ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে দরিদ্র চিহ্নিত করতে এআই আশানুরূপ ফল দিচ্ছে না

বাংলাদেশে দরিদ্র চিহ্নিত করতে  এআই আশানুরূপ ফল দিচ্ছে না
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২২

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের সুফল পাওয়া গেলেও দরিদ্র মানুষকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি এখনও আশানুরূপ ফল দিতে পারছে না। বিশ্বব্যাংকের এবারের বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এমন পর্যবেক্ষণ রয়েছে। ২০২৬ সালের প্রতিবেদনের বিষয়– কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিশ্রুতি। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে গত ৪ আগস্ট ওয়াশিংটন থেকে। 
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে– বাংলাদেশে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট (এআই) ব্যবহার করে প্রতিদিন ডায়াবেটিসজনিত চোখের সমস্যা বা ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি স্ক্রিনিং করার হার প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। তবে নগদ অর্থ সহায়তার জন্য সবচেয়ে দরিদ্র পরিবার খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের ডেটাভিত্তিক ‘এআই অ্যালগরিদম’ প্রথাগত জরিপ পদ্ধতির তুলনায় কম নির্ভুল ফলাফল দিচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এআই-ভিত্তিক পদ্ধতি প্রথাগত দরিদ্র পরিবার চিহ্নিত করায় পদ্ধতির চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি ভুল করেছে।

প্রতিবেদনটি  নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ৬৮০ কোটি মানুষের জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব এবং সম্ভাবনা মূল্যায়ন করেছে। এআইকে একটি সাধারণ ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলো কীভাবে এআই ব্যবহার করে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বাধা দূর করতে পারে তা তুলে ধরা এ প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে এক ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে। এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা বাষ্পীয় ইঞ্জিন বা বিদ্যুতের তুলনায় অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। যেখানে বাষ্পীয় ইঞ্জিন নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে পৌঁছাতে ৮০ বছর সময় নিয়েছিল, সেখানে চ্যাটজিপিটি চালুর মাত্র ছয় মাসের মধ্যে এর ট্রাফিকের অর্ধেকই ছিল মধ্যম আয়ের দেশগুলো থেকে।
প্রতিবেদনটি অবশ্য সতর্ক করেছে, উপযুক্ত পরিকাঠামো এবং ডিজিটাল দক্ষতার অভাব থাকলে এআইর সুফল সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছাবে না। এ সংকট কাটাতে  ‘স্মল এআই’ ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা কম বিদ্যুৎ ও দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগেও কাজ করতে সক্ষম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় এআই নীতিমালার খসড়া তৈরি করছে এবং ডিজিটাল সেবা প্রদানের শক্তিশালী কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এআই ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে। তবে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার গ্রহণের ক্ষেত্রে উচ্চ নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যয় বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে যেখানে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা ব্যয়বহুল, সেখানে স্টারলিংকের মতো স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কাউন্সিল অব ইউরোপের এআই কনভেনশন অনুসমর্থন করার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। 
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোশাক শিল্পে স্বয়ংক্রিয় কাটিং এবং সেলাইয়ের সরঞ্জাম কয়েক দশক ধরে ব্যবহার হলেও বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া এবং ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো এগুলো খুব কমই ব্যবহার করে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এটি কোনো প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা নয়, বরং স্থানীয় শ্রমের মজুরি প্রযুক্তির খরচের তুলনায় অনেক কম। এ কারণে এআই বা স্বয়ংক্রিয় সরঞ্জাম গ্রহণ করা এখানকার উদ্যোক্তারা এখনও লাভজনক মনে করেন না। 
প্রতিবেদনটিতে দক্ষিণ এশিয়ায় এআইর প্রভাবে কর্মসংস্থানের ধরনে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বহুজাতিক কোম্পানি এবং বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত ফার্মগুলোতে চ্যাটজিপিটি চালুর পর নিয়োগের হার ১ দশমিক ৬০ শতাংশ কমেছে। এআই ব্যবহারে স্থানীয় প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ– ভিয়েতনামে যুক্তরাজ্যের ডেটা দিয়ে তৈরি এআই টুল ব্যবহার করায় রোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এর নির্ভুলতা ব্যাপককভাবে কমেছিল। 

আরও পড়ুন

×