দ্বিপক্ষীয় সফর
যুক্তরাষ্ট্রে শি জিনপিং, বিরল অভ্যর্থনা
বিমানবন্দরে জিনপিংকে স্বাগত জানান ট্রাম্প
হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ফার্স্ট লেডি পেং লিউয়ান। এক দশকের বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন জিনপিং এএফপি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:২০ | আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:০৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রেখেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এ সময় নিজে উপস্থিত থেকে লাল গালিচায় তাঁকে স্বাগত জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিন দিনের সফরে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ এবং এআই, ইরান যুদ্ধ, তাইওয়ানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি নিয়েও আলোচনা হবে। অন্যদিকে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে ‘সুপার ইন্টিলিজেন্স’ নিয়েও আলোচনা হবে।
বিবিসির খবর বলছে, ২০১৫ সালের পর প্রথমবারের মতো শি ওয়াশিংটন সফর করছেন। বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও। তিনিও শি জিনপিং ও তাঁর স্ত্রী পেং লিউয়ানকে স্বাগত জানান। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গত বুধবার বিকেল ৫টা ৩৯ মিনিটে এয়ার চায়নার একটি বিমানে করে মেরিল্যান্ডে বিমানবাহিনীর ঘাঁটি জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে পৌঁছান চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা শি ও তাঁর স্ত্রী পেং।
শি ও পেং বিমান থেকে নেমে ট্রাম্প দম্পতির সঙ্গে করমর্দন করেন। তারা সংক্ষিপ্ত সময় কথা বলেন। এর পর দুই দম্পতি পাশাপাশি লাল গালিচা ধরে হেঁটে যান এবং ছবি তোলেন। এ সময় দুটি বি-১ বোমারু বিমান তাদের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। উপস্থিত আর্মি এয়ারফোর্স ব্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে। সৌজন্য সাক্ষাতের পর দুই দম্পতি পৃথক গাড়িতে করে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হন।
১৯৬২ সালের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিমানবন্দরে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কোনো বিদেশি নেতাকে স্বাগত জানালেন। এর মাধ্যমে ট্রাম্প এই সফরকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন, তা স্পষ্ট হলো।
পরে গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস পৌঁছান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও তাঁর স্ত্রী পেং লিউয়ান। সেখানে তাদের স্বাগত জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি। তাদের হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানানোর পর এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একসঙ্গে কাজ করে দুই দেশের সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে দারুণ অগ্রগতি অর্জন করেছে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের জন্য ‘গর্বিত’। অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দুই দেশেরই উচিত নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদার করা। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র ভিন্ন হলেও আন্তরিক, গভীর ও ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে একে অপরকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবে এবং পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তুলতে পারবে। চীনের প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি ও ট্রাম্প একে অপরকে সম্মান করেন এবং যোগাযোগ বজায় রাখেন।
এদিকে গত বুধবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাদের বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির সময়সীমা জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়াবে। এই চুক্তির মেয়াদ ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। চুক্তির আওতায় ট্রাম্প কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়েছিলেন এবং এর বিনিময়ে শি বিরল খনিজের ওপর চীনের বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করেছিলেন। এ ছাড়া গুঞ্জন রটেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সময় নতুন করে বোয়িং বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি নাও দিতে পারেন শি জিনপিং। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তথ্যটি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ-সংক্রান্ত আলোচনা এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে।
২০১৭ সালের পর থেকে মার্কিন যুদ্ধবিমান নির্মাতা কোম্পানিটি চীনের বাজার হারায়। বিপরীতে ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাস সেখানে নিজেদের বাজার সম্প্রসারণ করেছে।
- বিষয় :
- সফর
- যুক্তরাষ্ট্র
- শি জিনপিং
- ডোনাল্ড ট্রাম্প