গানের মালিকানা নিয়ে বিতর্ক আগেও ছিল, কিন্তু সাম্প্র্রতিক সময়ে তা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। দেশীয় কপিরাইট নীতিমালা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাই সবার আগে জেনে নেওয়া যাক কীভাবে একটি গানের কপিরাইট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এ বিষয়ে কপিরাইট রেজিস্ট্রার জাফর রেজা চৌধুরী জানান, কেউ যদি তার সৃষ্টিকর্ম হতে পারে তা গান, বই, সফটওয়্যার বা চলচ্চিত্র সংগীত- তা কপিরাইট করতে চাইলে জাতীয় পরিচয়পত্র, দুই কপি ছবি এবং সৃষ্টিকর্মের অনুলিপি জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে। পাশাপাশি নিজের সৃষ্টিকর্ম নিয়ে দিতে হবে একটি অঙ্গীকারনামা। যেখানে উল্লেখ আছে, সৃষ্টিকর্ম নিয়ে কোনো মিথ্যাচার প্রমাণিত হলে ৮৯ ধারায় দুই বছরের জেল অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।

এ ছাড়া স্বত্বাধিকারীর অনুমতি ছাড়া গান প্রকাশ করলে তা কপিরাইট আইনের ৭১ ধারা লঙ্ঘন হবে। এই ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কপিরাইট আইনের ৮২ ধারায় ছয় মাস থেকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার থেকে চার লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এই অঙ্গীকারনামা মেনে কপিরাইটের জন্য আবেদন করতে হবে। এরপর ৩০ দিনে যদি তার সৃষ্টিকর্ম নিয়ে কোনো অভিযোগ না আসে তাহলে কপিরাইট সনদ প্রদান করা হয়। এখন প্রশ্ন হলো, কপিরাইট কে পাবে বা কার পাওয়া উচিত, তা খতিয়ে দেখার কোনো উপায় আছে কিনা? এর জবাবে জাফর রেজা চৌধুরী বলেন, দেখুন বিশ্বের অন্যান্য দেশে যে প্রক্রিয়ায় মেধাস্বত্ব প্রদান করা হয়, আমাদের প্রক্রিয়া তা থেকে খুব একটা আলাদা নয়।এখন বিষয় হলো, কেউ যদি একটি গান অন্য কোনো স্রষ্টার সৃষ্টি থেকে কিছু অংশ নিয়ে এবং নিজে কিছু অংশ লিখে তা নিজের নামে কপিরাইট করতে চান, তাহলে আমাদের পক্ষে তা যাচাই করে দেখা কঠিন। সাম্প্রতিক সময়ে 'সর্বত মঙ্গল রাধে' গানটি নিয়ে যে বিতর্ক তার কথাই বলি। আমাদের কাছে অগণিত পুঁথি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। এসবের প্রতিটি লাইন খুঁজে এই গানের কপিরাইট দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। তা ছাড়া সরলপুর যখন এই গানের কপিরাইটের জন্য আবেদন করে, তার ৩০ দিনের মধ্যে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। গানটি নতুন করে পার্থ বড়ূয়ার সংগীতায়োজনে মেহের আফরোজ শাওন ও চঞ্চল চৌধুরী গাওয়ার পর এবং আইপিডিসি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশের পর থেকে কপিরাইট নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।এখন আমরা দু'পক্ষের কাছে প্রমাণাদি চেয়েছি। এরপর তা পরখ করে একটি সমাধানে আসব। আমরা মনে করি, এর জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। দুই পক্ষ প্রমাণাদি নিয়ে সমাধানে আসতে পারে।

