ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কায়েমি স্বার্থের কারণে বড় চ্যালেঞ্জে সুশাসন

কায়েমি স্বার্থের কারণে বড় চ্যালেঞ্জে সুশাসন
×

সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১১:২৪

সংস্কার পদক্ষেপের মাধ্যমে অর্থনীতিতে ‍সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সহজ কাজ হবে না। কেননা কায়েমি স্বার্থগোষ্ঠী শক্তিশালী এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাছে জিম্মি। কেবল নিঃস্বার্থ এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব অর্থনীতিকে সংকট থেকে উদ্ধার করতে পারে। অর্থনীতি এখন অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, এমনকি নির্বাচনের পরেও নয়।

নীতিনির্ধারকদের প্রধান কাজ হওয়া উচিত বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা। গতকাল শনিবার ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২৩-২৪ : চলমান সংকট ও করণীয়’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এমন মত দিয়েছে।

সিপিডির প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা খেয়ে ফেলছে। বাজার কারসাজি আর সিন্ডিকেট এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। অর্থনীতি এখন বহুবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে এবং সত্যিকার অর্থে একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একমাত্র আশা, নীতিনির্ধারকরা এটি বুঝবেন এবং স্বীকার করবেন যে, গতানুগতিক পন্থায় কাজ হবে না। বড় ধরনের সংস্কারে যেতে হবে। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ এ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মূলত করোনা মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমদানি মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করে। তবে অন্য দেশ সময়মতো দক্ষ নীতি গ্রহণ করে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও বাংলাদেশ পারেনি। একই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কমলেও বাংলাদেশে সে তুলনায় কমেনি। অনেক দেরিতে হলেও নীতি সুদহার বাড়ানোসহ সরকার ব্যয়সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এসব উদ্যোগ কাজে আসছে না।

প্রতিবেদনে ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে গত ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত কিছু নিত্যপণ্যের দামের তুলনামূলক পর্যালোচনা করে বলা হয়, এসব পণ্যের দাম ৯ থেকে ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চাল, আটা, ভোজ্যতেল, ডাল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, লবণ, চিনি, মাছ, মাংস ইত্যাদি। দর বৃদ্ধি রোধে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি তৈরি পোশাকসহ সব খাতে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি যৌক্তিকভাবে বাড়ানো এবং দরিদ্র জনগণের মধ্যে নগদ সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ করে সিপিডি।

সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ফাহমিদা খাতুন বলেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এখন বড় চাপের মুখে পড়েছে। অতীতে অর্থনীতিতে এমন চাপ কখনও তৈরি হয়নি। রাজনৈতিক নেতৃত্বের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। এ জন্য বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার দরকার। বর্তমানে জিডিপি প্রবৃদ্ধির পেছনে না ছুটে বাস্তবতার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির পাশাপাশি সরকারকে আরও ব্যয়সাশ্রয়ী হতে হবে।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশে বৈষম্য আরও প্রকট হচ্ছে। এতে আমরা আবারও এক দেশে দুই অর্থনীতির পথে চলে যাচ্ছি। অথচ দুই অর্থনীতির বিরুদ্ধেই বঙ্গবন্ধু লড়াই-সংগ্রাম করে গেছেন; যার হাত ধরে দেশের স্বাধীনতা এসেছে। তবে এখন সম্পদের বণ্টন ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে আবারও দুই সমাজ বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠছে। এ ব্যবস্থা রোধ করতে হলে সম্পদ বণ্টনের ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের পুরোটাই চলে যায় রাজস্ব ব্যয়ে। বার্ষিক উন্নয়নের পুরোটাই হয় ঋণনির্ভর। এমন পরিস্থিতিতে ঋণ দায় পরিশোধে আবার বিদেশি ঋণ গ্রহণ করতে হয়। এটিকে বলা হয় ঋণফাঁদ। এ রকম দেশ খুব কম রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক দেশ নিম্ন আয় থেকে নিম্ন-মধ্য আয় কিংবা নিম্ন-মধ্যম থেকে উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশের উন্নীত হয়েছে। তবে তারা এ ধরনের ঋণ ফাঁদে পড়ে যাওয়ায় আর উন্নতি করতে পারেনি। যেভাবেই হোক বাংলাদেশকে এ ফাঁদ কাটিয়ে উঠতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ঋণ জিডিপির অনুপাত এখনও খুব খারাপ অবস্থায় যায়নি। তবে ইতোমধ্যে নেওয়া ঋণ থেকে সুদসহ আগামীতে প্রতিবছর আমাদের পাঁচ থেকে ছয় বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে। আমদানির পাশাপাশি এ ঋণ পরিশোধে রিজার্ভের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। 

