ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিশুর হাতে মোবাইল নয়

শিশুর হাতে মোবাইল নয়
×

 অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

শৈশবে মোবাইলের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার ব্যক্তির সামাজিক ও মানসিক বিকাশের ওপর ক্রমবর্ধমান বিরূপ প্রভাব ফেলে। অনেক মা শিশুকে খাওয়ানোর সময় মোবাইল দেখিয়ে খাওয়ান বা শিশু কান্না করলে মোবাইল দিয়ে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এতে শিশু মোবাইলকে খেলনা মনে করে ধীরে ধীরে কার্টুন বা ভিডিও দেখার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে।

এর ফলে শিশুরা কথা বলতে দেরি করে, খিটখিটে ও জেদি হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মা-বাবা দুজনেই কর্মব্যস্ত থাকলে শিশুরা একা একা টিভি বা মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ে। যেসব শিশু শারীরিক কার্যক্রম, যেমন– খেলাধুলা, দৌড়ানো বা সাইকেল চালানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তারা সহজেই মোবাইল বা ভিডিও গেমে আসক্ত হয়ে যায়। এর ফলে মনোযোগের ঘাটতি তৈরি হয় এবং বাস্তবজীবনে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করার ক্ষমতা ব্যাহত হয়। এ ছাড়া চোখের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

মোবাইল, সামাজিক মাধ্যম ও ইন্টারনেট গেমের আসক্তি অন্যান্য নেশাজাতীয় আসক্তির মতোই আচরণগত আসক্তি হিসেবে কাজ করে। এসব ব্যবহারের সময় মস্তিষ্ক থেকে ডোপামিন নামক নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসৃত হয়, যা ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টি করে এবং ব্যবহারকারীদের বারবার সেই অভিজ্ঞতার দিকে টেনে নেয়। ফলে শিশু খুব সহজেই আসক্ত হয়ে পড়ে।
শিশুর স্মার্টফোন ব্যবহার সীমিত রাখা প্রয়োজন। শিশুর শয়নকক্ষে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস রাখা উচিত নয়। একই সঙ্গে মা-বাবাকে শিশুর জন্য প্রযুক্তি ব্যবহারের একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করতে হবে, যেখানে কখন ও কীভাবে ডিভাইস ব্যবহার করা যাবে, তা নির্ধারণ থাকবে। অভিভাবকদের নিজেদেরও এই নিয়ম মেনে চলা জরুরি। পাশাপাশি সবার জন্য একটি নির্দিষ্ট ঘুমের রুটিন থাকা প্রয়োজন।
নিজেদের ব্যস্ততার কারণে সন্তানকে মোবাইল বা ভিডিওতে আসক্ত করে তোলা ঠিক নয়। শিশুকে নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিশুকে নিয়ে বাগান, পার্ক বা খেলার মাঠে যাওয়া উচিত। যারা শহরে থাকেন, তারা সপ্তাহে অন্তত এক দিন বা মাসে কয়েক দিন শিশুকে প্রকৃতির সংস্পর্শে নিয়ে যেতে পারেন। শিশুকে ঘরের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। ছোট ছোট কাজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে এবং তারা মোবাইলের প্রতি নির্ভরশীলতা থেকে ধীরে ধীরে সরে আসে। পাশাপাশি শিশুর স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করা এবং চোখের বিশ্রামের জন্য নিয়মিত বিরতি নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।
লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ শিশু চিকিৎসক সমিতি; সাবেক অধ্যাপক ও পরিচালক, ঢাকা শিশু হাসপাতাল।

আরও পড়ুন

×