প্রতিযোগিতামূলক চাকরির প্রস্তুতি
যেভাবে শুরু করবেন
--
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৩ | ০৪:৪৮
পছন্দের চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিতে চাইলে সিলেবাস এবং প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা নিন। এতে আপনাকে কী কী বিষয়ের ওপর প্রস্তুতি নিতে হবে, তা জানতে পারবেন। সর্বজনীন পরিকল্পনা করে এগোতে হবে আপনাকে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন ৪০তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকারী মোহাইমিনুল ইসলাম
প্রস্তুতি শুরুর প্রাথমিক পর্যায়েই আপনার গন্তব্য সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। অনেকেই আছেন, যাঁরা মাত্র একটি চাকরিকে মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আবার অনেকে বেশ কিছু লক্ষ্য ঠিক করে রেখেছেন। যদিও এটি সম্পূর্ণভাবে প্রার্থীর মানসিক শক্তির ওপর নির্ভর করছে। বিভিন্ন চাকরির মধ্য থেকে নির্দিষ্ট একটি বা দুটি চাকরি বেছে নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করুন। পাশাপাশি এমন দুটি অথবা তিনটি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকুন, যেগুলোর সিলেবাসে মিল রয়েছে।
পরীক্ষার ধরন
পছন্দের চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য হলে তার সিলেবাস এবং প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা নিন। এতে আপনাকে কী কী বিষয়ের ওপর প্রস্তুতি নিতে হবে, তা জানতে পারবেন।
কীভাবে পড়তে হবে
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, কীভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞানের ওপর জোর দিন বেশি। মুখস্থ নয়, পড়তে হবে বুঝে। দ্রুত অধ্যায় শেষ করার চিন্তা না করে সময় দিয়ে মনে রাখার চেষ্টা করতে হবে বেশি বেশি। প্রতিটি বিষয়কে আলাদা সময়ের স্লটে ভাগ করে নিতে হবে। নিজের সময়, সুযোগ ও সাধ্যমতো একটি পরিকল্পনা করে পড়তে হবে। কেউ যদি পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির প্রস্তুতি নিতে চান, পুরো অবসর সময় কাজে লাগাতে হবে।
মক টেস্ট
সরকারি চাকরির একটি সামগ্রিক প্রস্তুতির পাশাপাশি নিয়মিত মক টেস্ট দেওয়া আপনাকে অন্যদের থেকে চাকরি পাওয়ার এই দৌড়ে এগিয়ে রাখবে।
-প্রতিদিন মক টেস্টে অংশগ্রহণ আপনার উত্তর দেওয়ার গতি ত্বরান্বিত করবে।
- ঘড়ি ধরে মক টেস্ট দিলে আপনি কোন কোন বিষয়ের মাধ্যমে শুরু করবেন, সেটি সম্পর্কে ধারণা পাবেন।
সাধারণ জ্ঞানের টিপস
প্রায় প্রতিটি সরকারি চাকরির পরীক্ষাতেই সাধারণ জ্ঞানের জন্য ভালো নম্বর বরাদ্দ থাকে। এ ক্ষেত্রে ভালো ফলাফলের জন্য নিয়মিত কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়ার বিকল্প নেই। ইংরেজি ভাষার ওপর দখল আনার জনপ্রিয় একটি উপায় হচ্ছে রোজ ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা পড়া, যা আপনার ভোকাবুলারি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে গ্রামাটিক্যাল ভুলের আশঙ্কাও কমিয়ে দেবে।
