ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রথম আলো-স্টার নিউজ নারী ফুটবল টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

প্রথম আলো-স্টার নিউজ নারী ফুটবল টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু
×

ছবি- সমকাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৪৬

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা নারী ফুটবলের নতুন প্রতিভাদের সামনে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের সুযোগ তৈরি করতে শুরু হচ্ছে ‘প্রথম আলো-স্টার নিউজ নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ওয়ান স্টার নিবন্ধিত ৩৬টি নারী ফুটবল একাডেমিকে নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সংবাদ সম্মেলন ও ড্র অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর, সিলেট ও রাজশাহীর একাডেমিগুলো। ঢাকার ৮টি, খুলনার ৭টি, রাজশাহী ও রংপুরের যথাক্রমে ৪ ও ৫টি এবং চট্টগ্রাম ও সিলেটের ৬টি করে মোট ৩৬টি একাডেমি প্রতিযোগিতায় নামবে। আঞ্চলিক পর্বে হবে ২৮টি ম্যাচ। সেখান থেকে আটটি দল উঠে যাবে ঢাকার চূড়ান্ত পর্বে। কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল মিলিয়ে সেখানে হবে আরও সাতটি ম্যাচ। সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টে ম্যাচ ৩৫টি।

২৬ সেপ্টেম্বর রংপুর অঞ্চলের খেলা দিয়ে শুরু হবে আঞ্চলিক পর্ব। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর রাজশাহী, ৪ ও ৫ অক্টোবর খুলনা, ৮ ও ৯ অক্টোবর সিলেট, ১২ ও ১৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম এবং ২৫ ও ২৬ অক্টোবর ঢাকা অঞ্চলের খেলা হবে। ঢাকার ম্যাচগুলো হবে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসে। অক্টোবরের চতুর্থ সপ্তাহে ঢাকায় হবে চূড়ান্ত পর্ব।

সংবাদ সম্মেলেনে টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান কামরুন নাহার ডানা বাংলাদেশের নারী ফুটবলের শুরুর কঠিন সময়ের স্মৃতিও তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে, ২০০৪ সালে মাত্র ছয়টি দল নিয়ে নারী ফুটবলের প্রথম টুর্নামেন্ট আয়োজন থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছানোর গল্প। সেই পথচলায় গণমাধ্যম, বিভিন্ন সংগঠন ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এবার নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি হওয়ায় ধারাবাহিকতা ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন ডানা।

বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম বলেন, নারী ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো শক্তিশালী পাইপলাইন তৈরি করা। তার মতে, এই ধরনের আয়োজন থেকে শুধু খেলোয়াড় নয়, নারী রেফারি, কোচ ও প্রশাসক তৈরির সুযোগও তৈরি হবে।

নারী ফুটবলের দুই উজ্জ্বল মুখ আলপি আক্তার ও মেঘলা রানী রায়ও টুর্নামেন্টটির প্রশংসা করেছেন। আলপির মতে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক প্রতিভাবান মেয়ের ঢাকায় এসে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ হয় না। নিয়মিত এই আয়োজন হলে তারা নিজেদের পারফরম্যান্স দেখিয়ে কোচদের নজরে আসার সুযোগ পাবে।

টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ হবে নকআউট পদ্ধতিতে। ম্যাচের দৈর্ঘ্য ৭০ মিনিট, দুই অর্ধ ৩৫ মিনিট করে। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ড্র হলে সরাসরি টাইব্রেকারে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে। প্রতিটি একাডেমি সর্বোচ্চ ২৩ জন খেলোয়াড় নিবন্ধন করতে পারবে এবং ম্যাচের জন্য ২০ জন খেলোয়াড় রাখতে পারবে। বয়সের কোনো সীমা থাকছে না।

চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫ লাখ টাকা, রানার্সআপের জন্য থাকছে ৩ লাখ টাকা। পাশাপাশি ম্যাচভিত্তিক বিভিন্ন পুরস্কারও থাকবে।

আরও পড়ুন

×