করোনার ক্ষতি সামলাতে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ প্রয়োজন
করোনাভাইরাসের প্রথম ঢেউয়ের ধাক্কা না কাটতেই দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। এতে অর্থনীতির সব খাতে তৈরি হওয়া অভিঘাত কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অন্তত দুই বছর সময় লেগে যেতে পারে। এ সময়ের মধ্যে সফলভাবে করোনার ক্ষতি সামলাতে কী ধরনের নীতি ও পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে আগামী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়। এসব নীতি-নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যকর নীতি কৌশলও রাখতে হবে। এছাড়া বিগত পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাগুলোর সাফল্য ও ব্যর্থতাও বিবেচনায় নিতে হবে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত সংলাপে এমন অভিমত তুলে ধরেন রাজনীতিক, অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা। গতকাল মঙ্গলবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে এ সংলাপে বক্তারা আরও বলেন, অন্যান্য দেশের মতো শতাব্দীর সবচেয়ে বড় দুর্যোগের কবলে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। আবার স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে তিন বছর পর উত্তরণের কারণে রপ্তানিতে শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা থাকবে না। এছাড়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের সময়সীমা আছে। এমন সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সুস্পষ্ট নীতি-নির্দেশনা এবং বাস্তবায়নের কৌশল থাকা প্রয়োজন।
অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকায় বক্তারা খসড়া সংশোধনের পরামর্শ দেন। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন দুর্বলতার সমালোচনা করে তারা আরও বলেন, রাজস্ব আহরণ, উন্নয়ন বরাদ্দ, ব্যাংক খাত, পুঁজিবাজারসহ অনেক খাতে বিশৃঙ্খলা চলছে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির সঙ্গে রাজস্ব, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য নেই। এছাড়া রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির সংস্কৃতি তৈরি না হওয়ায় অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিও সম্ভব হচ্ছে না। এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট সংস্কার পরিকল্পনা নেওয়ার পরামর্শ দেন তারা।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সংলাপে নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ওপর সংস্থার পর্যালোচনা তুলে ধরেন। নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নের চ্যালেঞ্জের বিষয়ে তিনি বলেন, কভিডের অভিঘাত থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর কাঠামো সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রাধিকার নির্ধারণ জরুরি। একই সঙ্গে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারিশিল্প খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সুপারিশ তুলে ধরেন তিনি।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকার অনেক ভালো পরিকল্পনা নিয়েছে। আরও উন্নয়নের সুযোগও রয়েছে। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির নির্বাহী চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নই বড় সমস্যা। এক্ষেত্রে পরিকল্পনা কমিশন থেকে বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সরকার ও জাতীয় সংসদকে অবগত করা যেতে পারে। সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হলে পরবর্তী সময়ে প্রশ্ন উঠবে না। এছাড়া প্রতিটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অন্তর্বর্তী মূল্যায়ন প্রয়োজন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি না হলে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি হওয়া সম্ভব নয়। দলীয় লোকজনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে সব কিছু। এ কারণে সরকারি সব প্রতিষ্ঠানই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে বের হতে হবে।
সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সাফল্য-ব্যর্থতা মূল্যায়নের পরামর্শ দেন। শ্রমিক নেতা রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, শ্রমিকদের রেশন ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়গুলো থাকতে হবে আগামী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, কভিডের মতো শতাব্দীর এত বড় দুর্যোগ থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় খসড়ার কিছু নেই। এসডিজি অর্জনেও সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নেই এতে। পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, কভিডের পরিপ্রেক্ষিতে পুরোনোসহ আরও নতুন নতুন ক্ষেত্রে সংস্কার উদ্যোগ প্রয়োজন। মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি নিহাদ কবির বলেন, করোনার ক্ষতি কাটাতে সরকারের বিভিন্ন নীতি-পদক্ষেপ বাস্তবায়নে মনিটরিং এবং মূল্যায়ন বাড়াতে হবে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, করোনার আঘাতের পর রপ্তানিতে আরও একটি আঘাত আসছে। ইইউ রপ্তানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংস্কারের পরামর্শ দেন তিনি।
