ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এআই নিয়ে দুই নেতার মতপার্থক্য

এআই নিয়ে দুই নেতার মতপার্থক্য
×

হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্প -এএফপি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:১২

| প্রিন্ট সংস্করণ

নজিরবিহীন অভ্যর্থনা ও উষ্ণ আপ্যায়নের পর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসেছিলেন। কোনো কোনো দিক থেকে হতাশ হতে হয়েছে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে। কোনো ক্ষেত্রে আবার মতপার্থক্য মেনে নিতে হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষক রায়ান হাসের মতে, এই সফরে আড়ম্বরই ছিল মূল বিষয়। ট্রাম্প-শি দুই ঘণ্টারও কম সময় সরাসরি বৈঠক করেছেন। সুনির্দিষ্টভাবে মাত্র দুটি চুক্তির ঘোষণা এসেছে।

চুক্তির একটি হলো– বিনিময় কর্মসূচির জন্য এক লাখ তরুণ আমেরিকানকে চীনে আমন্ত্রণ জানানোর প্রতিশ্রুতি। আরেকটি হলো– আটলান্টার চিড়িয়াখানায় দুটি পান্ডা ধার দেওয়ার সিদ্ধান্ত। রায়ান হাস বলেন, প্রতিযোগিতা থাকলেও সহনীয় সীমার মধ্যে দুই দেশের সম্পর্ক পরিচালিত হতে পারে। এটি দেখানোই ছিল বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। 

এআই নিয়ে মতপার্থক্য
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি নিয়ে ট্রাম্প ও শির মধ্যে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এআইকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা অতিবুদ্ধিমত্তা বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি প্রযুক্তিটির অগ্রগতি থামাতে রাজি নন। অন্যদিকে শি বলেছেন, এআইকে সবসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে।

সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ডিলান লোহ বলেন, এআইর ঝুঁকি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সাধারণ মতৈক্য আছে। কিন্তু ঝুঁকি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হবে, সে 

সংক্রান্ত অবস্থান ভিন্ন। এ বিষয়ে বড় সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ট্রাম্প বড় প্রতিশ্রুতি পেলেন না
দুই দেশের ভঙ্গুর বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানো হয়েছে।  সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনাইটেড স্টেটস স্টাডিজ সেন্টারের গবেষণা পরিচালক জ্যারেড মন্ডশেইনের মতে, ট্রাম্প আপাতত সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে বেইজিংয়ের সক্ষমতার বিপরীতে নিজেদের দুর্বলতার জায়গাগুলো কমানোর চেষ্টা চলছে।

ট্রাম্প বারবার চীনকে আরও বেশি মার্কিন পণ্য কেনার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে শির এই সফরে বোয়িংয়ের বিমান কিংবা মার্কিন কৃষিপণ্য কেনার বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি আসেনি।
চীনের অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও শি জিনপিংয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোক্তাদের ব্যয় কম। তরুণদের বেকারত্বও দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বর্তমানে চীনের রপ্তানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার এবং বড় মার্কিন শুল্ক এড়ানো বেইজিংয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্পকে রক্ষায় চীন ত্রাতা হবে?
গত বৃহস্পতিবারের বৈঠক শেষে চীনের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, শি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বড় শক্তি হিসেবে চীনের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের ইউএস-এশিয়া সম্পর্কবিষয়ক অধ্যাপক রানা মিটার। 

তাইওয়ান নিয়ে আরও স্পষ্ট বার্তা
শি এবারের সফরে যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। মূলত আগের বার্তাই আরও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। দ্বীপটিকে বেইজিং নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ারও অঙ্গীকার করেছে। অন্যদিকে তাইওয়ান নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। যা দেশ দুটির সম্পর্ককে গাঢ় করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত বুধবার জানান, তাইওয়ানের জন্য ১৪ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন অস্ত্র প্যাকেজ স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে তাইওয়ানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন না রানা মিটার। 

শেষ হয়নি সফর
এদিকে, বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, গতকাল শুক্রবার দুই নেতার আরও কিছু কর্মসূচি ছিল। সেসবের মধ্যে ছিল চা পান ও জাতীয় আর্কাইভ পরিদর্শন। ফলে আরও কিছু ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে আপাতত বেইজিংয়ের জন্য বৈঠকের সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো কূটনৈতিক দৃশ্যপট বা ‘অপটিকস’। ট্রাম্পের ব্যক্তিগতভাবে বিমানবন্দরে শিকে স্বাগত জানানো, জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ভোজ– সব মিলিয়ে চীনে এ সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। 
ট্রাম্প শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ‘সত্যিই দারুণ বন্ধুত্বের’ কথা বললেও চীনা প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য আরও বড়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমপর্যায়ের একটি বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে চীনের অবস্থান নিশ্চিত করাই তার মূল লক্ষ্য। 

 

আরও পড়ুন

×