ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাক্ষাৎকারে তালহা জুবায়ের

বিশ্ব মাতাবে আমাদের পেসাররা

বিশ্ব মাতাবে আমাদের পেসাররা
×

সেকান্দার আলী

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:১৬

দেশের পেস বোলিংয়ে উত্থানের সঙ্গে কমবেশি জড়িয়ে আছেন তালহা জুবায়ের। তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদদের নিয়ে নিয়মিত কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। জাতীয় দলের এই পেস বোলিং কোচ জানান, দেশে পেসারদের উত্থানের পেছনে সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক ও পেস বোলিং কোচ অটিস গিবসনের অবদান সবচেয়ে বেশি। তালহা জুবায়েরের একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সেকান্দার আলী

সমকাল: বাংলাদেশের পেস ইউনিটে কতটা পরিবর্তন দেখছেন?
তালহা:
আমাদের ফাস্ট বোলাররা বিশ্বের কাছে নিজেদের চেনাতে পারছে। খুব বেশি সময় লাগবে না, বিশ্ব ক্রিকেটে আমরা প্রভাব বিস্তার করব। এটা নির্ভর করবে নিজেদের ধারাবাহিকতার ওপর। ওয়ার্ক ইথিকস এবং মেনটেইন ইস্যুতে পরের প্রজন্মের জন্য দিকনির্দেশনা রেখে যেতে পারলে ধারাবাহিকতা থাকবে। বাংলাদেশ থেকে বড় বড় পেস বোলার দেখতে পাবে বিশ্ব ক্রিকেট। 

সমকাল: স্পিন থেকে পেস বোলিংয়ে জাগরণ হলো কীভাবে?
তালহা:
আমরা যখন খেলেছি, তখন একটি করে ফাস্ট বোলার এসেছে। সেই বোলার চোটে না পড়া পর্যন্ত খেলেছে। কোনো প্রক্রিয়া মানা হতো না। আমরা এখন সব প্রক্রিয়া মানি। আন্তর্জাতিক গাইড লাইন দেওয়া আছে, সেটা অনুসরণ করে পেস বোলারদের প্রস্তুত রাখি। বর্তমান কোচ, ট্রেনার, ফিজিও এ বিষয়ে সুশিক্ষিত। আমরা সবাই জানি ফাস্ট বোলাররা কীভাবে মেনটেইন করবে। এখনকার ফাস্ট বোলাররা অনেক ভাগ্যবান এ রকম সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। একজনের পেছনে লেগে থেকে ভালো বোলার বানানো যায় না। এদিক থেকে বলব, আমাদের ফাস্ট বোলাররা অনেক সুশৃঙ্খল, নিজেদের যত্ন নিজেরা করে। এই প্রজন্ম যে মানে রয়েছে, পরের প্রজন্মকে আরও ভালো করে আসতে হবে জাতীয় দলে। এই যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়েছে, সেটা সামনে এগিয়ে নেবে। 

সমকাল: আপনার কি মনে হয় পেস বোলিংয়ের চেইনটা ঠিক আছে?
তালহা:
মুস্তাফিজুর রহমানের সমমানের বোলার পাব না। তার জায়গায় যে নতুন ছেলে আসবে, তাকে পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে ভালো করার জন্য। ম্যাচ খেলে খেলে প্রস্তুত হতে হবে। ঘরোয়া লিগ, বিপিএল যতই খেলুক না কেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো করতে হলে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ডিফারেন্ট বল গেম। ওই পর্যায়ে একজন বোলারকে পর্যাপ্ত সময় দিলে ভালো করবে নিশ্চিত। 

