ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দূষিত নগরে ব্যায়াম, ঝুঁকি কমানোর সহজ উপায়

দূষিত নগরে ব্যায়াম, ঝুঁকি কমানোর সহজ উপায়
×

ছবি: গেটি ইমেজেস

বিবিসি

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:০২ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৫৫

শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই। হাঁটা, দৌড়ানো কিংবা সাইকেল চালানোর মতো শরীরচর্চা শরীর ও মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু শহরের ব্যস্ত সড়ক, যানজট আর দূষিত বাতাসের মধ্যে বাইরে ব্যায়াম করতে গেলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ ব্যায়ামের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি বাতাস ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং সেই বাতাস দূষিত হলে ক্ষতিকর কণাও শরীরে ঢোকার সুযোগ বাড়ে। তবে বায়ুদূষণের কারণে ব্যায়াম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ব্যায়ামের সময় ও স্থান একটু বুদ্ধিমানের মতো বেছে নিলে দূষিত বাতাসের সংস্পর্শ অনেকটাই কমানো যায়।

ব্যস্ত সড়ক এড়িয়ে চলুন

ব্যায়ামের জন্য যানজটপূর্ণ ও ব্যস্ত প্রধান সড়কের পরিবর্তে তুলনামূলক নিরিবিলি রাস্তা বা সবুজ এলাকা বেছে নিন। সম্ভব হলে পার্ক, মাঠ বা গাছপালা বেশি থাকা জায়গায় হাঁটা কিংবা দৌড়ানো ভালো। ব্যস্ত সড়ক থেকে মাত্র এক বা দুই রাস্তা দূরে গেলেও দূষণের সংস্পর্শ কমতে পারে। তাই কয়েক মিনিট বেশি সময় লাগলেও পাশের রাস্তা ব্যবহার করা যেতে পারে।

যানজটের সময় ব্যায়াম নয়

রাস্তায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকলে দূষণের মাত্রাও বেড়ে যেতে পারে। তাই সম্ভব হলে ব্যস্ত সময়ে বাইরে ব্যায়াম করা এড়িয়ে চলুন। বিশেষ করে যানজটে আটকে থাকা গাড়ির কাছাকাছি দীর্ঘ সময় অবস্থান না করাই ভালো।

গরম ও রোদেও সতর্ক থাকুন

গরম ও রৌদ্রোজ্জ্বল সময়ে বাতাসে ওজোনের মাত্রা বাড়তে পারে। তাই তীব্র গরমের সময় বাইরে ব্যায়াম না করে তুলনামূলক আরামদায়ক সময়ে শরীরচর্চা করা ভালো।

এয়ার কোয়ালিটি দেখে বের হন

বাইরে ব্যায়াম করার আগে এলাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা বায়ুর মান দেখে নিতে পারেন। দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে সেদিন বাইরে না গিয়ে ঘরের ভেতরে ব্যায়াম করাই ভালো।

ব্যায়ামের জায়গা বদলান

প্রতিদিন একই ব্যস্ত সড়কে দৌড়ানো বা হাঁটার প্রয়োজন নেই। আশপাশে পার্ক, খেলার মাঠ কিংবা অপেক্ষাকৃত কম ব্যস্ত কোনো জায়গা থাকলে সেটিকে ব্যায়ামের জন্য বেছে নিতে পারেন। সাইকেল চালানোর ক্ষেত্রেও প্রধান সড়কের পরিবর্তে কম যানবাহন চলাচল করে এমন রাস্তা ব্যবহার করা যেতে পারে।

শারীরিক সমস্যায় বাড়তি সতর্কতা

হাঁপানি, হৃদরোগ বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা থাকলে দূষিত বাতাসে ব্যায়াম করার সময় আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বায়ুর মান খারাপ থাকলে বাইরে ব্যায়াম না করে ঘরে শরীরচর্চা করা নিরাপদ বিকল্প হতে পারে।

ব্যায়াম বন্ধ নয়, সচেতনতা জরুরি

বায়ুদূষণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হলেও নিয়মিত শরীরচর্চার উপকারও গুরুত্বপূর্ণ। তাই দূষণের কারণে ব্যায়াম বন্ধ না করে সময়, স্থান ও বায়ুর মান বিবেচনা করে শরীরচর্চার অভ্যাস চালিয়ে যাওয়া যায়। দূষিত নগরে সুস্থ থাকতে ব্যায়ামের পাশাপাশি দূষিত বাতাসের সংস্পর্শ যতটা সম্ভব কমানোই গুরুত্বপূর্ণ।

দূষিত নগরে ব্যায়াম করার ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো সতর্কতা। বায়ুর মান দেখে সময় ও স্থান নির্বাচন, ব্যস্ত সড়ক এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন হলে ঘরের ভেতরে ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুললে দূষিত বাতাসের সংস্পর্শ কমিয়ে নিয়মিত শরীরচর্চা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন

×