লিখিত পরীক্ষায় ইংরেজি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এতে ভালো না করলে গড় নম্বর অনেক কমে যাবে। ইংরেজি ব্যবহার করতে হবে শুদ্ধভাবে। ভালো গ্রামার বই থেকে বেসিক গ্রামারের ব্যবহার দেখে নিন। প্রয়োজনে যাঁরা ইংরেজিতে দক্ষ, তাঁদের কাছ থেকে সহায়তা নিন। যে কোনো ইংরেজি লেখা বিশ্নেষণ করার চেষ্টা করুন।
ইংরেজি পত্রিকা পড়ুন। Sentence Structure, Word usage ও অনুবাদের প্রস্তুতির জন্য একই ঘটনার ওপর বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকার রিপোর্টে চোখ বুলান। অনেক বহুল ব্যবহূত শব্দের অর্থ, সমার্থক শব্দ অবচেতন মনেই আপনি জেনে ফেলবেন। অনেক প্রশ্নই সমসাময়িক বিষয়ের ওপর হয়। তাই ইংরেজি পত্রিকা পড়ার অভ্যাস ভালো ফল নিয়ে আসতে পারে। বাজার থেকে ভালো মানের যে কোনো একটি ইংরেজি লিখিত পরীক্ষার গাইড সংগ্রহ করে নিন। বিগত বছরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নও দেওয়া থাকে এতে। অনুশীলনের ক্ষেত্রে এটি কাজে লাগবে। পাঁচটি করে নতুন শব্দ শিখে প্রতিটি দিয়ে তিনটি করে বাক্য লিখুন।প্রতিদিন কী কী করলেন, দিনের শেষে সহজ ইংরেজিতে অন্তত তিন পৃষ্ঠা লিখে ফেলুন। আপনার শব্দভান্ডার যত বেশি সমৃদ্ধ হবে, ভাষার প্রতি দখল তত আসবে। ঠড়পধনঁষধৎু যে কোনোভাবে পড়া যায়- বাজারের বিভিন্ন বই বা পত্রিকা থেকে। ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং ইংরেজিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কম্প্রিহেনশন যত পারেন পড়ুন। পড়ার সময় তিনটি বিষয় মাথায় রাখবেন।
-অজানা শব্দের অর্থ অবশ্যই আয়ত্ত করবেন।
- বাক্যের অর্থ বোঝার চেষ্টা করবেন।
-পুরো অনুচ্ছেদের মূলকথা বের করবেন।
ইংরেজি বাক্য লেখার সময় আপনাকে Vocabulary ব্যবহার করতেই হয়। এতে অনেকেই ভুল করেন। তাই শুদ্ধ বাক্য লিখতে হলে এ সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। এ জন্য Preposition -এর বাংলা অর্থ ও সাধারণ ব্যবহার জেনে নেবেন। তাহলে ধীরে ধীরে ভুল কমে যাবে। Tense সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। যদি সম্ভব হয়, প্রতিদিন একটি টপিক ধরে এক পৃষ্ঠা করে লিখবেন।
লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য একজন প্রার্থীকে প্রথমেই চিহ্নিত করতে হবে কোন কোন বিষয়ে তাঁর ধারণা কম। সেসব বিষয়ে বেশি জোর দিতে হবে।
- নিজের প্রতি আস্থা রাখুন।
- দাগিয়ে বারবার পড়ুন। পড়ার সময় বাড়তি তথ্য বইয়ে লিখে রাখুন।
-যে টপিকগুলো চর্চা করার ব্যাপার আছে, সেগুলো অবশ্যই কয়েকটি বই থেকে চর্চা করবেন।
- সংবিধান মুখস্থ করার দরকার নেই। প্রশ্নের ধরন বুঝে গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো সম্পর্কে জেনে নিন।
-আপনি ভালোভাবে যে বিষয়টি পারেন, সেটি আরও ভালো করে পড়ুন।
- প্রশ্ন নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- মানসিক দক্ষতার জন্য অল্প সময়ে ভালো প্রস্তুতি নিতে কয়েকটি গাইড বইয়ের প্রশ্নোত্তর পড়ে ফেলুন।
- যাঁরা ইংরেজিতে বেশি দুর্বল, তাঁরা প্রতিদিন ৩০ মিনিট ব্যয় করে চার-পাঁচ পৃষ্ঠা করে লিখবেন।
-প্রস্তুতি নেওয়ার সময় মাথায় রাখুন, আপনি প্রশ্ন কমন পাওয়ার জন্য নয়, বরং ধারণা থেকে লিখে আসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
[গ্রন্থনা : শাহিনা নদী]