ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘জিয়াউল কিছু অস্ত্র-গুলি দেন যার কোনো হিসাব হতো না’

গুম ও হত্যার অভিযোগে মামলায় সাক্ষীকে জেরা

‘জিয়াউল কিছু অস্ত্র-গুলি দেন  যার কোনো হিসাব হতো না’
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:১৫ | আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:১১

| প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শতাধিক ব্যক্তিকে গুম করে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা সাব্বির রহমান ওসমানীকে জেরা শেষ করেছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী। 

গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তাঁকে জেরা করা হয়। এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন মামলার ১৩তম সাক্ষী সাব্বির রহমান।  
জবানবন্দিতে র‍্যাবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ২০১০ সালের মে মাস থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বরগুনার পাথরঘাটায় এবং সুন্দরবন এলাকায় র‍্যাবের পরিচালক (গোয়েন্দা) হিসেবে লে. কর্নেল জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে বিচারবহির্ভূত হত্যার বর্ণনা তুলে ধরেন মেজর (অব.) সাব্বির রহমান। গতকাল এই সাক্ষীকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. সাহিদুর রহমান। এ সময়ে সাব্বির রহমান বলেন, জিয়াউল বরিশালের র‍্যাব-৮ এ কিছু অস্ত্র-গুলি দিয়ে রেখেছিলেন, যার কোনো হিসাব করা হতো না। জিয়াউল আহসান ওই অস্ত্র-গুলি কোথা থেকে আনতেন– এ প্রশ্নে সাব্বির রহমান বলেন, ‘এই অতিরিক্ত অস্ত্র-গুলি আনা হয়েছিল ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার জব্দ আলামত থেকে। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় কী কী অস্ত্র ছিল, তা আমার জানা নেই।’

গত ১৭ সেপ্টেম্বর জবানবন্দিতে মেজর (অব.) সাব্বির রহমান বলেন, ২০১১ সালের জুন মাসে জিয়াউল আহসান তাঁকে ফোন করেন। ফোনে ‘গলফ কাজে’ (কোনো ব্যক্তিকে হত্যার পর পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে বা সাগরে ফেলে দিয়ে লাশ গুম করাকে গলফ অপারেশন বলা হতো) নিয়োগপ্রাপ্ত মাঝিদের অন্যতম আলকাছ মাঝির বিষয়ে তাঁর কাছে জানতে চান। উত্তরে তিনি জানান, এই মাঝির ব্যাপারে তাঁর কিছু জানা নেই। এতে জিয়াউল আহসান কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলেন, ‘আলকাছ মাঝি গলফ অপারেশন-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য চরদুয়ানী বাজারে বলে বেড়াচ্ছে, যা র‍্যাবের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।’ এ কথা বলে জিয়াউল আলকাছ মাঝিকে ‘এলিমিনেট’ করার নির্দেশ দেন। সপ্তাহখানেক পর ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে জানতে পারেন, জিয়াউল ফোনে ডেকে নেওয়ার পর থেকে আলকাছ মাঝিকে আর পাওয়া যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন

×