১৫ বছরে ব্যাংক থেকে ৯২ হাজার কোটি টাকা লুট

প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকিং খাত দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছে। এ খাত ব্যবহার হচ্ছে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থে। ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৪টি ঋণ কেলেঙ্কারির মাধ্যমে ব্যাংকিং খাত থেকে ৯২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে সিপিডি এ হিসাব করেছে।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ব্যাংকিং খাত বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত পুঁজিবাদের (ক্রনি ক্যাপিটালিজম) দখলে চলে গেছে। এ ধরনের পুঁজিবাদীরা তাদের আর্থিক অভিজাততন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ব্যাংকিং খাতকে ব্যবহার করছে। তবে ব্যাংকে টাকা রাখে সাধারণ মানুষ। তাই এ সম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংককে শক্তিশালী করতে অস্থায়ী ভিত্তিতে ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মকানুনের অভাব নেই। তবে এখন যারা অনিয়ম করে ঋণ নিচ্ছে, তারাই আবার বাংলাদেশ ব্যাংকে নীতিমালা করার জন্য চাপ দেয়। এ জন্য শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সাল শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪২ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা। ১০ বছরে তা প্রায় চার গুণ বেড়ে ২০২৩ সালে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ ছাড়া ঋণ পুনঃতপশিল, মামলার কারণে খেলাপি দেখাতে না পারা ও অবলোপন করা খেলাপি ঋণের তথ্য যোগ করলে এটি আরও বাড়বে। তারল্য সংকটের কারণ তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের তারল্য সংকটের প্রভাবে পুরো ব্যাংক খাতে সংকট দেখা দিয়েছে। মালিকানা বদলের পর এসব ব্যাংকের সুশাসন ব্যবস্থা দুর্বল হয়েছে।

ব্যাংক থেকে যে অর্থ লুট করা হয়েছে, তার কতটুকু অর্থনীতিতে যুক্ত হয়েছে আর কতটুকু পাচার হয়েছে– এমন প্রশ্নের জবাবে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক এসব বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশও করে না। তবে ধারণা করা যায়, এ অর্থের একটি অংশ পাচার হয়েছে। কিছু অংশ হয়তো অর্থনীতিতে যুক্ত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ পাচারের কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রাক্কলনে উঠে এসেছে, দেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় সাত থেকে আট বিলিয়ন ডলার পাচার হয়। সুতরাং এ তথ্য থেকে বুঝে নেওয়া যায়, ৯২ হাজার কোটি টাকা কোথায় গেছে।

রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয়

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি সরকার। তাই এ অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৫৫ হাজার কোটি টাকা কমিয়েছে সংস্থাটি। তবে বর্তমান রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি অনুযায়ী এ লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন সম্ভব হবে না। এদিকে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে নানা রকম উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সম্পদ কর এবং ডিজিটাল ইকোনমি করের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

