হামলা-মামলা করে আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না: বাম জোট
সোমবার পল্টন মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বাম গণতান্ত্রিক জোট
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২০ | ১০:২৬
তাজরীন ও এ-ওয়ান পোশাক কারখানার আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশি হামলা ও তাদের পিটিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। নেতারা বলেছেন, বর্তমান সরকার রাতের আঁধারে ভোটডাকাতি করে ক্ষমতাসীন হয়েছে। তাই তারা রাতের আঁধারেই অসহায় মানুষকে আক্রমণ করে তাদের দমন করতে চায়। কিন্তু হামলা-মামলা করে ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন দমন করা যাবে না।
সোমবার রাজধানীর পল্টন মোড়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা এসব কথা বলেন। এদিন ভোরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থানরত তাজরীন ও এ-ওয়ানের শ্রমিকদের ওপর পুলিশি হামলা ও উচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজিত হয়।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও সিপিবি'র প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইউসিএলবি'র সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা খালেকুজ্জামান লিপন, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মীর মোফাজ্জল হোসেন মোস্তাক, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদের (মার্কবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা ফখরুদ্দিন কবির আতিক। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
নেতারা বলেন, তাজরীনের আহত শ্রমিকরা তিন দফা দাবিতে গত আশি দিন ধরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের উন্মুক্ত আকাশের নিচে অবস্থান করেছেন। তাদের দাবি সরকারের কানে প্রবেশ করেনি। উপরন্তু সরকার ও গার্মেন্ট মালিকদের নির্দেশে পুলিশ দিয়ে আহত শ্রমিকদের পিটিয়ে আহত ও উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ-ওয়ানের শ্রমিকরাও ১১ মাস ধরে মজুরি বঞ্চিত। তাদের মজুরি দেওয়ার ব্যবস্থা না করে পুলিশ লাঠিপেটা করেছে।
তারা আরও বলেন, এই সরকার গণবিরোধী এবং মালিকদের সরকার। তাই শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের দাবি তাদের কাছে পৌঁছায় না। সরকার পাটকল ও চিনিকলসহ সব রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ইতোমধ্যে সব পাটকল বন্ধ করে দিয়েছে। এখন ছয়টি চিনিকল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই রাষ্ট্রবিরোধী, শ্রমিকবিরোধী অনির্বাচিত সরকারের আর ক্ষমতায় টিকে থাকার কোনো অধিকার নেই। এক শতাংশ ধনিকদের এই সরকারের বিরুদ্ধে শ্রমজীবী-মেহনতি মানুষকে মাঠে নেমে আসতে হবে।
তাজরীনের আহত শ্রমিকদের তিন দফা ও এ-ওয়ান শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি অবিলম্বে পরিশোধের দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, সরকার বুঝতে পেরেছে তার পায়ের নিচের মাটি ক্রমে সরে যাচ্ছে। তাই পুলিশি নির্দেশের মাধ্যমে সভা-সমাবেশ-মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অবিলম্বে এ ধরনের অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহরের দাবি জানাই।
- বিষয় :
- বাম গণতান্ত্রিক জোট
- বিক্ষোভ সমাবেশ