ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিএনপির পদযাত্রা

সাত জেলায় ব্যাপক সংঘর্ষ, লক্ষ্মীপুরে কর্মী নিহত

সাত জেলায় ব্যাপক সংঘর্ষ, লক্ষ্মীপুরে কর্মী নিহত
×

রাজধানীর মিরপুর বাঙলা কলেজের সামনে মঙ্গলবার মোটরসাইকেলে আগুন দেয় বিএনপি নেতাকর্মীরা - সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৩ | ০৪:৩৬

সরকার পতনের এক দফা দাবিতে বিএনপির দেশব্যাপী পদযাত্রা কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। কোথাও আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতাকর্মী, আবার কোনো জায়গায় সংঘর্ষ ত্রিমুখী রূপ নেয়। পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। লক্ষ্মীপুরে দফায় দফায় সংঘর্ষে মো. সজীব নামের কৃষক দলের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। বিএনপির দাবি, সজীবকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী অংশ নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ গুলি ও টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে। সাতটি জেলায় পুলিশসহ পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বিএনপির বহু নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

 লক্ষ্মীপুরে সংঘর্ষে পুলিশসহ দেড় শতাধিক আহত হয়েছেন। কিশোরগঞ্জে আহত হয়েছেন বিএনপির অর্ধশত কর্মী। খাগড়াছড়ি শহরে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। আটক করা হয়েছে ১২ জনকে। পিরোজপুরে পুলিশের লাঠিপেটায় বিএনপির ৩৪ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে বগুড়া শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে শতাধিক আহত হয়েছেন। পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের শেল ও শটগানের গুলিতে শব্দ-আতঙ্ক ও শ্বাসকষ্টে অর্ধশত ছাত্রী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৩ জনকে হাসপাতালে নিতে হয়। ফেনীতে দফায় দফায় সংঘর্ষে শতাধিক আহত হয়েছেন। জয়পুরহাটে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।

মিরপুরে সংঘর্ষ: এদিকে, রাজধানীর গাবতলী থেকে শুরু হয়ে বিএনপির পদযাত্রা মিরপুর বাঙলা কলেজগেট পার হওয়ার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। দুই পক্ষ ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পরে বিএনপির সমর্থকরা একটি মোটরসাইকেল ও একটি বাইসাইকেলে আগুন দেয়। সংঘর্ষের সময় বাঙলা কলেজের সামনে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর হাতে বাঁশের বড় বড় লাঠি দেখা গেছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আরিফ হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, বেলা ১১টার দিকে বিএনপির পদযাত্রা বাঙলা কলেজ এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। পদযাত্রা ওই এলাকা পার হওয়ার সময় বাঙলা কলেজের ভেতর থেকে ঢিল ছোড়া হলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তাতে কয়েকজন আহত হন। বিএনপির নেতাকর্মীরা এ সময় কলেজের গেট ভাঙচুর করেন। রাস্তায় থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয় এ সময়। মোটরসাইকেলটি বাঙলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি রুবেল হোসেনের বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়।

পদযাত্রায় থাকা শ্রমিক দলের কর্মী আবিদ আলী বলেন, আমরা স্লোগান তুলে যাচ্ছি, সে সময়ে কলেজের ভেতরে সরকারি দলের নেতাকর্মী ইটপাটকেল মারে। ধাওয়া করার পর তারা পিছু হটেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার জসিম উদ্দীন মোল্লা বলেন, মিছিল যাওয়ার সময় ঢিল ছোড়ার ঘটনা থেকে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

রাজধানীতে বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে অবশ্য অন্য এলাকায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুলিশের পক্ষ থেকে সব জায়গায় এসকর্ট সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচি ঘিরে তাদের রুট ম্যাপ ধরে মোড়ে মোড়ে পুলিশের বাড়তি নজরদারি ছিল। ডিএমপির পক্ষ থেকে পদযাত্রার পেছনের অংশে দুটি ইউনিটকে পিকআপ ভ্যানে নিরাপত্তা দেওয়া হয়।

