কলমকাহিনি
পল সি ফিশারের স্পেস পেন
কিছু আলো নীল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৩ | ০৫:২৩
কলম এমন একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস, যার প্রয়োজন রয়েছে সবখানে। স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে অফিস-আদালত, বাড়ি, দোকান, বাজারসহ সব জায়গায় কলমের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে কলমেও। কলম আবিস্কারের ইতিহাসের কিছুটা এখানে
তুলে ধরা হলো-
১. কলমের ইতিহাস প্রায় ৫ হাজার বছরের পুরোনো। ধারণা করা হয়, প্রাচীন মিসরীয়রা সর্বপ্রথম কলম ব্যবহার শুরু করে। সে সময় লেখা হতো বিভিন্ন গাছের পাতা, বাকল এবং পশুর চামড়ার ওপর। একটি কাঠির ডগায় তামার নিবের মতো বা ধাতব কিছু একটা পরিয়ে লেখা শুরু হয়।
২. পাখির পালকের দ্বারা তৈরি কলমকে কুইল বলা হয়। সাধারণত রাজহাঁস কিংবা বড়সড় পাখির ডানার পালক দ্বারা এ ধরনের কলম তৈরি করা হয়।
৩. একটি ধাতব নিব কাঠের হাতলের সঙ্গে লাগিয়ে নিব কলম তৈরি করা হতো। প্রতিবার লেখার আগে এটি কালির পাত্রে চুবিয়ে নিতে হতো। ক্যালিওগ্রাফি, অলংকরণ ও কমিকস আঁকার ক্ষেত্রে এ কলম এখনও ব্যবহার করা হয়।
৪. বিশ্বে প্রথম ফাউন্টেন পেন বা ঝরনা কলম আবিস্কৃত হয় ৯৫৩ সালে। মিসরের শাসক মা'দ আল-মুয়িজের আমলে এ কলম আবিস্কার হয়।
৫. ১৮৮৪ সালে এল ই ওয়াটারম্যান আবিস্কার করেন আধুনিক ফাউন্টেন পেন। এর নিব তৈরিতে প্রয়োজন হতো ১৪ ক্যারেট সোনা। ডগা তৈরিতে লাগত ইরিডিয়াম।
৬. ১৯৮৮ সালে মার্কিন উদ্ভাবক জন লাউড তৈরি করেন বলপেন। কলমের নিবের মুখে লাগালেন এক ঘূর্ণিগোলক, যা লেখার সময় ঘুরতে থাকত এবং কালি বের হয়ে আসত।
৮. জন লাউডের প্রায় ৫০ বছর পর একই প্রযুক্তি নিয়ে হাজির হন হাঙ্গেরীয় দুই ভাই। লেডিসলাস বিরো ছিলেন একজন সাংবাদিক। তাঁর ভাই জর্জ রসায়নবিদ। ভাইয়ের সহায়তায় লেডিসলাস বিরো এই কলম তৈরি করে ফেললেন।
৯. ১৯৪৩ সালের ১০ জুন ইউরোপিয়ান প্যাটেন্ট অফিসে বিরো ভাইয়েরা প্যাটেন্টের আবেদনপত্র পূরণ করেন। এই দিনকে বিশ্বব্যাপী বলপয়েন্ট দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
১০. আমরা যে কলমকে বলপয়েন্ট পেন নামে চিনি, ইংল্যান্ডে সেই কলম এখনও 'বিরো পেন' নামে পরিচিত।
১১. ১৯৪৫ সালের অক্টোবর মাসে নিউইয়র্কের একটি দোকানে বলপয়েন্ট কলম বিক্রি হয় প্রতিটি সাড়ে ১২ ডলারে। প্রথম দিনেই ১০ হাজার কলমের চালান শেষ হয়ে যায়!
১২. প্রথম দিকে নাসা যখন মহাকাশযান পাঠানো শুরু করল, তখন বুঝল যে বলপয়েন্ট কলম অভিকর্ষ ছাড়া কাজ করবে না। তখন মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হলো, এমন এক কলম বানানোর জন্য যেটা যে কোনো পৃষ্ঠে, যে কোনো কোণে, শূন্যের নিচে বা ওপরে ৩০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা পর্যন্ত কাজ করবে। তখন আমেরিকান শিল্পপতি এবং কলম প্রস্তুতকারক পল সি ফিশার স্পেস পেন উদ্ভাবনের জন্য বাজেট করেন মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। ১৯৬৫ সালে পল সি ফিশার এই কলম বাজারে আনেন।
- বিষয় :
- কলম
- কলমের ইতিহাস