ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলি হামলার মধ্যেই গাজা পুনর্গঠনে ২৪০ কোটি ডলার ব্যয়ের প্রস্তাব

ইসরায়েলি হামলার মধ্যেই গাজা পুনর্গঠনে ২৪০ কোটি ডলার ব্যয়ের প্রস্তাব
×

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ইসরায়েলি সেনারা। ফাইল ছবি: এএফপি

আল–জাজিরা

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:৩৫

বিশ্বনেতারা ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানালেও গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি হামলা ও লঙ্ঘনমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই গাজা পুনর্গঠনে ৬৬টি প্রকল্পের মাধ্যমে ২৪০ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদ।

যুদ্ধবিরতি ও গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থাটি বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে আয়োজিত এক বোর্ড সভায় এই প্রকল্পগুলোর রূপরেখা প্রকাশ করে।

‘বোর্ড অব পিস’- এর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাজা পুনর্গঠনে মধ্যমেয়াদে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার এবং পরবর্তী ১০ বছরে আরও ৭১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘বোর্ড অব পিস’- এর উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনা হামাসের নিরস্ত্রীকরণের ওপর নির্ভরশীল। গত জুলাইয়ে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী গাজায় নিজেদের নিরস্ত্রীকরণের রূপরেখা সম্বলিত একটি নথিতে সম্মত হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন শান্তি ও নিরাপত্তার পথে এটিকে একটি ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

ম্লাদেনভ বলেন, বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, আমরা কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার (ক্যালেন্ডারের) দ্বারা আবদ্ধ নই। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে এই উদ্যোগটি যেন সফল হয়।

নিউইয়র্কে ‘বোর্ড অব পিস’-এর সংবাদ সম্মেলন থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক ক্রিস্টেন সালুমি জানান, গাজায় মাঠপর্যায়ে ‘খুব সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে’। তিনি বলেন, এই বৈঠকে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে আমরা যা শুনছি তা হলো—সামনে কতটা কঠিন এক কাজ অপেক্ষা করছে।

জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতি লাঘবের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছিল। তবে সালুমি উল্লেখ করেন, ‘ইসরায়েল মাঠ থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি, আর তাই পুনর্গঠন বা পুনরুদ্ধারের কাজ আসলে এখনো শুরুই হয়নি।’

এর মধ্যেই বুধবার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসের কাছে আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হন। চিকিৎসাকর্মীরা নিহতদের পরিচয় ওসামা আবু খাতের ও মোহাম্মদ আবু এলওয়ান হিসেবে শনাক্ত করেছেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, ওই হামলায় হামাসের অর্থ বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

গাজা শহর থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক ইব্রাহিম আল-খালিলি জানিয়েছেন, ‘ইসরায়েলি হামলার জেরে সেখানকার পরিস্থিতি ক্রমশ আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হামলাগুলো এমন সব আশ্রয়কেন্দ্রের কাছাকাছি চালানো হচ্ছে যেখানে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছিল। তারা ভেবেছিল এই তাঁবুগুলোতে তারা কিছুটা স্বাভাবিক জীবন ও নিরাপত্তা পাবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের চলমান ঘটনাগুলোর শিকার হতে হয়েছে তাদের।’

মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি গাড়িতে বিমান হামলায় অন্তত দুজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজা শহরে আরেকটি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও অন্তত একজন।

এর আগের দিনগুলোতে ইসরায়েলি গুলিতে আহত এক নারী ও এক পুরুষও শেষ পর্যন্ত মারা গেছেন। এছাড়া খান ইউনিসে পৃথক দুটি ঘটনায় ইসরায়েলি গুলিতে এক শিশু ও এক বৃদ্ধা আহত হয়েছেন।

গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ধারাবাহিক নিয়ম-লঙ্ঘনের ঘটনায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সমবেত বিশ্বনেতারা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার নেতারা পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনের নীতির মাধ্যমে ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার জন্য ইসরায়েলের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে গাজার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘গাজায় আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের সুযোগ জাতিসংঘকে দিতে হবে।’

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী হিসেবে চুক্তির প্রতি দেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এই অঞ্চলটির পুনর্গঠন কাজ ‘যত দ্রুত সম্ভব’ শুরু করার দাবিও জানিয়েছেন।
 

আরও পড়ুন

×