সমকাল: ২০১৬ সাল থেকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট লিগ স্পোর্টিং উইকেটে খেলা হচ্ছে। আজকের ফাস্ট বোলিং ইউনিট কি তারই ফল?
তালহা:
জাতীয় ক্রিকেট লিগের কিছু উদ্যোগ কাজে দিয়েছে। ডিউক বলে খেলায় সুইংটা বেড়েছে। ব্যাটারদের জন্য ডিউক বলে খেলা কঠিন ছিল। আমরা গত বছরও ডিউক বলে খেলেছি। আমি বলব, পেস বোলারদের উত্থানের পেছনে একটা বড় ভূমিকা আছে মমিনুল হকের। বেশি সংখ্যক ফাস্ট বোলারদের ম্যাচ খেলাতে অনেক পুশ করেছে সে। তিনটি ফাস্ট বোলার খেলেছে তার সময়ে। মুমিনুল বুঝতে পেরেছিল ভালো ফাস্ট বোলিং ইউনিট না হলে বিদেশে গিয়ে ম্যাচ জেতা সম্ভব হবে না। ফাস্ট বোলারদের অনেক গাইড করত এবং যত্ন নিত মুমিনুল। অটিস গিবসনের একটা বড় অবদান ছিল। তাঁর কাছ থেকে আমাদের ফাস্ট বোলাররা অনেক উপকৃত হয়েছে। আমার মনে হয় বাংলাদেশে পেস বোলিংয়ের বিপ্লব ঘটেছে মুমিনুল হক ও অটিস গিবসনের কারণে। ফাস্ট বোলারদের অনেক কিছু পরিবর্তন করেছেন তারা। 

সমকাল: জাতীয় দলে দেশি কোচ থাকা বোলারদের কমফোর্ট জোন কিনা?
তালহা:
কমফোর্ট জোন তো অবশ্যই থাকে। জাতীয় দলে হয়তো এখন কাজ করছি, তারও আগে অনেক কাজ করেছি এই বোলারদের সঙ্গে। আমি, বাবুল ভাই, সালাউদ্দিন ভাই, সোহেল ভাই জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করি, যখন তারা বাইরে থাকে। টেস্ট দল সফরে থাকলে ওয়ানডে ও টি২০ ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করি। টাইগার্সে কাজ করেছি। আমরা মানসিক সংযোগ ঘটাতে পারি, কিছু সময় ভালো কথা বলে, কিছু সময় কঠিন কথা বলে। যেটা ক্রিকেটারদের উন্নতিতে সহায়ক। 

সমকাল: বিদেশি কোচদের সঙ্গে নিয়মিত দেশি কোচ রাখা উচিত বলে মনে করেন?
তালহা:
অবশ্যই। শেখার কোনো শেষ নেই। জাতীয় দলে কোনো বিদেশি পেস বোলিং কোচ এলে তাঁর সঙ্গে কাজ করলে অনেক কিছু শেখার সুযোগ থাকে। তবে আমি যে তিন-চারটি সিরিজে কাজ করেছি, সেখানে আলাদা কিছু মনে হয়নি। প্রতিপক্ষ মাথায় রেখে পরিকল্পনা দিতে হয়। বাকি প্রক্রিয়া একই।  

সমকাল: তামিম ইকবাল বিসিবি সভাপতি হওয়ার পর আপনাদের অনেক সুযোগ দিচ্ছেন। 
তালহা:
আরও আগে থেকে বিদেশি কোচের অধীনে কাজ করার সুযোগ দিলে এত দিনে জাতীয় দলের কোচিং প্যানেলের পুরোটা আমাদের থাকত। অ্যালান ডোনাল্ডের সঙ্গে আমাদের যে কেউ থাকলে ভালো হতো। আমরা যারা পেস বোলিং কোচ আছি, তারা দুটি করে সিরিজে কাজ করলে কিছু না কিছু শেখা হতো। সেগুলো নিয়ে আমরা পর্যালোচনা করে ভালো জায়গায় পৌঁছে যেতাম। কীভাবে তারা জাতীয় দল চালায়, তাদের পরিকল্পনা কেমন থাকে সেগুলো দেখে অভিজ্ঞ হয়ে যেতাম। এই প্রক্রিয়ায় ১০ বছর অনুসরণ করা হলে বিদেশিদের ওপর নির্ভর করতে হতো না। আমার যোগ্যতা না থাকলে জাতীয় দলের আশপাশে আসতে পারতাম না। সোহেল ভাই, সালাউদ্দিন ভাই এত দিন ধরে কাজ করছেন। তারা যোগ্য না হলে কাজ করতে পারতেন না। বর্তমান বোর্ডকে ধন্যবাদ দেই, দেরিতে হলেও বুঝতে পেরেছে দেশি কোচদের সুযোগ করে দিয়েছে। কারণ নিজের দেশকে যেভাবে অনুভব করবেন, বিদেশিরা সেভাবে করবেন না।   

