ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন

ব্যাংক শাখায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি না করার সত্যতা মেলেনি

ব্যাংক শাখায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি না করার সত্যতা মেলেনি
×

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ১০:৩৮

ব্যাংক শাখায় গিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনতে ভোগান্তির অভিযোগের পর আকস্মিক পরিদর্শনে নেমেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একাধিক টিম গঠন করে গতকাল রোববার ও আজ সোমবার সরেজমিন বিভিন্ন ব্যাংক শাখায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথম দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছে ছোটখাটো কিছু অসংগতি ধরা পড়লেও সঞ্চয়পত্র বিক্রি না করার সত্যতা মেলেনি বলে জানা গেছে।

ব্যাংক শাখা সঞ্চয়পত্র বিক্রি করছে না সামাজিক মাধ্যমে, এমন অভিযোগের পর গত ২৪ জুন সব ব্যাংক শাখায় সেবা অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ পেলে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এমডিদের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সরেজমিন তথ্য যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের কাছে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করতে বাধ্য। সম্প্রতি কিছু ব্যাংক এ ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করছে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে সেবা দিতে নির্দেশনার পাশাপাশি প্রকৃত ঘটনা জানতে ২৮ ও ২৯ জুন ৪০টি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় পরিচয় গোপন রেখে আকস্মিক পরিদর্শন করা হচ্ছে।

জানা গেছে, গতকাল পরিদর্শনের প্রথম দিন পঞ্চম প্রজন্মের একটি ব্যাংক সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে না বলে তথ্য পায় পরিদর্শক দল। তথ্য যাচাই শেষে দেখা যায়, বর্তমানে সঞ্চয়পত্র বিক্রির জন্য অনলাইনে একটি আইডি নিতে হয়। এ বিষয়ে ব্যাংকটি বেশ আগে আবেদন করলেও এখনও আইডি পায়নি। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে রাষ্ট্রীয় মালিকানার একটি শাখা সার্ভার ডাউনের কারণে বিক্রি করতে পারছে না বলে জানায়। এর বাইরে বড় কোনো অসংগতি পাওয়া যায়নি। আজ দ্বিতীয় দিন আরও কিছু শাখা পরিদর্শন করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, সমস্যাগ্রস্ত কয়েকটি ব্যাংকসহ মোট ২১টি বর্তমানে সঞ্চয়পত্র সেবা দিচ্ছে না। এর মধ্যে ৯টি বিদেশি মালিকানার। আর আর্থিক সংকটের কারণে বাকি ১২টি ব্যাংকে টাকা ঢুকলেও দেওয়ার মতো অবস্থা না থাকায় সেবা বন্ধ রয়েছে। গ্রাহকদের কেউ কেউ হয়তো এসব ব্যাংকে সেবা না পেয়ে অভিযোগ করেছেন।

অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের আওতায় বর্তমানে পরিবার, পেনশনার, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক ও পাঁচ বছর মেয়াদি এই চার ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের শাখা অফিস, দেশের সব ব্যাংক শাখা ও ডাকঘর থেকে সঞ্চয়পত্র কেনা ও নগদায়ন করা যায়। চার বছর ধরে সঞ্চয়পত্রে বিক্রির তুলনায় বেশি ভাঙানোর কারণে টানা এখান থেকে ঋণ পাচ্ছে না সরকার। যে কারণে এক সময়ের জনপ্রিয় এ উপাদান থেকে ঋণ নেওয়ার চেয়ে বেশি পরিশোধ করতে হচ্ছে সরকারকে।

অবশ্য বাজেট মেলাতে প্রতিবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণের একটি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় আগামী অর্থবছরের সঞ্চয়পত্র থেকে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। চলতি অর্থবছর সংশোধিত বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়। যদিও গত মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে সঞ্চয়পত্রে নিট ঋণ কমেছে দুই হাজার ৬৯০ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিট ঋণ কমেছিল ছয় হাজার ৬৩ কোটি টাকা। তার আগের অর্থবছর কম ছিল ২১ হাজার ১২৪ কোটি এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে তিন হাজার ২৯৫ কোটি টাকা কমেছিলো। সব মিলিয়ে গত মার্চ শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ স্থিতি কমে তিন লাখ ৩৯ হাজার ৮০৪ কোটি টাকায় নেমেছে।

আরও পড়ুন

×