ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৪ মার্চ নয়াদিল্লিতে সচিব পর্যায়ের বৈঠক

ভারতে অব্যাহত শুল্কমুক্ত সুবিধা চায় বাংলাদেশ

ভারতে অব্যাহত শুল্কমুক্ত সুবিধা চায় বাংলাদেশ
×

ফাইল ছবি

শেখ আবদুল্লাহ

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ১৩:৩৬

স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে বের হওয়ার পর ভারতের বাজারে পণ্যের শুল্ক্কমুক্ত প্রবেশ সুবিধা অব্যাহত রাখতে চায় বাংলাদেশ। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ। নয়াদিল্লিতে ৪ মার্চ অনুষ্ঠেয় দুই দেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকে নতুন এজেন্ডা হিসেবে যা অন্তর্ভুক্ত করেছে বাংলাদেশ। এর আগে ২ ও ৩ মার্চ সেখানে দুই দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা হবে।

২০২৬ সালে এলডিসি শ্রেণি থেকে বাংলাদেশের বের হওয়ার কথা রয়েছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও যাতে ১২ বছর পর্যন্ত অগ্রাধিকার বাণিজ্য সুবিধা পায়, সে জন্য ডব্লিউটিওতে প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ; যা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। আগামী জুনে জেনেভায় অনুষ্ঠেয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নূর মো. মাহবুবুল হক সমকালকে বলেন, এলডিসি হিসেবে সাউথ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড এরিয়া বা সাফটা চুক্তির আওতায় ভারতের বাজারে বাংলাদেশ ২৫টি পণ্য বাদে সব পণ্যে শুল্ক্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পেয়ে থাকে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পরও যাতে এ সুবিধা অব্যাহত থাকে, বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকে সে প্রস্তাব তোলা হবে। ভারতের পক্ষ থেকে কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরের এজেন্ডা রাখা হচ্ছে। কিন্তু এটি একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক চুক্তি, যাতে উভয় পক্ষই লাভবান হবে। এর বাইরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য যেভাবে এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে থাকে, ভারতের কাছ থেকেও একইভাবে সুবিধা চাওয়া হবে।

সূত্র জানায়, এবারের সচিব পর্যায়ের সভায় ২০২০ সালে ভারতের জারি করা নতুন শুল্ক্ক আইনের কারণে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে সমাধান চাইবে বাংলাদেশ। ভারতের ওপর দিয়ে নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির বিষয়ে গুরুত্ব দেবে। তবে এ বিষয়ে ৮ মার্চ অনুষ্ঠেয় বিবিআইএনের বৈঠকে আরও বিস্তারিত আলোচনা করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া বাংলাদেশি পাটপণ্য ও ফ্লোট গ্লাসে ভারতের আরোপ করা অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক্ক প্রত্যাহার চাইবে বাংলাদেশ।

২০২০ সালে নতুন কাস্টমস রুলস জারি করেছে ভারত, যার আওতায় সে দেশের কাস্টমস কর্মকর্তারা রুলস অব অরিজিন, মূল্য সংযোজনসহ রপ্তানিকারকদের কাছে বিভিন্ন ধরনের তথ্য চাইতে পারে। ভারতের এ নিয়মকে সাফটা চুক্তির বিরোধী উল্লেখ করে গত বছর ঢাকায় সচিব পর্যায়ের বৈঠকে তা কার্যকর না করতে অনুরোধ করেছিল ঢাকা।

এদিকে, করোনার সময় ভারত থেকে ট্রেনে পণ্য ও কাঁচামাল আমদানি শুরু হয়েছে। পণ্য বাংলাদেশে খালাস করার পর কনটেইনারগুলো ভারতে খালি ফেরত যায়। সেগুলোতে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। তবে এ জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হয়। অনুমোদন ছাড়াই যাতে খালি কনটেইনারে ভারতে পণ্য রপ্তানি করতে পারে, সে প্রস্তাব করবে বাংলাদেশ।

মাহবুবুল হক আরও বলেন, ভারতের নতুন কাস্টমস নিয়মের কারণে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের পণ্য রপ্তানিতে সমস্যা হচ্ছে। অনেক রপ্তানিকারক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে তা জানিয়েছেন। ভারতের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রপ্তানিকারকের কাছে বিভিন্ন ধরনের নথিপত্র চাচ্ছে, যা সরবরাহ করা সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ। এতে ভারতে রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এ সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সিরাজগঞ্জে আইসিডি স্থাপন করতে চায় ভারত :ঢাকায় ভারতের হাইকমিশন জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ ও সচিব পর্যায়ের সভায় ভারতের এজেন্ডাগুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এতে পণ্য-বাণিজ্যে রেল কনটেইনার সেবার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় ভারতের হাইকমিশন বলেছে, দুই দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে ২০২০ সালের জুলাই থেকে কনটেইনার ট্রেন সার্ভিস চলাচল করলেও বাংলাদেশে অবকাঠামোগত সংকটের কারণে তা বাড়ছে না। হাইকমিশন জানিয়েছে, ভারত বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জে একটি কনটেইনার হ্যান্ডলিং কেন্দ্র স্থাপন করতে আগ্রহী। যেখান থেকে আমদানি-রপ্তানির সব কনটেইনার ব্যবস্থাপনা করা হবে।

আরও পড়ুন

×