ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অস্তিত্ব সংকটে সামরিক জান্তা: জাতিসংঘ

অস্তিত্ব সংকটে সামরিক জান্তা: জাতিসংঘ
×

ছবি: এনডিটিভি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৪ | ২১:২২

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র্যা পোর্টিয়ার টম অ্যানড্রুজ বুধবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেছেন। এমন অবস্থায় থাকার পর সমন্বিত নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তাদের দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটাতে পারে বিশ্ব, বলেন তিনি।
 
অ্যানড্রুজ বলেন, সামরিক বাহিনীর ভেতর বিপুলসংখ্যক সদস্য হতাহত হচ্ছেন। তাদের অনেকে পক্ষ ত্যাগ করছেন। আত্মসমর্পণ করছেন। এ ছাড়া বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার যে নীতি চালু হয়েছে, তাতে সেনাসদস্যের সংখ্যা কমছে। ফলে অস্তিত্বের সংকটে আছে সামরিক জান্তা। তাদের পক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা আনার জন্য যারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হচ্ছেন, তারাও তাতে হেরে যাচ্ছেন। 

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক জান্তা। তার পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সু চিকে তারা বন্দি করে। তাঁর সময়কার প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রিপরিষদ ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিকদের গ্রেপ্তার করে। এর প্রতিবাদে ক্ষোভে জ্বলে ওঠে মিয়ানমার। সাধারণ মানুষ সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ভয়াবহ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বিভিন্ন জাতিগত বিদ্রোহী গ্রুপগুলো। তাদের ধারাবাহিক আক্রমণে সেনাবাহিনী পর্যুদস্ত হওয়ার পথে। এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অনেক এলাকা সেনাদের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তারা। 

এর পরিপ্রেক্ষিতে অ্যানড্রুজ বলেন, মিয়ানমারে সহিংসতা, অস্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অবনমন ও আইনহীনতার জন্য মূল চালিকাশক্তি হলো সামরিক জান্তা।

অ্যানড্রুজ বলেন, আর্থিক প্রবাহ ও সামরিক ব্যবহারের জন্য সরঞ্জামের ওপর নিষেধাজ্ঞায় সামরিক জান্তার অপারেশন মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তিনি সিঙ্গাপুরের নাম উল্লেখ করেন। এ দেশটি মিয়ানমারের সামরিক জান্তার কাছে সামরিক ব্যবহারের জন্য সরঞ্জাম বিক্রি কমিয়ে দিয়েছে। ফলে গত বছর মিয়ানমারে তাদের সরবরাহ দেওয়া অস্ত্রের পরিমাণ শতকরা ৮৩ ভাগ কম হয়েছে। কিন্তু তিনি বলেন, এমন ঘটনা ঘটেনি রাশিয়া ও চীনের ক্ষেত্রে। তারা মিয়ানমারের সামরিক জান্তার কাছে অস্ত্র সরবরাহে যথাক্রমে প্রথম এবং দ্বিতীয় অবস্থানে।

এদিকে রাখাইন রাজ্যের থান্ডওয়ে টাউনশিপে গত সপ্তাহে প্রায় ৩০ জন জান্তা নিযুক্ত প্রশাসক পদত্যাগ করেছেন। বেসামরিক নাগরিকদের বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিষয়ে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে এ কথা জানা গেছে। 

সর্বশেষ গত বুধবার ছয়জন প্রশাসক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এ নিয়ে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মোট পদত্যাগ করা কর্মকর্তার সংখ্যা ২৭ জনে দাঁড়াল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিয়ানমার নাউয়ের  স্থানীয় এক নেতা বলেন, কর্মকর্তারা পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন কারণ, তারা তাদের জীবন নিয়ে ভয় পেয়েছিলেন।

রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি শহরের মধ্যে থান্ডওয়ে একটি, যা এখনও দৃঢ়ভাবে জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি রাজ্যের বিখ্যাত এনগাপালি সমুদ্রসৈকতের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এবং আরাকান দ্বারা দখল করা শহর রামরি থেকে ১০০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। খবর ইরাবতী ও জাপান টাইমসের
 

আরও পড়ুন

×