এখন প্রশ্ন হলো, বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার পর যদি সমাধান খুঁজতে হয়, তাহলে যার যার সৃষ্টিকর্মের কপিরাইট কতটা যুক্তিযুক্ত? এর জবাবে জাফর রেজা চৌধুরী বলেন, একজন স্রষ্টা তার সৃষ্টিকর্ম নিজের কপিরাইট করবেন, কারণ ভবিষ্যতে এটি তার নিজস্ব সম্পদ হিসেবে থেকে যায়। যখন কেউ যদি কোনো বই প্রকাশ করেন, তখন তা তার নিজের সম্পদ হয়ে যায়। কিন্তু তার বই থেকে কেউ যদি কোনো লাইন চুরি করে নিজের বলে দাবি করেন, তাহলে কপিরাইটের মাধ্যমে তার প্রমাণ করা যাবে। তার এই কথারও পরও কিছু সংশয় থেকে যায়, স্রষ্টারা তাদের গানের কপিরাইট না করলে, তার পরে অন্য কেউ নিজের বলে দাবি করবে কিনা তা নিয়ে। তারপরও জাফর রেজা চৌধুরী আশ্বাস দিয়েছেন, সাম্প্রতিক বিতর্কের পর তারা কাজের বিষয়ে আরও সজাগ হয়ে উঠেছেন। যখনই কোনো গান, উপন্যাস বা অন্যান্য সৃষ্টিকর্ম নিয়ে বিতর্ক উঠছে, তখনই তার প্রকৃত স্রষ্টা কে তা খুঁজে দেখার চেষ্টা করছেন। শুধু 'সর্বত মঙ্গল রাধে' গানটি নয়, এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া 'ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে'সহ আরও কিছু গান নিয়ে তারা অভিযোগ পেয়েছেন। যেজন্য গানের গীতিকার, সুরকার, শিল্পীসহ সংশ্নিষ্ট সবারই কপিরাইট সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলাদা করে কাজ শুরু করেছেন।

এবার আমরা আসি যে গান নিয়ে কপিরাইট বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তা নিয়ে। আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড দেশের মাটি ও মানুষের গান নিয়ে 'আইপিডিসি আমাদের গান' নামের একটি ধারাবাহিক গানের আয়োজন করছে। এ আয়োজনের তৃতীয় পরিবেশনা হিসেবে গত ২০ অক্টোবর রাধা আর কৃষ্ণের প্রথম দর্শনের অনুভূতি নিয়ে রচিত 'সর্বত মঙ্গল রাধে' গানটি নতুন করে উপস্থাপন করা হয়। যার সংগীতায়োজন করেছেন নন্দিত সংগীত পরিচালক পার্থ বড়ুয়া। গেয়েছেন মেহের আফরোজ শাওন ও চঞ্চল চৌধুরী। তাদের গাওয়া গানটি ইউটিউবে প্রকাশ পেতেই এর বিরুদ্ধে কপিরাইট আইনে অভিযোগ করেছে সরলপুর ব্যান্ড। তাদের দাবি, গানটি তাদের কপিরাইট করা। কোনো রকম অনুমতি না নিয়েই আইপিডিসি সেটি পরিবেশন করেছে। সরলপুর ব্যান্ডের অভিযোগের ভিত্তিতেই পরে ইউটিউব থেকে গানটি সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সরলপুর ব্যান্ড গানটি নিজেদের বলে দাবি করে কপিরাইটের প্রমাণপত্র দেখালেও এটি তাদের সম্পত্তি বলে মানতে নারাজ আইপিডিসি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সরলপুরের কপিরাইট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