সবার বক্তব্য শুনে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের নেতৃত্বে থাকা পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, 'আমি ক্ষোভের সঙ্গে বলছি, খসড়াটি আগে পড়ূন তারপর সমালোচনা করুন। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় করোনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি- এই বক্তব্য সঠিক নয়।' তিনি বলেন, করোনাকে গুরুত্ব দিয়েই সাজানো হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ও পরিকল্পনার খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত সংলাপে এমন অভিমত তুলে ধরেন রাজনীতিক, অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা। গতকাল মঙ্গলবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে এ সংলাপে বক্তারা আরও বলেন, অন্যান্য দেশের মতো শতাব্দীর সবচেয়ে বড় দুর্যোগের কবলে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। আবার স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে তিন বছর পর উত্তরণের কারণে রপ্তানিতে শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা থাকবে না। এছাড়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের সময়সীমা আছে। এমন সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সুস্পষ্ট নীতি-নির্দেশনা এবং বাস্তবায়নের কৌশল থাকা প্রয়োজন।
অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকায় বক্তারা খসড়া সংশোধনের পরামর্শ দেন। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন দুর্বলতার সমালোচনা করে তারা আরও বলেন, রাজস্ব আহরণ, উন্নয়ন বরাদ্দ, ব্যাংক খাত, পুঁজিবাজারসহ অনেক খাতে বিশৃঙ্খলা চলছে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির সঙ্গে রাজস্ব, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য নেই। এছাড়া রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির সংস্কৃতি তৈরি না হওয়ায় অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিও সম্ভব হচ্ছে না। এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট সংস্কার পরিকল্পনা নেওয়ার পরামর্শ দেন তারা।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সংলাপে নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ওপর সংস্থার পর্যালোচনা তুলে ধরেন। নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নের চ্যালেঞ্জের বিষয়ে তিনি বলেন, কভিডের অভিঘাত থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর কাঠামো সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রাধিকার নির্ধারণ জরুরি। একই সঙ্গে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারিশিল্প খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সুপারিশ তুলে ধরেন তিনি।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকার অনেক ভালো পরিকল্পনা নিয়েছে। আরও উন্নয়নের সুযোগও রয়েছে। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির নির্বাহী চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নই বড় সমস্যা। এক্ষেত্রে পরিকল্পনা কমিশন থেকে বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সরকার ও জাতীয় সংসদকে অবগত করা যেতে পারে। সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হলে পরবর্তী সময়ে প্রশ্ন উঠবে না। এছাড়া প্রতিটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অন্তর্বর্তী মূল্যায়ন প্রয়োজন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি না হলে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি হওয়া সম্ভব নয়। দলীয় লোকজনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে সব কিছু। এ কারণে সরকারি সব প্রতিষ্ঠানই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে বের হতে হবে।
সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সাফল্য-ব্যর্থতা মূল্যায়নের পরামর্শ দেন। শ্রমিক নেতা রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, শ্রমিকদের রেশন ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়গুলো থাকতে হবে আগামী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, কভিডের মতো শতাব্দীর এত বড় দুর্যোগ থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় খসড়ার কিছু নেই। এসডিজি অর্জনেও সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নেই এতে। পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, কভিডের পরিপ্রেক্ষিতে পুরোনোসহ আরও নতুন নতুন ক্ষেত্রে সংস্কার উদ্যোগ প্রয়োজন। মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি নিহাদ কবির বলেন, করোনার ক্ষতি কাটাতে সরকারের বিভিন্ন নীতি-পদক্ষেপ বাস্তবায়নে মনিটরিং এবং মূল্যায়ন বাড়াতে হবে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, করোনার আঘাতের পর রপ্তানিতে আরও একটি আঘাত আসছে। ইইউ রপ্তানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংস্কারের পরামর্শ দেন তিনি।
সবার বক্তব্য শুনে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের নেতৃত্বে থাকা পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, 'আমি ক্ষোভের সঙ্গে বলছি, খসড়াটি আগে পড়ূন তারপর সমালোচনা করুন। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় করোনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি- এই বক্তব্য সঠিক নয়।' তিনি বলেন, করোনাকে গুরুত্ব দিয়েই সাজানো হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ও পরিকল্পনার খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
