাবে প্রয়োগ হতে পারে না। আবার কেউ কোনো আইনকে হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে কোনো 'হুইসেলব্লোয়ার' (তথ্য ফাঁসকারীর সুরক্ষা) আইন নেই। এর ফলে সরকারি কর্মকর্তা এবং ক্ষমতাধররা কোনো অপরাধ করলে তার প্রতিকার চাওয়ার ব্যবস্থাও কার্যত নেই। অতএব হুইসেলব্লোয়ার আইন হওয়া দরকার। আমি মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও নির্ভয়ে অন্যায়ের প্রতিকার চাইতে পারব, অভিযোগ করতে পারব, সেই অধিকার যখন পাব, তখনই আমি সত্যিকারের স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে বিবেচনা করতে পারব।
- বিষয় :
- ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন