ক্ষুধার্ত অবস্থায় হাতিটি গ্রামে ঢুকে পড়েছিল। গ্রামবাসীরা খাওয়ার জন্য দিয়েছিল একটি আনারস। কিন্তু সেই আনারসেই সব শেষ হয়ে গেল। গ্রামবাসীরা আনারসের মধ্যে ভরে দিয়েছিল বিস্ফোরক আতশবাজি। হাতিটি সেই আনারস খেতেই তা ফেটে যায়। আর সেই অবস্থাতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে মা হাতিটি। আর তারপর মৃত্যু হয়। গর্ভের সন্তানের আর পৃথিবীর আলো দেখা হয় না।

ভারতের কেরালার মালাপ্পুরম জেলার একটি গ্রামের বাসিন্দারা আনারসের ভেতরে বিস্ফোরক আতশবাজি ভরে  গর্ভবতী হাতিটিকে খাওয়ায়। গত বুধবার সন্ধ্যার দিকে পানিতে দাঁড়ানো অবস্থায় মারা যায় হাতিটি।

কেরালার বন দপ্তরের কর্মকর্তা মোহন কৃষ্ণন হাতিটির ছবি ও ঘটনার বিবরণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করার পর এই নৃশংসতা সবার নজরে আসে।

বন দপ্তরের কর্মকর্তা মোহন কৃষ্ণন লিখেছেন, হাতিটি আমাদের বিশ্বাস করেছিল। আনারস খাওয়ার পর যখন তা ফেটে যায় আমি নিশ্চিত ও নিজের কথা ভাবে নি। ও তখন নিজের গর্ভের সন্তানের কথা ভাবছিল। আনারস খাওয়ার পর হাতির মুখ গলা সাংঘাতিকভাবে আহত হয়। ক্ষুধায় পাগলের মতো ঘুরছিল হাতিটি। কিন্তু কাউকে একবারের জন্য আক্রমণ করেনি। এমনকি আনারস খাওয়ার পরও কাউকে হামলা করেনি, একটি বাড়িও ভেঙে দেয়নি।

নিজেই হেঁটে গিয়েছে নদী পর্যন্ত। অসহ্য যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে নদীর জলে মুখ ডুবিয়ে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল হাতিটি। সেই ছবিটি এখন সোশ্যাল-মিডিয়ায়-ভাইরাল। কিন্তু সেখানে দাঁড়িয়ে থেকেই আস্তে আস্তে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে গর্ভবতী হাতি। 

মোহন কৃষ্ণন আরও লেখেন, হাতিটিকে একটা সুন্দর বিদায় দেওয়া উচিত ছিল। ওতো সেটারই যোগ্য। তাই আমরা বনের ভেতর তাকে নিয়ে গিয়ে সমাধিস্থ করি। চিকিৎসক ময়নাতদন্ত করে জানান, মৃত্যু শুধু ওই হাতিটির হয়নি। তার গর্ভে ছিল আরো প্রাণ। সমাধিস্থ করার আগে আমরা ওকে সম্মান জানাই। সূত্র: কলকাতা ২৪/৭।