ইসরায়েলি তাণ্ডব নিয়ে জাতিসংঘে মাখোঁর ক্ষোভ, পাল্টা জবাব নেতানিয়াহুর
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: এএফপি/কোলাজ
এএফপি
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:৫৩
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। সেখানে কীসের নামে প্রতিদিন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে, সে প্রশ্ন তুলেছেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর বলেছে, মাখোঁর বক্তব্যটি জঘন্য রকমের অযৌক্তিক।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ভাষণ দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। এক পর্যায়ে ফিলিস্তিনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘দেখুন, পশ্চিম তীরে কী ঘটছে। সেখানে প্রতিদিনই অধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। কীসের নামে? হামাস কখনো পশ্চিম তীরে হামলা চালায়নি। এসব কর্মকাণ্ড ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্বের বৈধ অধিকারকে প্রতিদিন কঠিন করে তুলছে।’
মাখোঁ গাজার মানবিক পরিস্থিতিরও তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার প্রতি ফের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। বলেন, আমরা যদি গাজা নিয়ে নিষ্ক্রিয় থাকি, তাহলে বিশ্বাসযোগ্যতার মূল্য কী? কেউ কেউ বলছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এখনো মানবিক সহায়তা পৌঁছানো শুরু হয়নি। এটি এমন এক দৃশ্য, যা সবাইকে লজ্জায় ফেলে।
গত বছর জাতিসংঘ অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিতে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মিলে উদ্যোগ নিয়েছিলেন মাখোঁ। এরপর থেকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। সম্প্রতি ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে মিলে ফ্রান্স একটি উদ্যোগ নিয়েছে। যার আওতায় পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপন করা এলাকায় উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করায় নেতানিয়াহুর দপ্তরও মাখোঁকে তিরস্কার করেছে। এক বিবৃতিতে বলেছে, ফরাসি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য জঘন্য রকমের অযৌক্তিক। এটি তাদেরকে হতবাক করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘হামাসের সন্ত্রাসীরা প্রায় প্রতিদিনই ইহুদিদের ওপর হামলা চালায়। জুডিয়া ও সামারিয়ায় তারা অসংখ্য ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে।’ ইসরায়েলে পশ্চিম তীর ‘জুডিয়া ও সামারিয়া’ নামে পরিচিত।
আগামী বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ দেওয়ার কথা। তখন তিনি এসব বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পশ্চিম তীরের প্রধান শহরাঞ্চলে সীমিত স্বায়ত্তশাসন ধরে রেখেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। তবে পুরো ভূখণ্ডের বেশিরভাগ অংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। কট্টর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা প্রায়ই সেখানকার ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়ে সম্পদ চুরি করে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ও তাদের সম্পত্তি নিয়ে বসতি স্থাপনকারীরা প্রতিদিন গড়ে ছয়টি সহিংসতার ঘটনা ঘটিয়েছে। এই পরিসংখ্যান চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত।