ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অর্থ বিভাগের পরিপত্র

আগামী বাজেট বরাদ্দে গুরুত্ব পাবে দারিদ্র্য নিরসন

আগামী বাজেট বরাদ্দে গুরুত্ব পাবে দারিদ্র্য নিরসন
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৩ | ০১:২৮ | আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৩ | ০১:২৮

আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং দপ্তরের কার্যক্রমে দারিদ্র্য নিরসন এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সেবার মান বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন হয়নি এমন কোনো প্রকল্পে বাজেট বরাদ্দ চাওয়া যাবে না। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং দপ্তরের সঙ্গে অর্থ বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনের ত্রিপক্ষীয় সভায় যে বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে ব্যয়সীমার মধ্যে প্রতিটি দপ্তরকে বাজেট প্রাক্কলন করে আগামী ২৭ এপ্রিলের মধ্যে সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি বা আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়্যারে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

গতকাল শনিবার এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। গত বুধবার অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারের আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠকে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রাক্কলন অনুমোদন করা হয়েছে। এর তিন দিন পর নতুন পরিপত্র জারি করে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে নির্ধারিত ব্যয়সীমার মধ্যে বাজেট প্রস্তাব চাওয়া হলো।

পরিপত্রে বলা হয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যাতে সরকারের মৌলিক নীতিনির্ধারণী দলিলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দারিদ্র্য নিরসন সহায়ক বরাদ্দ বাড়াতে পারে এবং দরিদ্র জানগোষ্ঠীকে দেওয়া সেবার মান ও পরিমাণ বাড়াতে পারে সে বিষয়টি লক্ষ্য রেখে সম্ভাব্য রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা এবং ব্যয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য কৌশলগত উদ্দেশ্য অর্জনে সহায়ক হয়– এমন সুনির্দিষ্ট কার্যক্রমে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। বাজেটে সাধারণভাবে কোনো ধরনের বরাদ্দ প্রস্তাব করা যাবে না।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা এ প্রসঙ্গে সমকালকে বলেন, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পরিপ্রেক্ষিতে দারিদ্র্য নিসরণে সরকার নানা কার্যক্রম গ্রহণ করে আসছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ে করোনা অতিমারি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দারিদ্র্যের হার কিছুটা বেড়েছে। এ জন্য সীমিত সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আগামী বাজেটে দারিদ্র্য নিরসনকে প্রধান্য দিয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

ব্যয়ের প্রাক্কলনের বিষয়ে বলা হয়, আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের প্রাক্কলন এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যেন তা ত্রিপক্ষীয় সভায় অনুমোদিত ব্যয়সীমার মধ্যেই থাকে। মধ্যমেয়াদি বাজেটের আওতায় ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রক্ষেপণও ত্রিপক্ষীয় সভায় অনুমোদিত ব্যয়সীমার মধ্যে রাখতে বলা হয়েছে।

উন্নয়ন ব্যয়ের প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণের বিষয়ে বলা হয়, একনেকে অনুমোদন হয়নি এমন কোনো প্রকল্পে আগামী অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ প্রস্তাব করা যাবে না। তবে বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে এডিপিতে নীতিগত অন্তর্ভুক্তিযোগ্য প্রকল্পগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ত্রিপক্ষীয় সভায় নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে প্রকল্পওয়ারি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পুনর্নির্ধারণ করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং দপ্তরের জন্য প্রদত্ত মোট এডিপি ব্যয়সীমা কোনোভাবেই অতিক্রম করা যাবে না।

এ ছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এডিপিতে নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং দপ্তরের প্রস্তাব পরীক্ষা করে পরিকল্পনা কমিশন প্রচলিত নিয়মে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিন্তু ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রক্ষেপণে অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পের বিরুদ্ধে বরাদ্দ প্রদর্শন করা যাবে।

সরকারি অনুদান গ্রহণ করে এমন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার বরাদ্দ নির্ধারণের ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের নিজস্ব আয় ও আয়ের উৎস পর্যালোচনা করতে হবে। ত্রিপক্ষীয় সভায় সম্মত প্রাক্কলিত ও প্রক্ষেপিত আয় সংশ্লিষ্ট আয় সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে দেখাতে হবে। নিজস্ব আয়ের অর্থ বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার জন্য ব্যয়সীমা সরকারি অনুদানের পরিমাণ নির্ধারণ করে তার ভিত্তিতেই বাজেট প্রক্কলন ও প্রক্ষেপণ করতে হবে।

তবে নির্ধারিত ব্যয়সীমার মধ্যে বরাদ্দ সংকুলান করা সম্ভব না হলে ত্রিপক্ষীয় সভার সুপারিশ, মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত উদ্দেশ্যে এবং প্রধান লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বাজেট ওয়ার্কিং গ্রুপ পুনঃঅগ্রাধিকার নির্ধারণ করে বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে সুপারিশ করবে। সে ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত কম অগ্রাধিকার প্রকল্পের বরাদ্দ কমিয়ে ওইসব প্রকল্পে বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুন

×