চলে গেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন
আখতার হুসেন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:২১
‘আমরা তো সৈনিক, শান্তির সৈনিক’–ছাত্র ইউনিয়ন ও খেলাঘরের পরিচিত সংগীতের রচয়িতা কবি, শিশুসাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক আখতার হুসেন আর নেই। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। মৃত্যুর আগে চার দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
১৯৪৫ সালের ১ নভেম্বর জন্ম নেওয়া আখতার হুসেনের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নানা অধ্যায়। তিনি বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। শিশুসংগঠন খেলাঘরের সংগঠক হিসেবেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে।
সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি সৃজনশীল লেখালেখিতেও ছিল তাঁর বিস্তৃত বিচরণ। ছড়া, গল্প, কবিতা, নাটক ও গান লিখেছেন তিনি। শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক চর্চার পরিসরে তাঁর সাহিত্যকর্ম ও সাংগঠনিক ভূমিকা তাঁকে আলাদা পরিচিতি দেয়। তাঁর লেখা ‘আমরা তো সৈনিক, শান্তির সৈনিক’ গানটি ছাত্র ইউনিয়ন ও খেলাঘরের সংগীত হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
ব্যক্তিজীবনে আখতার হুসেন দুই ছেলে পান্থ হুসেন ও প্রমিত হুসেনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর স্ত্রী মল্লিকা হুসেন আগেই মারা গেছেন।
বাবার শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়ে ছোট ছেলে প্রমিত হুসেন বলেন, সিরাজগঞ্জের রহমতগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের পাশে বাবাকে দাফন করা হবে।
প্রমিত হুসেন জানান, বৃহস্পতিবার তেজকুনীপাড়ায় তাঁদের বাসভবনের কাছে রেলওয়ে কলোনি মসজিদে আখতার হুসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাঁর মরদেহ রাখা হবে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে সিরাজগঞ্জে।
সাহিত্যচর্চা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দুই ক্ষেত্রেই সক্রিয় ছিলেন আখতার হুসেন। ছড়া, গল্প, কবিতা, নাটক ও গানের মাধ্যমে তিনি সাহিত্য ও সংস্কৃতির পরিসরে নিজের স্বাক্ষর রেখেছেন। পাশাপাশি উদীচী ও খেলাঘরের সঙ্গে যুক্ত থেকে সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
- বিষয় :
- মৃত্যু