ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা ফোক ফেস্ট

সুফি গান মনে প্রশান্তি আনে

সুফি গান মনে প্রশান্তি আনে
×

রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ১৩:২১

'যে গানে আছে বুজুর্গদের কালাম, যার সুর আর গায়কিতে থাকে সৃষ্টিকর্তার বন্দনা; সেই সুফি গান ছাড়া অন্য কিছু গাওয়ার কথা ভাবতেই পারি না। রোহানি সংগীত পরিবারে বেড়ে উঠেছি। সে কারণেই যে শুধু সুফি গান গাই, তা নয়; অন্য ঘরানার গান গাওয়ারও চেষ্টা করেছি। কিন্তু শিল্পীজীবনের অভিজ্ঞতায় এটাই জেনেছি- সুফি গান মনে প্রশান্তি এনে দেয়; খুঁজে দেয় জীবনের অর্থ। তাই অন্য সব ঘরানার চেয়ে সুফি গান আমার কাছে মাহাত্ম্যপূর্ণ মনে হয়। গানে গানে শ্রোতাকে আনন্দ দেওয়া, সুফি কালাম সম্পর্কে জানানো ছাড়াও নিজ শিল্পীসত্তাকে খুশি করতে গান গেয়ে যাওয়া। এতে নিজেকে পরিপূর্ণ মনে হয়।'

সুফি গানের সঙ্গে শিল্পীজীবনের সখ্য গড়ে ওঠা নিয়ে সমকালকে এসব কথা বলেছেন পাকিস্তানের সাড়া জাগানো কণ্ঠশিল্পী হিনা নাসরুল্লাহ, সুফি গানের জন্য যার সুনাম দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে আছে। আজ তিনি রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত 'ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট ২০১৯'-এর দ্বিতীয় রজনীতে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন। উৎসবে অংশ নেওয়ার আগে ঢাকার একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় আলাপচারিতায় অংশ নেন তিনি। বলেন, 'বংশপরম্পরা কিংবা দেশীয় ঐতিহ্য ধরে রাখতে সুফি গানকে প্রাধান্য দিয়েছি- বিষয়টি এমন নয়। নিজেও সুফি গানের অনুরাগী ছিলাম বরাবর। সুফি গানের কী শক্তি লুকিয়ে আছে, তারই কিছু নমুনা আজ তুলে ধরতে চাই।'

এ সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো :

প্রশ্ন :'ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট ২০১৯'-এ প্রথম অংশ নিচ্ছেন। আগে কখনও এ উৎসব নিয়ে কোনো কিছু জানার সুযোগ হয়েছিল কি?

উত্তর :বাংলাদেশের লোকসংগীতের এই বর্ণাঢ্য উৎসবের কথা আগেই শুনেছি। শুধু তাই নয়, 'ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট'-এর ভিডিওতে পাকিস্তানের সাফকাত আমানতের পারফর্মও দেখেছি। এই উৎসব নিয়ে তাই শুরু থেকেই কৌতূহল ছিল। আর এখন তো প্রহর গুনছি মঞ্চে ওঠার।

প্রশ্ন :আজ ফোক ফেস্টের দর্শকের কাছে কী প্রত্যাশা করছেন?

উত্তর :দর্শক-শ্রোতা মুগ্ধ হয়ে পরিবেশনা শুনবেন- এটুকুই প্রত্যাশা আমাদের। আন্তর্জাতিক এ উৎসব সম্পর্কে অনেকেরই অনেক মতামত শুনেছি। প্রত্যেকেরই মুখে ছিল উচ্ছ্বসিত প্রশংসা। তাদের কথায় নিশ্চিত হয়েছি, এ দেশের মানুষ সংগীতানুরাগী। আর এটা জানার পর থেকেই আমি এবং আমার সংগীত দলের সবাই আমাদের পারফরম্যান্স নিয়ে দর্শক প্রতিক্রিয়া দেখার অপেক্ষায় আছি।

প্রশ্নম্ন :উৎসবের দর্শকের জন্য আলাদা কোনো গান নির্বাচন করেছেন কি?