লক্ষ্মীপুরে মৃত্যু: লক্ষ্মীপুরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে কৃষক দলের কর্মী সজীব নিহত হয়েছেন। এ সময় ৩০ পুলিশসহ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দেড় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে র‍্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আহত বেশির ভাগই বিএনপির নেতাকর্মী বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিকেলে লক্ষ্মীপুর বেসরকারি আধুনিক হাসপাতালের সামনে, শহরের সামাদ মোড়, বাগবাড়ী, তেরবেকী ও উত্তর তেহমুনী, চৌধুরী সুপারমার্কেট এলাকায় এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বিকেল ৪টার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরে বিএনপি পদযাত্রা বের করে। অন্যদিকে শহরের উত্তর তেহমুনী থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা শান্তি মিছিল বের করেন। এ সময় সংঘর্ষে বিএনপির ৩৫ ও আওয়ামী লীগের সমানসংখ্যক নেতাকর্মী আহত হন। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাসিবুর রহমান জানান, শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। নেতাকর্মী ব্যারিকেড ভেঙে সামনে গেলে পুলিশ গুলি ও টিয়ার গ্যাস ছোড়ে। এতে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের হামলায় ১৫ নেতাকর্মী আহত হন। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নির্মমভাবে কুপিয়ে কৃষক দলের কর্মীকে হত্যা করেছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু বলেন, আওয়ামী লীগের ডাকা শান্তি সমাবেশে আসার পথে বিএনপির হামলায় ৩৫ নেতাকর্মী আহত হন। তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিএনপির কোন্দলেই তাদের কর্মী নিহত হয়েছেন। পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ সাংবাদিকদের জানান, বিএনপির নেতাকর্মী পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় পুলিশের কর্মকর্তাসহ ৩০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

বগুড়া শহর রণক্ষেত্র: বগুড়ায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীর দফায় দফায় সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল (টিআর) ও শটগানের গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে শহরের কেন্দ্রস্থল সাতমাথার আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ ঘটনায় স্কুলছাত্রী, পুলিশসহ অন্তত শতাধিক আহত হয়েছেন। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে ২০০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বনানী প্রান্তের পদযাত্রা শহরের ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড়ে পৌঁছালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, কয়েক হাজার নেতাকর্মীর এই পদযাত্রা ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড়ে এসে সাতমাথার দিকে অগ্রসর হতে চায়। এ সময় সাতমাথার পাশে শহীদ খোকন পার্কে আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রা চলছিল। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ তাদের সাতমাথার দিকে না যেতে বলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রথমে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠি নিয়ে হামলা শুরু করে। একপর্যায়ে বিএনপি ও পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও শটগানের গুলি ছোড়ে। পরে এই সংঘর্ষই প্রায় দুই ঘণ্টা সাতমাথা ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে সংঘর্ষের পর বিএনপির নেতাকর্মীরা শহরের নবাববাড়ি রোডে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। পরে সেখানেও পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে নবাববাড়ি সড়কের রানার প্লাজার সামনে থেকে বিএনপির কার্যালয় পর্যন্ত। দুপুর ২টার দিকে পুলিশ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের দিকে এগিয়ে গেলে ওপর থেকে তিনটি হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ। পরে শহরের সাতমাথায় দুই দলের নেতাকর্মীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আখতার বলেন, পদযাত্রা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের অন্তত ২৫ সদস্য আহত হয়েছেন।

ফেনীতে দফায় দফায় সংঘর্ষ: ফেনীতে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে বিএনপি কর্মীদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করে। এতে বিএনপি কর্মী, সাংবাদিক, পুলিশসহ শতাধিক লোক আহত হন। বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে বিএনপির পদযাত্রা শহরের দাউদপুল স্মৃতি কমিউনিটি সেন্টার থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ শহরের জিরো পয়েন্টে শান্তি সমাবেশ ডাকলে পুলিশ বিএনপির পদযাত্রাকে সংক্ষিপ্ত করে পাঁচগাছিয়া সড়ক ধরে ইসলামপুর রোড পর্যন্ত যেতে অনুমতি দেয়। পরে বিএনপির বিশাল মিছিল শুরু হয়। এ সময় শহরের ট্রাঙ্ক রোডে আওয়ামী লীগ সভা শুরু করে। বিএনপির মিছিলটি পাঁচগাছিয়া রোড ধরে অগ্রসর হতে থাকলে ইসলামপুর রোডের মাথায় পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশ এক পর্যায়ে লাঠিচার্জ করে।

