ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অজানা

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আশ্রয় দিচ্ছে যে দ্বীপ

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে  আশ্রয় দিচ্ছে যে দ্বীপ
×

ছবিতে স্টট দ্বীপ। ইভা অ্যান অ্যান্ডারসনের তোলা -বিবিসি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:২২ | আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:২৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

নরওয়ের ছোট্ট একটি দ্বীপে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আশ্রয় পেয়েছেন জেলেরা। বিক্ষুব্ধ সাগরের হাত থেকে রেহাই পেতে তারা গেছেন স্টট নামের সেই দ্বীপে, কখনও তাদের নিরাশ হতে হয়নি। প্রয়োজনের সময় পেয়েছেন রসদ। এই দ্বীপটির অবস্থান সুমেরুবৃত্ত থেকে কিছুটা উত্তরে। আধুনিক সময়ে এসে এই দ্বীপ এখনও ধরে রেখেছে তার পুরোনো স্মৃতি। বলা ভালো, এক হোটেল মালিক তা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, দ্বীপটির দিকে যাওয়ার সময় চারদিকে থাকে সমুদ্র, নিচু মেঘ থেকে ঝিরঝিরে বৃষ্টি নামে। মাঝেমধ্যে কুয়াশার ভেতর থেকে খাড়া, পাথুরে শিলাগুলো হঠাৎ চোখে পড়ে। ধীরে ধীরে মেঘের আড়াল থেকে দ্বীপটি দৃশ্যমান হয়। সময়ের হিসেবে প্রায় এক ঘণ্টা পর দেখা যায় স্টট। চোখে পড়ে সমুদ্রের ওপর থাকা গ্রানাইটের দ্বীপ, লাল রঙের কেবিন আর বাতাসে দাঁড়িয়ে থাকা লম্বা কড মাছ শুকানোর কাঠামো। দ্বীপটির পশ্চিমে তাকালে সামনে আর কোনো স্থলভূমি দেখা যায় না। ওই অংশ দিয়েই খোলা সমুদ্র পেরিয়ে দূরে গ্রিনল্যান্ড অবস্থিত।

বর্তমানে স্টটের নিরিবিলি রূপ দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি এক সময় এটি নরওয়ের উত্তরাঞ্চলে মাছ ধরার রুটের সবচেয়ে ব্যস্ত বিরতিস্থলগুলোর একটি ছিল। এখন সারা বছর এখানে বসবাস করেন মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন মানুষ। সময় বদলেছে। এখন আর কেউ সেখানে আগের মতো আশ্রয় নিতে যান না। পেশায় পরিবর্তন আসায় মানুষের আর যাওয়ার দরকার পড়ে না।

তবে এই জিনিসটিকেই ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন সেখানেরই এক বাসিন্দা ইভা অ্যান অ্যান্ডারসন। ১৮৯৭ সাল থেকে দ্বীপটিতে তাদের একটি পারিবারিক হোটেল রয়েছে। তাঁর মতে, দ্বীপটি এই যুগে এসে ভিন্ন ধরনের আশ্রয় দিতে পারে। চাপ, অতিরিক্ত কাজ এবং আধুনিক নগরজীবন থেকে মুক্তি দিতে পারে। এদিক থেকে দেখলে স্টটের এখনও মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার মতো সুযোগ রয়েছে।

বিবিসির খবর বলছে, নরওয়ের এই স্টট দ্বীপেই অ্যান্ডারসনের বেড়ে ওঠা। তিনি স্টট ছেড়ে এক সময় অসলোতেও চলে গিয়েছিলেন। পরে আন্তর্জাতিক করপোরেট জগতে ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। কিন্তু ২০১১ সালে ক্লান্ত ও অবসন্ন অবস্থায় তিনি আবার ফিরে আসেন নিজের দ্বীপে। বিশ্রাম ও নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার যে একটি সম্ভাবনা আছে দ্বীপটিতে, তা তিনি সে সময়ে বুঝতে পারেন। আর এ কারণেই অসলোতে আবার ফিরে না গিয়ে নিজের পারিবারিক ব্যবসার দিকে মনোযোগ দেন।  

জানা যায়, অ্যান্ডারসনের যে পারিবারিক হোটেলটি রয়েছে, এক সময় সে হোটেলেই পথের ক্লান্ত জেলে ও নাবিকরা থামতেন, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করতেন এবং পরবর্তী যাত্রার প্রস্তুতি নিতেন। অ্যান্ডারসনের কারণে বর্তমানে হোটেল কমপ্লেক্সে রয়েছে জেলেদের ঐতিহ্যবাহী দুটি কেবিন, সংস্কার করা একটি গুদামঘর এবং ফিকে হলুদ রঙের একটি বেকারি ভবন।
হোটেলের ওপরের তলায় রয়েছে ছোট একটি মাছ ধরা-সংক্রান্ত জাদুঘর। সেখানে সাদাকালো পুরোনো ছবি আর বহু বছরের ব্যবহারে জীর্ণ হয়ে যাওয়া মাছ ধরার জাল রয়েছে। এগুলোর মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে স্টটের এক সময়ের ব্যস্ত দিনের গল্প। হোটেলের নিচতলার রেস্তোরাঁতেও অতীতের সেই সময়ের ছাপ রয়েছে। দেয়ালে ঝুলছে ঐতিহাসিক পোস্টার ও হিসাবের খাতা। এভাবেই স্টটের বর্তমান নীরবতার ভেতরেও অ্যান্ডারসন ধরে রাখার চেষ্টা করছেন ব্যস্ত অতীতের স্মৃতি। 

আরও পড়ুন

×