ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউনেসকোর নামে টিকিট বিক্রির অভিযোগ, ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িসহ ১৫ জায়গায় ইডির অভিযান

ইউনেসকোর নামে টিকিট বিক্রির অভিযোগ, ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িসহ ১৫ জায়গায় ইডির অভিযান
×

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:০২

সংগীতশিল্পী, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ইন্দ্রনীল সেন ও তার ঘনিষ্ঠদের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মঙ্গলবার সকাল থেকে কলকাতা ও আশপাশের জেলায় প্রায় ১৫টি স্থানে একযোগে এ অভিযান শুরু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ইউনেসকোর নাম ব্যবহার করে দুর্গাপূজার টিকিট চড়া দামে বিক্রি এবং বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইন্দ্রনীল সেন ও তার স্ত্রী মধুছন্দা সেনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের তদন্ত করছে ইডি।

অভিযোগ অনুযায়ী, ‘মহানির্বাণ রোড মাস আর্ট সোসাইটি’ নামে একটি সংস্থা ২০২২ সালে ইন্দ্রনীল সেন ও তার স্ত্রীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে। সংস্থাটি নিজেদের ইউনেসকোর অফিসিয়াল অংশীদার হিসেবে পরিচয় দিত বলে অভিযোগ রয়েছে। কলকাতার ২৪টি দুর্গাপূজার মণ্ডপের প্রিভিউ শো দেখানোর নামে চড়া দামে টিকিট বিক্রি করা হয়। অভিযোগে এ ঘটনায় প্রায় ৬০ কোটি রুপির আর্থিক অনিয়মের কথা বলা হয়েছে।

এই অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার কলকাতাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় ইডির একাধিক দল। অভিযানের আওতায় রয়েছে ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাড়ি, হিন্দুস্তান পার্কে তার এক আত্মীয়ের বাড়ি, হাইল্যান্ড পার্কের ইভেন্ট ম্যানেজার অরিজিৎ দাশগুপ্তের বাড়ি, পঞ্চসায়র ও সিঙ্গুরের বাগানবাড়িসহ আরও কয়েকটি ঠিকানা। ইডি কর্মকর্তারা যাওয়ার আগে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষীরা কয়েকটি বাড়ি ঘিরে ফেলেন বলে জানা গেছে। 

অভিযোগ রয়েছে, ২০২২ সালে কলকাতার দুর্গাপূজা ইউনেসকোর ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’ স্বীকৃতি পাওয়ার পর ওই সংস্থাটি গড়ে ওঠে। কলকাতার ২৪টি নামী দুর্গাপূজাকে নিয়ে একটি জাদুঘর বা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হতো। সেখানে পূজামণ্ডপগুলোর থিম ও শিল্পকর্ম প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংস্থাটি দাবি করত, এ উদ্যোগ ইউনেসকোর সঙ্গে যৌথভাবে করা হয়েছে।

তবে অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের দাবি, ইউনেসকো কখনোই ওই বাণিজ্যিক উদ্যোগ বা প্রদর্শনীর সঙ্গে যুক্ত ছিল না। তার অভিযোগ, ইউনেসকোর নাম ব্যবহার করে ভুয়া আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কথা প্রচার করে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের কাছে চড়া দামে টিকিট বিক্রি করা হতো। টিকিট বিক্রির পাশাপাশি স্পনসরশিপ ও পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রেও আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগকারীদের দাবি, ইন্দ্রনীল সেন তৎকালীন সরকারের মন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এতদিন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি ক্ষমতার পরিবর্তনের পর জুন মাসে বউবাজার থানায় ইন্দ্রনীল সেন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরপর দুটি লিখিত অভিযোগ করা হয় বলে জানা গেছে। পরে প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের (পিএমএলএ) আওতায় মামলা হওয়ায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে নামে ইডি।

আরও পড়ুন

×