লোকসংগীত গবেষক সায়মন জাকারিয়া এ নিয়ে কিছু প্রমাণ তুলে ধরার পাশাপাশি প্রচার মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তার কথায়, সরলপুর যে গানটি তাদের নিজেদের সৃষ্টি বলে দাবি করছে, সেটি তাদের পূর্ণাঙ্গ সৃষ্টি নয়। তার পাশাপাশি অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, রাধা-কৃষ্ণকে নিয়ে চিরায়ত কীর্তনের সুরে গাওয়া এই গান কী করে সরলপুরের হয়? চিরায়ত গানের তো কপিরাইট থাকার কথা নয়। অবশ্য এ প্রশ্নের জবাব দিতেও দেরি করেননি সরলপুর ব্যান্ডের সদস্যরা। তাদের কথায়, এই গানের মূল ভাব লোকসংগীত থেকে নিলেও তা নিজেদের মতো করেই লেখা। সুরে কীর্তনের ভাব থাকায় তা আলাদা করে কপিরাইট করেনি। কিন্তু সরলপুরের এই কথার সঙ্গে একমত নন কণ্ঠশিল্পী মেহের আফরোজ শাওন। তিনি বলেন, প্রচলিত গান কারও নিজস্ব সম্পত্তি হতে পারে না। এতদিন আমরা এটাই জেনে এসেছি। তাই সরলপুরের দাবি শুনে, আমরা অবাক না হয়ে পারিনি। আমাদের কণ্ঠে গাওয়া এই গান প্রকাশের পর যখন কপিরাইটের অভিযোগ উঠল, তখন নতুন করে আমি, পার্থ বড়ুয়া ও চঞ্চল চৌধুরী আবার গানটি নিয়ে রিসার্চ করি। আর তা করতে গিয়ে স্পষ্ট হলো, এই গান মৈমনসিংহ গীতিকার মহুয়া পালার। দ্বিজ কানাইয়ের গানই এদিক-ওদিক করে তৈরি করা। কিছুটা আশুতোষ ভট্টাচার্যের সংগৃহীত গানের কথা নেওয়া হয়েছে। এখন আমার প্রশ্ন হলো, বিভিন্ন জায়গা থেকে দুই লাইন, দুই লাইন করে জুড়ে দিয়ে তারা কিছু শব্দ এদিক-ওদিক করলেই কি তা মৌলিক গান হয়ে যায়? এমন সৃষ্টি কোনোভাবেই মৌলিক হতে পারে না। একই রকম কথা শোনা গেল গানের আরেক শিল্পী চঞ্চল চৌধুরীর মুখে। কিন্তু তাদের এ ধরনের বক্তব্যে একমত নন সরলপুর ব্যান্ডের সদস্যরা। ব্যান্ডের কণ্ঠশিল্পী মারজিয়া তুরিন কথা, আমরা কীর্তনের সুরে এই গান তৈরি করেছি। সেখানে আমাদের কিছু সংযোজনও রয়েছে। চিরায়ত সুরের কোনো কপিরাইট হয় না। ফলে সুরে আমাদের সংযোজন থাকলেও আমরা সুরের ওপর কপিরাইট নিইনি। আমরা কপিরাইট করেছি গীতিকথার। যার ভাবধারা আমরা নিয়েছি বিভিন্ন বই ও পালার ঘটনাগুলো থেকে। লোকজ তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করেই গান নিজেদের মতো করে লিখেছি। ভাবধারা বা গল্প ঠিক রাখার লক্ষ্যে সেসব বই বা পালা থেকে কিছু শব্দ নিলেও কপিরাইট করার সময় তা উল্লেখ করেছি। এসব বিষয় বিবেচনায় গানের গীতিকথার কপিরাইট আমাদের। কিন্তু আইপিডিসি যা করেছে তা সমর্থন করার মতো নয়। কারণ গানটি তারা হুবহু নকল করেছে। রাধা-কৃষ্ণ নিয়ে অসংখ্য গান বিভিন্ন সময় তৈরি হয়েছে। আমাদের সুর কিছুটা এদিক-ওদিক করে অনেকে গেয়েছেন। তার পরও আমরা কোনো অভিযোগ করিনি। কিন্তু যখন আমাদের গানটি হুবহু কপি করে গাওয়া হলো তখনই আমরা অভিযোগ করেছি।

এ নিয়ে সরলপুরের সদস্যরা আরও জানিয়েছেন, তারা এ পর্যন্ত আনীত সব অভিযোগ, এমনকি সাইমন জাকারিয়ার যুক্তিও খণ্ডন করে লিখিত প্রমাণপত্র কপিরাইট অফিসে তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠিয়েছেন। আশা করছেন শিগগিরই এর একটি সমাধান পাবেন। একই রকম প্রত্যাশা নিয়ে সংগীত পরিচালক পার্থ বড়ূয়াও গানের প্রমাণপত্রসহ কপিরাইট অফিসে অভিযোগ জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয় কপিরাইট অফিস থেকে কী খবর পাওয়া যায়।

কপিরাইট নিয়ে যখন এত জল ঘোলা হচ্ছে, তখন এ নিয়ে মুখ খুলেছেন কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক বাপ্পা মজুমদার। বলেছেন, যারা সৃষ্টিশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের সবারই উচিত তার সৃষ্টিগুলো কপিরাইট করে রাখা। এতে করে একে অন্যের সৃষ্টি নিয়ে ইচ্ছেমতো যা কিছু করার সুযোগ পাবে না। তার এই কথার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন সংগীতাঙ্গনের অনেকে। কারণ কপিরাইটের সঙ্গে রয়্যালটির বিষয়টি সমানভাবে জড়িয়ে আছে। যে কারণে বিভিন্ন সময় কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার, সুরকার ও মিউজিশিয়ানকে আন্দোলনও করতে দেখা গেছে। একবার নয়, একাধিকবার। দফায় দফায় হয়েছে গানের প্রকাশক ও অডিও-ভিডিও প্রযোজকের সঙ্গে গান ও অ্যালবামের সংশ্নিষ্টদের মতবিনিময়। কপিরাইট আইন ও রয়্যালটি বিষয়ে কথা-চালাচালির পাশাপাশি বাগ্‌বিতণ্ডাও কম হয়নি। কিন্তু এতকিছুর পর আজও কপিরাইট আইনের সুরাহা হয়নি- এমন দাবি দেশের অসংখ্য শিল্পী, গীতিকার, সুরকার ও মিউজিশিয়ানের। যেজন্য তাদের মুখে বঞ্চনার কথা শোনা যাচ্ছে বহু বছর ধরে।

বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের কথায়, কপিরাইট ও রয়্যালটির প্রক্রিয়া যদি সঠিকভাবে চলত থাকলে শিল্পী ও সংগীত স্রষ্টাদের হতাশায় ভুগতে হতো না। যারা আমাদের সংগীত নিয়ে টাকার পাহাড় গড়েছে, তারাই আমাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। যেজন্য অধিকার আদায়ে জোটবদ্ধ হয়ে আমাদের মাঠে নামতে হয়েছে। সংগীতাঙ্গনের সবাইকে এক ছাতার নিচে আসার আহ্বান জানাতে হয়েছে একাধিকবার। তাই আমি মনে করি, যার যার সৃষ্টি নিজস্ব বলে দাবি করার জন্য কপিরাইট প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হওয়া উচিত। সেইসঙ্গে রয়্যালটি পাওয়ার বিষয়েও একটা সঠিক নীতিমালা তোলা প্রয়োজন। শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশে এর কোনো বিকল্প আছে বলে মনে হয় না। তার এই কথার সঙ্গে অনেকেই একমত পোষণ করেছেন এবং চেয়েছেন কপিরাইটের সঠিক ও সহজ প্রক্রিয়া।


সর্বত মঙ্গল রাধে

কথা :তারিকুল ইসলাম তপন, সরলপুর


সর্বত মঙ্গল রাধে বিনোদিনী রাই

বৃন্দাবনের বংশীধারী ঠাকুর কানাই

একলা রাধে জল ভরিতে যমুনাতে যায় পেছন থেকে কৃষ্ণ তখন আরে আরে চায়

জলভর জলভর রাধে ও গোয়ালের ঝ্বি

কলস আমার পূর্ণ কর রাধে বিনোধি

কালোমানিক হাত পেতেছে

চাঁদ ধরিতে চায়

বামন কি আর হাত বাড়ালে

চাঁদের দেখা পায়

কালো কালো করিসনালো ওগোয়ালের ঝ্বি

আমায় বিধাতা করেছে কালো

আমি করব কি...

আমার মত সুন্দর রাধে যদি পেতে চাও

গলায় কলস বেঁধে যমুনাতে যাও

কোথায় পাব হাঁড়ি কলশি,

কোথায় পাব দড়ি

তুমি হও যমুনা রাধে আমি ডুবে মরি

সর্ব জয় মঙ্গল রাধে 

(বাংলার লোকসংগীত কোষগ্রন্থের ৫৭৫ পৃষ্ঠা নেপাল চন্দ্র দাসের 'কবিতা বাঁশিচুরি')

সর্ব জয় মঙ্গল রাধে বিনোদিনী রাই

বৃন্দাবন মন্দিরে গাইবো ঠাকুর কানাই

রাধে কুম্ভ কক্ষে জল ভরিতে যায়

ধীরে ধীরে চিকন কালা পিছে পিছে যায়

জলভর জলভর সখি বিরস কেন মন


বেজার কেন হব, কানাই বেজার কেন হব

ভালো মন্দ দুটি কথা কাছে কাছে বলিব

রমনী দেখে, কানাই, প্রাণ ধরিতে নাই

নিজ টাকা ভেঙে কানাই, বিবাহ না করো

বিয়ে করতে বলো, রাধে কোথায় পাব

আমার মত সুন্দর রাধে কানাই যদি চাও গলেতে কলসি বেঁধে যমুনাতে যাও

কোথায় পাব হাঁড়ি কলশি,

কোথায় পাব দরি

তুমি হও যমুনা জল আমি ডুবে মরি।