ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতে স্লিপার বাসে আগুন, নিহত ৯

ভারতে স্লিপার বাসে আগুন, নিহত ৯
×

ছবি: সংগৃহীত

এনডিটিভি

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:১৯ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:২৩

ভারতের উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে বুধবার গভীর রাতে একটি স্লিপার ট্যুরিস্ট বাসে অগ্নিকাণ্ডে এক নারীসহ অন্তত ৯ জন পুড়ে মারা গেছেন। এ ঘটনায় অনেকে আহত হয়েছেন। বাসটিতে ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন।

বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাসটি দিল্লি থেকে উত্তরপ্রদেশের মহোবার দিকে যাচ্ছিল। যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ বাসটিতে আগুন ধরে যায়। ঘটনার সময় অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে বাসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা এসি সিস্টেমে বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ইঞ্জিনের লুব্রিকেটিং অয়েলে আগুন ধরে গেলে তা দ্রুত পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটের কারণেও অগ্নিকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগুন দ্রুত পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। বেশ কয়েকজন যাত্রী বাসের জানালা দিয়ে লাফিয়ে বেরিয়ে প্রাণ বাঁচান। এক্সপ্রেসওয়ের পাশে বাসটিকে দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখা যায় এবং আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত পুরো গাড়িটিকে গ্রাস করে ফেলে।

খবর পেয়ে দমকল বাহিনী ও জেওয়ার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ শুরু করে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দল বর্তমানে ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

এ ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী নিহতদের পরিবারপ্রতি ২ লাখ টাকা এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এক যাত্রী বলেন, দরজায় জোরে ধাক্কাধাক্কির শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে প্রচুর মানুষের ভিড় দেখতে পেয়ে কোনো জিনিসপত্র না নিয়ে শুধু ফোন হাতে বেরিয়ে আসেন। এমনকি পায়ে জুতাও পরার সুযোগ পাননি। ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে কেউ একজন টেনে বের করে আনেন।

ওই যাত্রী বলেন, চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। ভেতরে মানুষের দম বন্ধ হয়ে আসছিল। খুব কম মানুষই বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। পেছনে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রীও সম্ভবত বের হতে পারেননি।
 

আরও পড়ুন

×