প্রণোদনার প্রভাব কম কর্মসংস্থানে
করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তার ভূমিকা সামান্য। এই প্রণোদনা মোট কর্মসংস্থানের সামান্য অংশের সঙ্গে সম্পৃক্ত। একই সঙ্গে প্রয়োজনের তুলনায় পরিমাণ অনেক কম এবং পরিধিও সীমিত।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) পর্যালোচনায় এমন মতামত এসেছে। করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কী ভূমিকা রাখছে তা নিয়ে সিপিডি ও অক্সফাম বাংলাদেশ আয়োজিত এক অনলাইন আলোচনা সভায় এ পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়। সভার বক্তারাও সিপিডির এই পর্যালোচনার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, করোনার প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ যথাসময়ে উদ্যোগ নিলেও তা যথেষ্ট নয়। আবার যে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে সেখানে কর্মসংস্থানের উদ্দীপনা নেই। অন্যদিকে করোনা মোকাবিলায় সরকার ৪০০ কোটি ডলারের বৈদেশিক সহায়তা পেয়েছে। এই অর্থ কোথায় ব্যবহার হয়েছে বা কতটুকু কর্মসংস্থানবান্ধব হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, সরকার যে প্রণোদনা দিয়েছে তার যথাযথ প্রচার হয়নি। কার জন্য কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা মানুষ জানে না। স্থানীয় সরকারের দুর্বলতার কারণে সরকারের প্রণোদনা ঠিকমতো বাস্তবায়ন হয়নি।
সিপিডির আরেক সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, করোনা মোকাবিলায় বাজেটে বরাদ্দ কম। সরকার প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা কম করে ঋণের মাধ্যমে প্রণোদনা বাস্তবায়ন করছে। যেখানে ঋণ দেওয়া হচ্ছে সেখানে কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শুরুতে বক্তব্য দেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, সরকার প্রণোদনা দিচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত খাতের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতি পোষাতে পারলেও ছোটরা তা পারছে না। প্রণোদনা সবক্ষেত্রে পৌঁছায়নি। ফলে কর্মসংস্থানেও প্রভাব ফেলছে কম।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শ্রম সচিব কে এম আব্দুস সালাম বলেন, করোনাভাইরাসের পাশাপাশি এ বছর দীর্ঘস্থায়ী বন্যা হয়েছে। ফলে শিল্প-বাণিজ্যের পাশাপাশি কৃষি খাতেও বেকারত্ব বেড়েছে। সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেক উদ্যোগ নিচ্ছে। এ জন্য বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে। এনজিওগুলো তাদের অর্থায়ন কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনতে পারে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আলোচক বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদ বলেন, সাধারণ ছুটির পরে অনেক কারখানা খুললেও সেখানকার বয়স্ক কর্মী বিশেষ করে যাদের বয়স ৪০ বছরের বেশি তাদের অনেককে নেওয়া হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানগুলো কম লোক দিয়ে কাজ করাতে চাচ্ছে। এতে শ্রমিকদের শরীর ও মনের ওপর চাপ বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, কর্মসংস্থানের জন্য চাহিদা সৃষ্টি হয় এমন উদ্যোগ নিতে হবে। প্রণোদনা দিতে হবে চাহিদা ও কর্মসংস্থান বিবেচনা করে। প্রণোদনা পাওয়ার পদ্ধতি সহজ করতে হবে। পাশাপাশি নতুন ধরনের প্রয়োজনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর দক্ষতা সৃষ্টি করতে হবে।
সোস্যালিস্ট লেবার ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কৃষি উৎপাদন, বিপণন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বাড়াতে হবে। অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ক্ষুদ্র পুঁজিকে সহায়তা করতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
সিপিডির বিশ্নেষণ তুলে ধরেন সংস্থার সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ১৯ খাতে এক লাখ ১৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এসব প্যাকেজের অর্ধেকের বেশিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি উল্লেখ নেই। ইতোমধ্যে যারা প্রণোদনা পেয়েছেন তারা মোট শ্রমশক্তির মাত্র ৮ ভাগ। প্রণোদনা প্যাকেজের পুরো বাস্তবায়ন সম্ভব হলে শ্রমশক্তির ১২ শতাংশ এর সুবিধা পাবেন।
সিপিডির উপস্থাপনায় বলা হয়, বাংলাদেশের প্রণোদনার পরিমাণ এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। এশিয়ার ৩১টি দেশ করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। প্রণোদনার আকার অনুযায়ী এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান ২২তম। বাংলাদেশের প্রণোদনার পরিমাণ মাথাপিছু ৭৪ দশমিক ৩৬ ডলার। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোট ব্যবসায়ীরা সরকারের দেওয়া এ সুবিধার বিষয়টি জানেনই না। ফলে ছোট, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ঘোষণা করা প্রণোদনা বিতরণ হয়েছে অনেক কম। আবার ব্যাংকগুলোর এ বিষয়ে আগ্রহ কম। অন্যদিকে কৃষি খাতে অক্টোবর পর্যন্ত ৪৫ শতাংশ প্রণোদনা বাস্তবায়ন হয়েছে। তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, আগামীতে প্রণোদনা বাড়াতে হবে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতাও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি নীতি কাঠামোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অক্সফাম বাংলাদেশের ইকোনমিক ইনক্লুশন বিভাগের প্রধান শোয়েব ইফতেখারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত এনজিওর প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। এনজিও প্রতিনিধিরা হাওর, উপকূলীয় অঞ্চল, দলিত ও আদিবাসী শ্রেণি, নারী, প্রতিবন্ধীদের বেকারত্ব তুলে ধরেন। কয়েকজন বলেন, এনজিওগুলোর মাধ্যমে যে ঋণ বিতরণের কথা বলা হচ্ছে সেখানে ব্যাংকগুলো নানান কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) পর্যালোচনায় এমন মতামত এসেছে। করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কী ভূমিকা রাখছে তা নিয়ে সিপিডি ও অক্সফাম বাংলাদেশ আয়োজিত এক অনলাইন আলোচনা সভায় এ পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়। সভার বক্তারাও সিপিডির এই পর্যালোচনার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, করোনার প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ যথাসময়ে উদ্যোগ নিলেও তা যথেষ্ট নয়। আবার যে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে সেখানে কর্মসংস্থানের উদ্দীপনা নেই। অন্যদিকে করোনা মোকাবিলায় সরকার ৪০০ কোটি ডলারের বৈদেশিক সহায়তা পেয়েছে। এই অর্থ কোথায় ব্যবহার হয়েছে বা কতটুকু কর্মসংস্থানবান্ধব হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, সরকার যে প্রণোদনা দিয়েছে তার যথাযথ প্রচার হয়নি। কার জন্য কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা মানুষ জানে না। স্থানীয় সরকারের দুর্বলতার কারণে সরকারের প্রণোদনা ঠিকমতো বাস্তবায়ন হয়নি।
সিপিডির আরেক সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, করোনা মোকাবিলায় বাজেটে বরাদ্দ কম। সরকার প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা কম করে ঋণের মাধ্যমে প্রণোদনা বাস্তবায়ন করছে। যেখানে ঋণ দেওয়া হচ্ছে সেখানে কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শুরুতে বক্তব্য দেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, সরকার প্রণোদনা দিচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত খাতের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতি পোষাতে পারলেও ছোটরা তা পারছে না। প্রণোদনা সবক্ষেত্রে পৌঁছায়নি। ফলে কর্মসংস্থানেও প্রভাব ফেলছে কম।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শ্রম সচিব কে এম আব্দুস সালাম বলেন, করোনাভাইরাসের পাশাপাশি এ বছর দীর্ঘস্থায়ী বন্যা হয়েছে। ফলে শিল্প-বাণিজ্যের পাশাপাশি কৃষি খাতেও বেকারত্ব বেড়েছে। সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেক উদ্যোগ নিচ্ছে। এ জন্য বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে। এনজিওগুলো তাদের অর্থায়ন কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনতে পারে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আলোচক বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদ বলেন, সাধারণ ছুটির পরে অনেক কারখানা খুললেও সেখানকার বয়স্ক কর্মী বিশেষ করে যাদের বয়স ৪০ বছরের বেশি তাদের অনেককে নেওয়া হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানগুলো কম লোক দিয়ে কাজ করাতে চাচ্ছে। এতে শ্রমিকদের শরীর ও মনের ওপর চাপ বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, কর্মসংস্থানের জন্য চাহিদা সৃষ্টি হয় এমন উদ্যোগ নিতে হবে। প্রণোদনা দিতে হবে চাহিদা ও কর্মসংস্থান বিবেচনা করে। প্রণোদনা পাওয়ার পদ্ধতি সহজ করতে হবে। পাশাপাশি নতুন ধরনের প্রয়োজনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর দক্ষতা সৃষ্টি করতে হবে।
সোস্যালিস্ট লেবার ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কৃষি উৎপাদন, বিপণন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বাড়াতে হবে। অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ক্ষুদ্র পুঁজিকে সহায়তা করতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
সিপিডির বিশ্নেষণ তুলে ধরেন সংস্থার সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ১৯ খাতে এক লাখ ১৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এসব প্যাকেজের অর্ধেকের বেশিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি উল্লেখ নেই। ইতোমধ্যে যারা প্রণোদনা পেয়েছেন তারা মোট শ্রমশক্তির মাত্র ৮ ভাগ। প্রণোদনা প্যাকেজের পুরো বাস্তবায়ন সম্ভব হলে শ্রমশক্তির ১২ শতাংশ এর সুবিধা পাবেন।
সিপিডির উপস্থাপনায় বলা হয়, বাংলাদেশের প্রণোদনার পরিমাণ এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। এশিয়ার ৩১টি দেশ করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। প্রণোদনার আকার অনুযায়ী এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান ২২তম। বাংলাদেশের প্রণোদনার পরিমাণ মাথাপিছু ৭৪ দশমিক ৩৬ ডলার। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোট ব্যবসায়ীরা সরকারের দেওয়া এ সুবিধার বিষয়টি জানেনই না। ফলে ছোট, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ঘোষণা করা প্রণোদনা বিতরণ হয়েছে অনেক কম। আবার ব্যাংকগুলোর এ বিষয়ে আগ্রহ কম। অন্যদিকে কৃষি খাতে অক্টোবর পর্যন্ত ৪৫ শতাংশ প্রণোদনা বাস্তবায়ন হয়েছে। তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, আগামীতে প্রণোদনা বাড়াতে হবে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতাও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি নীতি কাঠামোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অক্সফাম বাংলাদেশের ইকোনমিক ইনক্লুশন বিভাগের প্রধান শোয়েব ইফতেখারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত এনজিওর প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। এনজিও প্রতিনিধিরা হাওর, উপকূলীয় অঞ্চল, দলিত ও আদিবাসী শ্রেণি, নারী, প্রতিবন্ধীদের বেকারত্ব তুলে ধরেন। কয়েকজন বলেন, এনজিওগুলোর মাধ্যমে যে ঋণ বিতরণের কথা বলা হচ্ছে সেখানে ব্যাংকগুলো নানান কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে।