সমকাল: অস্ট্রেলিয়া সিরিজটা কি ম্যাজিক ছিল, না প্রক্রিয়ার ফল?
তালহা:
ম্যাজিক বলব না। খেলোয়াড়রা যেভাবে খেলেছে, তা প্রক্রিয়ার ফল। ম্যাজিক হলে একটা সেশন বা এক দিন ভালো যেতে পারে, টানা সাড়ে তিন দিন ভালো খেলা, লিডে থাকা সম্ভব হতো না। বিগত দিনে খেলোয়াড়রা যেভাবে প্রস্তুত হয়েছে এবং ভালো করার ব্যাপারে বিশ্বাস অর্জন করেছে এটা তারই ফল। বিগত কয়েক বছরে জেতার যে অভ্যাস হয়েছে, তারই ধারাবাহিকতা দেখেছি অস্ট্রেলিয়ায়। 

সমকাল: সফরে কোন জিনিসটা ভালো লেগেছে?
তালহা:
সবাই খুব শৃঙ্খল ছিল। ভালো কিছু করার জন্য একাগ্র ছিল। অসাধারণ বন্ধন ছিল সবার মাঝে। গভীর ফিলিংস ছিল একজনের প্রতি আরেকজনের। 

সমকাল: দ্বিতীয় টেস্ট হারলেও শিক্ষণীয় ছিল কী?
তালহা:
আমরা হারলেও প্রক্রিয়া ঠিকই ছিল। সব সময় হারা-জেতা দিয়ে একটি দলকে মূল্যায়ন করা সঠিক না। কিছু সিরিজ আছে নতুন খেলোয়াড় দেখবেন। সেখানে হেরে গেলেও সমস্যা নেই। দেখেন অস্ট্রেলিয়া আমাদের কাছে হারায় তাদের ক্রিকেট শেষ হয়ে যায়নি। জিম্বাবুয়ের কাছে আমরা হেরেছি, তাতে আমাদের ক্রিকেট ধ্বংস হয়ে যায়নি। 

সমকাল: হাসান মাহমুদকে কেমন দেখছেন, জাতীয় দল ও কাউন্টিতে খেলা?
তালহা:
আমাদের ছেলেরা যত বিদেশি লিগে খেলবে, তত ভালো। ইংলিশ কাউন্টি মানে ক্রিকেটীয় সংস্কৃতি শেখা। এটা অনেক বড় একটা ব্যাপার। এই জিনিসগুলো একজন ক্রিকেটারকে অনেক পরিণত করে। হাসান মাহমুদ ওখানে ভালো করায় শরিফুল ইসলাম ও খালেদ আহমেদ ডাক পেয়েছে। আশা করি, সুযোগ পেলে খালেদও ভালো করবে। শরিফুলকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি ওয়ার্ক লোড ম্যানেজ করার জন্য। আমরা একটা সময়ে দেখেছি ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুসরা কাউন্টি ক্রিকেটে খেলতেন, এখন বাংলাদেশি ফাস্ট বোলাররা যাওয়া শুরু করেছে। কয়দিন পর আমাদের ব্যাটাররাও খেলবে। স্পিনাররাও যাবে। ওখানে খেললে একটা সংস্কৃতি শেখা যায়, টেস্ট সংস্কৃতি।

আরও পড়ুন

×