ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাড়ির জ্বালানি খরচ কমানোর নিয়ম শিথিল করছে যুক্তরাষ্ট্র

গাড়ির জ্বালানি খরচ কমানোর নিয়ম শিথিল করছে যুক্তরাষ্ট্র
×

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

রয়টার্স

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৩০

বাইডেন প্রশাসনের নেওয়া উদ্যোগ থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগ ২০৩১ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকা গাড়ির জ্বালানি সাশ্রয়-সংক্রান্ত মানদণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে শিথিল বা কমিয়ে চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। কর্মকর্তারা শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন। বাইডেন প্রশাসন গাড়ি নির্মাতাদের আরও বেশি বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরিতে বাধ্য করতে চেয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি গাড়ি ও ট্রাকের জন্য নতুন জ্বালানি সাশ্রয়-সংক্রান্ত মানদণ্ড অনুমোদন করেছেন। এর ফলে নতুন গাড়ির দাম কমবে। পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি বলেছেন, সোমবার আমেরিকার গাড়ি-শিল্পের কর্মীদের জন্য একটি বড় বিজয় আসতে চলেছে।

পরিবহন বিভাগের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, নতুন মানদণ্ডের ফলে নতুন গাড়ির দাম কমবে। তবে এর ফলে আগামী কয়েক দশকে জ্বালানি ব্যবহার ও কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ বাড়বে।

ফেব্রুয়ারির শেষভাগে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর পর জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আমেরিকান গাড়িচালকরা যখন বাড়তি ব্যয়ের চাপে রয়েছেন, তখনই ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে সরকার গাড়ি নির্মাতাদের আরও বেশি বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরিতে উৎসাহিত করেছিল, যাতে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সাশ্রয়-সংক্রান্ত মানদণ্ড পূরণ করা যায়। বাইডেন ২০২৪ ও ২০২৫ মডেল বছরের গাড়ির জন্য জ্বালানি সাশ্রয়ের আবশ্যিক হার বছরে ৮ শতাংশ, ২০২৬ সালের জন্য ১০ শতাংশ এবং ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ২ শতাংশ করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

ট্রাম্প প্রশাসন গত ডিসেম্বরে ২০২২ মডেল বছরের জ্বালানি সাশ্রয় বা ‘ফুয়েল ইকোনমি’র মানদণ্ড কমিয়ে আনার প্রস্তাব দেয়। এরপর ২০৩১ সাল পর্যন্ত এ মানদণ্ড বার্ষিক ০.২৫ শতাংশ থেকে ০.৫ শতাংশ হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়।

পরিবহন বিভাগ ২০৩১ সালের মধ্যে গাড়ির বহরের গড় জ্বালানি দক্ষতা প্রতি গ্যালনে ৩৪.৫ মাইল (প্রতি লিটারে ১৪.৭ কিলোমিটার) করার প্রস্তাব দিয়েছে। বাইডেন প্রশাসনের অধীনে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রতি গ্যালনে ৫০.৪ মাইল (প্রতি লিটারে ২১.৪ কিলোমিটার)। বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রতিটি নতুন গাড়ির গড় দাম ৯৩০ ডলার কমবে।

তবে বিভাগটি জানিয়েছে, এর ফলে ২০৫০ সাল নাগাদ জ্বালানি খরচ প্রায় ১০০ বিলিয়ন গ্যালন এবং জ্বালানি বাবদ ব্যয় ১৮৫ বিলিয়ন ডলার বেড়ে যাবে। পাশাপাশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ বাড়বে প্রায় ৫ শতাংশ।

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের ফলে গাড়ি নির্মাতাদের ভোক্তাদের কাছে কম জ্বালানি-দক্ষ গাড়ি বিক্রি করা সহজ হবে। বাইডেন প্রশাসনের অধীনে পরিবহন বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পিট বুটিগিগ বলেন, মানদণ্ড কমিয়ে আনার ফলে ট্রাম্পের চলমান কর্মকাণ্ডই আরও ত্বরান্বিত হবে—যার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ চীনের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে এবং আমেরিকানদের জ্বালানি কেনার জন্য বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

বাইডেন প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো, পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর ত্বরান্বিত করা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বনেতায় পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল।

আরও পড়ুন

×