ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বব্যাংকের সূচক

অর্থনৈতিক অধিকারে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশের নারীরা

অর্থনৈতিক অধিকারে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশের নারীরা
×

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ০২ মার্চ ২০২২ | ২৩:৩৪

পৃথিবীর যেসব দেশে পুরুষের তুলনায় নারীর অর্থনৈতিক সুযোগ কম, বাংলাদেশ তার অন্যতম। বিভিন্ন আইনি বাধা এবং আইন না থাকা এর কারণ। বিশ্বের ১৯০টি দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত বিশ্বব্যাংকের এক সূচকে বাংলাদেশের স্কোর একেবারেই পেছনের দিকে। বাংলাদেশের স্কোর ১০০ এর মধ্যে মাত্র ৪৯ দশমিক ৪ এবং দেশগুলোর মধ্যে অবস্থান ১৭৩তম। আফগানিস্তান বাদে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের চেয়ে পিছিয়ে। বৈশ্বিক এবং দক্ষিণ এশিয়ার গড় স্কোরের চেয়েও বাংলাদেশ পিছিয়ে। বুধবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের 'নারী, ব্যবসা এবং আইন-২০২২' শিরোনামের রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে।

রিপোর্টের তথ্য বলছে, নারীর অর্থনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক গড় চিত্রও বড় ধরনের বৈষম্যমূলক। প্রায় ২৪০ কোটি কর্মক্ষম নারীর পুরুষের সমান অধিকার নেই। ১৭৮টি দেশে অর্থনীতিতে নারীর পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণের পথে আইনি বাধা রয়েছে। ৮৬টি দেশে নারীর কর্মসংস্থানে আইনি বাধা রয়েছে। ৯৫টি দেশ একই কাজের জন্য নারীকে সমান মজুরির নিশ্চয়তা দেয় না।

মোট আটটি নির্দেশকের ওপর ৩৫টি প্রশ্নের ভিত্তিতে এ বিষয়ে স্কোর নির্ণয় করা হয়েছে। এগুলো হলো- চলাচলের অধিকার, কর্মক্ষেত্র, মজুরি, বিয়ে, মাতৃত্ব/পিতৃত্ব, উদ্যোগ, সম্পত্তি এবং পেনশন। শুধু গতিশীলতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ১০০। যার কারণ এ ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ-সূচক। এসব প্রশ্নের মধ্যে রয়েছে- বাস করার জায়গা নির্ধারণ, বাড়ির বাইরে যাওয়া, পাসপোর্ট পাওয়া এবং দেশের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে নারীর কোনো আইনি বাধা নেই।
মজুরি বা বেতন এবং পেনশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর মাত্র ২৫। এখানকার নারীরা একই কাজের জন্য পুরুষের সমান মজুরি পাওয়ার আইন নেই। শ্রম আইনে নারীদের পুরুষের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগে বিধিনিষেধ আছে। অন্যান্য ক্ষেত্রে স্কোর কম হওয়ার বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- বাবা বা মায়ের সম্পত্তিতে পুরুষের সমান অধিকার নেই, ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসনে কোনো আইন নেই ইত্যাদি।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত (জরিপের জন্য বিবেচ্য সময়) বাংলাদেশে এসব বিষয়ে কোনো সংস্কার হয়নি। রিপোর্টে মাতৃত্বকালীন ছুটির শতভাগ সুবিধা দেওয়া, পুরো বেতনসহ পিতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া এবং গর্ভবতী নারীদের চাকরিচ্যুত না করার বিধানের সুপারিশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সন্তান লালন-পালনের জন্য কর্মস্থলে নারীর অনুপস্থিতির সময়কাল পেনশন সুবিধার সঙ্গে যোগ হয় না। আইনি বাধার কারণে নারীরা চাকরি শেষে পুরুষের চেয়ে কম পেনশন পাচ্ছেন। বাংলাদেশের এসব ক্ষেত্রে সংস্কার করা উচিত।

আরও পড়ুন

×