ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইপিওতে এলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক বীমা কোম্পানির জন্য শর্ত

আইপিওতে এলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক বীমা কোম্পানির জন্য শর্ত
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২২ | ২৩:৫২

শেয়ারবাজারের বাইরে থাকা বীমা খাতের ২৬ কোম্পানিকে তাদের মূলধনের কমপক্ষে ২০ শতাংশ বিনিয়োগের শর্ত পূরণে বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহায়তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গতকাল মঙ্গলবার সংস্থার পক্ষ থেকে বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বীমা কোম্পানির লাইসেন্সের শর্ত হিসেবে ব্যবসা কার্যক্রম শুরুর তিন বছরের মধ্যে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার আইনি বিধান পরিপালন করাও বাধ্যতামূলক। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে কমপক্ষে ৩০ কোটি টাকা মূলধন থাকতে হয়।

বর্তমানে অ-তালিকাভুক্ত ২৬ বীমা কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকার কম। বেশিরভাগের পরিশোধিত মূলধন এখনও ২০ কোটি টাকার নিচে। তাই নূ্যনতম পরিশোধিত মূলধন থাকার এ শর্ত পরিপালন থেকে অব্যাহতি দিয়ে গত বছরের ৫ জানুয়ারি নির্দেশনা জারি করে বিএসইসি। একই সঙ্গে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অধ্যাদেশ ১৯৬৯ এর ২সিসি ধারার ক্ষমতা বলে তালিকাভুক্ত হতে চাইলে মূলধনের ২০ শতাংশ তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম আইডিআরএ চেয়ারম্যানকে পাঠানো চিঠিতে এ বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, অ-তালিকাভুক্ত ২৬ বীমা কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চাইলে মূলধনের অন্তত ২০ শতাংশ বাধ্যতামূলক বিনিয়োগের শর্ত রয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, কেউই আইপিওতে আসার কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেনকে লেখা চিঠিতে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে মূলত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আধিক্য বেশি। মোট বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৮০ শতাংশই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। তবে শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের জন্য বিনিয়োগে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের প্রাধান্য থাকা উচিত। এ অবস্থায় বীমা কোম্পানিগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ নিয়ে এ বাজারের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা উচিত। চিঠিতে আইডিআরএ চেয়ারম্যানকে ২৬ বীমা কোম্পানি যাতে আইপিও আবেদন করে এবং তারা নিজ নিজ মূলধনের কমপক্ষে ২০ শতাংশ বিনিয়োগ করে, তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

বীমা কোম্পানিকে আইপিওতে আসতে বাধ্যতামূলক বিনিয়োগের শর্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি দিতে পারে কিনা, জানতে চাইলে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে বা বিনিয়োগ প্রত্যাহার করতে কেউ কাউকে বাধ্য করতে পারে না। আইপিওতে আসার শর্ত হিসেবে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করার শর্ত দেওয়া কোনোভাবেই ঠিক নয়। শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাবেক প্রধান আরও বলেন, ১৯৬৯ সালের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অধ্যাদেশ ২সিসি ধারায় শেয়ার ইস্যুর ক্ষেত্রে কোনো কোম্পানির ওপর বিশেষ শর্ত আরোপের শর্ত ক্ষমতা দেওয়া আছে। তবে এ শর্ত কেবল সংশ্নিষ্ট কোম্পানির সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে হতে হবে। শর্ত এমন হতে হবে যে, কোম্পানি সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে মূলধন সুরক্ষিত রাখে। শেয়ারবাজারে আসার আগেই শেয়ারবাজারে বাধ্যতামূলক বিনিয়োগের শর্ত কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। এ বিনিয়োগে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা কীভাবে হবে তা বোধগম্য নয়।
শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অনারারি অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর যে চেষ্টা বিএসইসি করছে, তা ঠিক আছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের এ বাজারে কাউকে বাধ্যতামূলক বিনিয়োগের শর্ত দেওয়া ঠিক নয়। এখানে বিনিয়োগে লোকসান হলে তার দায় কে নেবে- প্রশ্ন রাখেন তিনি।

জানতে চাইলে তালিকাভুক্ত বীমা কোম্পানি ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিব শঙ্কর সাহা সমকালকে বলেন, আইপিওতে আসতে এ ধরনের শর্ত আরোপ করা ঠিক নয়। আরও বিনিয়োগ বাড়িয়ে শেয়ারবাজারকে চাঙ্গা করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হয়তো এ শর্ত দিয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুন

×