এ সময় বিএনপির কর্মীরা পুলিশের প্রতি ইট নিক্ষেপ করতে থাকে। পুলিশ বিএনপি কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও ২৫ রাউন্ড টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় শহরের ট্রাঙ্ক রোড, পাঁচগাছিয়া সড়ক ও বাজার এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ এ সময় ২২০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও গুলিবর্ষণ করে। অন্যদিকে বিএনপির কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। বিকেল ৫টার দিকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে মিলে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলতে দেখা যায়।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন জানান, তাদের শতাধিক কর্মী গুলি ও পুলিশের টিয়ার শেলে আহত হয়েছেন। পুলিশ সুপার বলেন, পদযাত্রাটি শান্তিপূর্ণভাবেই শুরু হয়। তবে কেন সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জে গুলিতে আহত অর্ধশত: কিশোরগঞ্জে বিএনপির পদযাত্রায় পুলিশ রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করেছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরও করা হয়েছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপির পদযাত্রাটি শহরের রথখোলা এলাকা অতিক্রম করার সময় পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় উত্তেজনা তৈরি হলে পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে। তখন পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের গুলিতে শহরের হারুয়া এলাকায় অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ দাবি করেছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা। ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা হয়নি বলেও তিনি জানিয়েছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাক সরকার জানান, বিএনপির বড় আকারের মিছিলটি শহরব্যাপী প্রদক্ষিণ করতে গেলে যানজট ও রোগী বহনকারী বাহনেরও সমস্যা হচ্ছিল। এ সময় বাধা দিলে বিএনপির কর্মীরা পুলিশের ওপর চড়াও হন। সদর থানার একটি গাড়ি ভাঙচুর করেছেন। তখনই পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। এ ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা হবে।

খাগড়াছড়ি শহরে সংঘর্ষে আহত ২২: খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বর থেকে আদালত সড়কজুড়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে দুই দলের নেতাকর্মীর মধ্যে। এতে তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ উভয় পক্ষের ২২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সদর থানার এসআই মামুন হোসেন ও শিক্ষানবিশ আইনজীবী ইকু বাবু চাকমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ১২ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। আওয়ামী লীগের ১৫ নেতাকর্মীকে জেলা সদরের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পৌরসভার গেটসংলগ্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উন্নয়ন শোভাযাত্রার জন্য জড়ো হন। এ সময় বিএনপির অনুসারীরা পৌরসভাসংলগ্ন এলাকা অতিক্রমকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নেয়। পুলিশ বেশ কয়েকটি টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

পিরোজপুরে পুলিশের লাঠিপেটা, আহত ৩৪: বিএনপির নেতাকর্মী পিরোজপুর-হুলারহাট সড়কের ফায়ার সার্ভিসের সামনে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করে ও স্লোগান দেন। এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের ব্যানার-ফেস্টুন ছিনিয়ে নেয় এবং ধস্তাধস্তি হয় বলে অভিযোগ করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। এ সময় পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীকে লাঠিপেটা করে। পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীর ধস্তাধস্তি ও লাঠিপেটায় পুলিশসহ ৩৪ নেতাকর্মী আহত হন। পিরোজপুর সদর থানার ওসি আবীর মোহাম্মদ হোসেন জানান, বিএনপির হামলায় তিনিসহ পুলিশের ৯ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ ১০ জনকে আটক করেছে।

জয়পুরহাটে আহত ৩০: জয়পুরহাট শহরের স্টেশন সড়কে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীর মধ্যে এ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শটগানের ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৩০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা স্টেশন রোডে অবস্থিত বিএনপির কার্যালয়ের মূল গেটসহ চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেছেন। বর্তমানে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে সেখানে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিএনপির জেলা কার্যালয় ভাঙচুর করেন। এ সময় পুলিশ শটগানের ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়লে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

অন্যান্য: মানিকগঞ্জ শহরের বেউথা মোড় এলাকায় বিএনপির পদযাত্রা পুলিশ আটকে দেয়। পরে পথেই সমাবেশ করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। টাঙ্গাইল শহরে পদযাত্রা চলাকালে বিএনপির তিন নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। নোয়াখালী প্রেস ক্লাব সড়ক ও জেলা শহরের বিশ্বনাথ এলাকায় বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশি বেষ্টনী ও বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। রাজবাড়ীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে জেলা বিএনপির চার নেতাসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে দলীয় কার্যালয়। নেত্রকোনা শহরে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীর হামলায় বিএনপির অন্তত চারজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

হিট স্ট্রোকে যুবদল নেতার মৃত্যু: ময়মনসিংহ নগরীর চরপাপড়া এলাকায় বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমীন সরকার (৪০) মারা গেছেন। তিনি সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের এক নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন।

প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্যুরো এবং জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা। 

আরও পড়ুন

×