বিনিময় হারে ভুল নীতিতে রিজার্ভে বাড়তি চাপ

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাড়তি আমদানি ব্যয় পরিশোধের পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হারে ভুল নীতির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ তৈরি হয়েছে, যা সামষ্টিক অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। তবে দেরিতে হলেও আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির শর্ত পূরণ করতে গিয়ে নতুন পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ঘোষণা করা হচ্ছে। ফলে জনগণ কিছুটা হলেও প্রকৃত চিত্র পাচ্ছে। 
রেমিট্যান্স প্রসঙ্গে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে যে পরিমাণ লোক দেশের বাইরে যাচ্ছে, সে তুলনায় রেমিট্যান্স আসছে না। তাই এসব ক্ষেত্রে হুন্ডি হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার অবকাশ রয়েছে। তা ছাড়া দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ব্যাংক বিনিময় হার কৃত্রিমভাবে ধরে রেখেছিল। দেরিতে হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকও একক বিনিময় হারের দিকে যাওয়া চেষ্টা করছে। বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দিলে রেমিট্যান্সের পাশাপাশি রপ্তানি আয়ও বাড়বে। 

রপ্তানি আয়ের তথ্যে অসংগতি খতিয়ে দেখা উচিত 

প্রতিবেদনে বলা হয়, রপ্তানি আয় নিয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের ফারাক ২০২৩ সালে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। ২০১৫ সালে যা ছিল ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এতে আরও বলা হয়, ইপিবির তথ্য অনুযায়ী এই অর্থবছরের প্রথম চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩ শতাংশের বেশি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি তথ্য বলছে, বাংলাদেশ থেকে তাদের পোশাক আমদানি কমেছে প্রায় ২২ শতাংশ। একইভাবে ইইউতেও রপ্তানি ৩ শতাংশ বাড়ার কথা বলা হলেও ইইউএর আমদানি তথ্য অনুযায়ী তা কমেছে ২৯ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকারকে বিষয়টিতে আরও গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করতে হবে। রপ্তানিকারকদের অনেকে যথাসময়ে ডলার দেশে আনছেন না। পরে ডলারের দাম আরও বাড়বে এমন ধারণা থেকেই কি আনা হচ্ছে না, নাকি দেশ থেকে অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে– তা খতিয়ে দেখা উচিত। 

শ্রম ইস্যুতে বিধিনিষেধের শঙ্কা দূর করতে হবে

শ্রম ইস্যুতে বাংলাদেশের অনেক জায়গায় অগ্রগতি হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে– প্রতিবেদনে উল্লেখ করে বলা হয়, এগুলো পূরণ করা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। কিছুদিন আগে পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি নিয়ে সহিংসতার পরপরই বিভিন্ন দেশ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের দুটি বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সারাবিশ্বে শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে গত ১৬ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্র একটি মেমোরেন্ডাম স্বাক্ষর করছে। গত নভেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পার্লামেন্টও আইন পাস করেছে। এতে করে ইইউর বাজারে বাংলাদেশ যে জিএসপি সুবিধা পায়, সে ক্ষেত্রেও অনেক কমপ্লায়েন্স আনা হয়েছে। এর মধ্যে শ্রম অধিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ন্যূনতম মজুরি নিয়ে আন্দোলন, সহিংসতা, প্রাণহানি, শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আগামীতে এসব বন্ধ করে বিষয়গুলো অহিংসভাবে মেটানোর উদ্যোগ নিতে হবে। উদ্বেগ আমলে নিয়ে আমাদের শ্রম পরিবেশের উন্নয়ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। শ্রমিক ইস্যুতে অন্তত ১২টি বড় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার দরকার। তিনি আরও বলেন, অর্থনীতির চার খাতের মধ্যে ব্যাংক খাত বৈকল্য দশায় পড়েছে। মূল্যস্ফীতির পাগলা ঘোড়ার ছুটে চলা অব্যাহত রয়েছে। বহিঃখাত পঙ্গুত্বের ভেতরে পড়ছে। শ্রম খাতে অন্ধত্ব বা স্থবিরতা বিরাজ করছে।

আরও পড়ুন

×