আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় মরিয়া রাশিয়া ও ইউক্রেন
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০০:৩৩
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন শুধু ট্যাঙ্ক ও গোলাবারুদের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। শত শত মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। দূরপাল্লার ড্রোন সক্ষমতায় দুদেশই নিজেদের অস্ত্রভান্ডার আধুনিক করছে। ফলে আকাশপথে আধিপত্যের লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
ইউক্রেনের ‘৪১৩ রেইড ড্রোন রেজিমেন্ট’ এখন দেশটির তৈরি এফপি-২ হামলাকারী ড্রোন ব্যবহার করছে। এই ড্রোন ১০০ কেজির বেশি বিস্ফোরক বহন করতে পারে এবং ২০০ মাইলেরও বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম। ইউক্রেনের দাবি, এসব ড্রোন হামলা রুশ সরবরাহব্যবস্থা ও সামরিক অবকাঠামোতে চাপ তৈরি করেছে। ইউক্রেন দীর্ঘপাল্লার হামলায় এক রাতে সর্বোচ্চ ৩০০টি ড্রোন ব্যবহার করতে পারে। তাদের লক্ষ্য এক রাতে এক হাজার ড্রোন উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জন করা। সস্তা ড্রোন দিয়ে প্রথমে আকাশপথ শনাক্ত করে পরে মূল লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
রাশিয়াও দ্রুত সক্ষমতা বাড়িয়েছে। ইরানের নকশায় তৈরি শাহেদ ড্রোনের উন্নত সংস্করণে জেট ইঞ্জিন যুক্ত করা হয়েছে। নতুন ‘গেরান-৪’ ঘণ্টায় ৩০০ থেকে ৫৫০ কিলোমিটার এবং ‘গেরান-৫’ প্রায় ৬০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে। এসব ড্রোনের ইঞ্জিন চীনে তৈরি বলে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জেটচালিত নতুন ড্রোনগুলো আগের ধীরগতির ড্রোনের তুলনায় ইউক্রেনের প্রতিরোধব্যবস্থা ভেদ করতে বেশি সক্ষম। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, পুরোনো শাহেদ ড্রোন ঠেকানোর সাফল্যের হার ৯০ শতাংশের বেশি থাকলেও, নতুন মডেলগুলোর বিরুদ্ধে তা প্রায় ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘপাল্লার ড্রোনযুদ্ধে রাশিয়ার অস্ত্রভান্ডার ও আকাশ প্রতিরক্ষায় তুলনামূলক সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনকে অর্থনৈতিক চাপ, যুদ্ধের ব্যয় এবং আসন্ন শীত মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ফলে ড্রোন প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন যুদ্ধের গতিপথ বদলালেও এখনই কোনো পক্ষের পরাজয় নিশ্চিত নয়।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দেশটির পূর্বাঞ্চলে ছয় কৃষিশ্রমিক এবং রাজধানী কিয়েভে দুজন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন। তিনি রুশ হামলার নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেন, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
দুই সৈন্যকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠাল ইউক্রেন
দুই উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় হস্তান্তর করেছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। গত বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা জানান। দুই যুদ্ধবন্দিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে জেলেনস্কি আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তার জন্য উত্তর কোরিয়া প্রায় ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। তাদের বেশির ভাগই রাশিয়ার কুরস্ক সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থান করছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান, আলজাজিরা ও এএফপির।