উত্তর :বাবা বুন্দেহ শাহ, আল্লামিয়া মোহম্মদ ও সুলতান বাবুর কিছু সুফি কালাম দর্শকের সামনে তুলে ধরতে চাই। বিভিন্ন ছবিতে গাওয়া নিজের কিছু সুফি গান আছে। সুযোগ পেলে সেগুলোর কয়েকটিও গাওয়ার ইচ্ছা আছে। সেই সঙ্গে সংগীত কিংবদন্তি শিল্পী ওস্তাদ নুসরাত ফতেহ আলি খানের কালজয়ী কিছু গান থেকে অবশ্যই থাকবে। এত বড় সংগীত উৎসবে এসে তার গান না গাইলেই নয়।

প্রশ্ন :সুফি গানকে এত প্রাধান্য দেওয়ার কারণ কী?

উত্তর :সুফি গান অনেকটা সৃষ্টিকর্তার বন্দনার মতো। আমাদের রোহানি সংগীত পরিবারে ছোটবেলা থেকেই দেখছি, বাবা সুফি গানের চর্চা করে আসছেন। আমার ভাই এবং সংগীত ভুবনের এখনকার পথনির্দেশক হাসান নাসরুল্লহও হামদ ও না'ত গেয়ে সুনাম অর্জন করেছেন। তাদের সংস্পর্শে থেকে সুফি গানের মাজেজা বুঝেছি। এত দিনের সংগীতচর্চা আর শিল্পীজীবনের অভিজ্ঞতায় আমার কাছে এটা নিশ্চিত, সুফি গান মনে প্রশান্তি এনে দেয়; খুঁজে দেয় জীবনের অর্থ। তাই শুধু বংশপরম্পরা কিংবা দেশীয় ঐতিহ্য ধরে রাখতে নয়; অনুরাগী হিসেবেই এই গান গাই। এটা আমার গর্ব। আজীবন সুফি গান গেয়ে যেতে চাই।

প্রশ্ন :পরিবারের বাইরে আর কেউ কি আপনার শিল্পীজীবনে প্রভাব ফেলেছে?

উত্তর :আমার ধারণা,আমার মতো অগণিত শিল্পী, যারা সুফি, কাওয়ালি, না'ত গেয়ে থাকেন, তাদের ৮০ শতাংশ ওস্তাদ নুসরাত ফতেহ আলি খান দ্বারা প্রভাবিত। তিনি শুধু পাকিস্তানের নন; বিশ্বের অন্যতম সুফি শিল্পীদের একজন। তার প্রভাব এড়ানো যে কোনো শিল্পীর জন্য কঠিন কাজ।

প্রশ্নম্ন :দেশ-বিদেশের মঞ্চে যেভাবে শো করে চলেছেন, সে তুলনায় অ্যালবাম প্রকাশ করতে খুব একটা দেখা যায়নি আপনাকে। এর কারণ কী?

উত্তর :শিল্পী হিসেবে যে সময়ে প্রতিষ্ঠা পেতে চলেছি, সে সময়টায় অ্যালবাম কালচার শেষ হতে চলেছে। এখন তো অ্যালবাম হয়ই না। একটি করে গান রেকর্ড এবং তা ভিডিও করে প্রকাশ করা হয়। তাই একক গানের দিকেই ঝুঁকে পড়েছি। তবে গান প্রকাশের চেয়ে শোনাতেই বেশি ভালো লাগে। কারণ আমি চাই, বিভিন্ন শিল্পীর মাধ্যমে বিশ্বের নানা প্রান্তে সুফি গান ছড়িয়ে পড়ূক। এতে সংগীতপ্রেমীরা বুঝতে পারবেন, সুফি গান কতটা শক্তিশালী এবং কী দর্শন মিশে আছে এতে।

প্রশ্ন :আজকাল অনেকে রক, ব্লুজ, অল্টারনেটিভসহ বিভিন্ন ঘরানার সঙ্গে সুফি গানের ফিউশন করছেন। এ বিষয়টি কীভাবে দেখেন?

উত্তর :ফিউশনের বিপক্ষে কখনোই ছিলাম না, এখনও নই। সুফি গানের প্রধান শক্তি এর বাণী। সুরেরও আছে বৈচিত্র্য। তাই বাণী ও সুর অবিকৃত রেখে কেউ যদি ভিন্ন আঙ্গিকের সংগীতায়োজনে তা পরিবেশন করে, তাতে ক্ষতি নেই। গান শোনার জন্য সংগীতবোদ্ধা হওয়ার প্রয়োজন নেই। ভালো লাগাই মুখ্য এখানে। মিউজিকের ধরন যেমনই হোক, সুফি গানের কালাম যদি তার মাধ্যমে শ্রোতার কাছে পৌঁছে, সেখানেই শিল্পীর সার্থকতা।

আরও পড়ুন

×