ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পদ্মার চরে গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ১

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পদ্মার চরে গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ১
×

ফাইল ছবি

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৪৩

রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার চর ও বালুঘাটের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মিনারুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের খানপুর নীচপলাশী নদীর ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ মিনারুল ইসলাম একই গ্রামের জামাত মণ্ডলের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে মণ্ডল বাহিনীর সদস্যরা পিচবোর্ড (ইঞ্জিনচালিত নৌকা) নিয়ে নদীপথে যাওয়ার সময় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ‘কাঁকন বাহিনী’র সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায়ে পিচবোর্ড ছিনিয়ে নিতে তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। এ সময় মণ্ডল বাহিনীও পাল্টা গুলি ছুড়লে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল গোলাগুলি শুরু হয়। এতে পিঠে গুলিবিদ্ধ হন মিনারুল। অবস্থা বেগতিক দেখে নৌকায় থাকা অন্যরা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মরক্ষা করেন।

পরে মিনারুলকে উদ্ধার করে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. এলিনা পারভেজ জানান, আহত যুবকের পিঠে গুলির ক্ষত রয়েছে। শরীরের ভেতরে গুলি আটকে থাকার সন্দেহে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, মিনারুল মণ্ডল বাহিনীর সদস্য। তবে অন্য একটি সূত্রের মতে, তিনি নদীতে মাছ ধরার সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মাঝে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সকালে হঠাৎ মুহুর্মুহু গোলাগুলির শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মাছ ধরে ফেরার সময় তিনি দেখেন দুটি নৌকা থেকে একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে ছুড়তে এগিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাঘা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুপ্রভাত মণ্ডল বলেন, ‘কাঁকন বাহিনীর ছোড়া গুলিতে মিনারুল আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। মণ্ডল বাহিনীর পিচবোর্ড নিয়ে যাওয়ার সময় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, বন্যা-পরবর্তী সময়ে পদ্মার জেগে ওঠা উর্বর চরাঞ্চল, খাসজমি ও বালুঘাট দখল নিয়ে রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর, পাবনার ঈশ্বরদী ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কাঁকন বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় মণ্ডল ও মুন্তাজ বাহিনীর আধিপত্যের দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এর আগেও একাধিক হত্যা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও যৌথ বাহিনী ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’সহ একাধিক অভিযান পরিচালনা করলেও চরাঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ফেরেনি। সাম্প্রতিক এ ঘটনার পর নদীর ঘাট ও আশপাশের চরাঞ্চলে নতুন করে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন

×