ঋণ করে হলেও সরকারি ব্যয় বাড়ানোর পরামর্শ
প্রয়োজনে আরও ঋণ করে সরকারকে ব্যয় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। একই সঙ্গে ছোট ও মাঝারি খাতের উদ্যোক্তারা যারা করোনার প্রভাব কাটিয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জে রয়েছেন, তাদের জন্য ব্যাংক ব্যবস্থার বাইরে নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) অর্থনীতির স্বাধীন পর্যালোচনা প্রতিবেদনে সিপিডির এমন সুপারিশ রয়েছে। গতকাল সোমবার ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়। ছয় মাস পর পর অর্থনীতির প্রধান প্রধান সূচকের অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে সিপিডি অর্থনীতির ওপর স্বাধীন পর্যালোচনা করে সিপিডি।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদ খাতুন। তিনি বলেন, অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ করোনা পরিস্থিতি ভালোভাবে মোকাবিলা করছে। কৃষি খাত, রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাক রপ্তানি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে রাজস্ব সংগ্রহ এবং প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। অর্থনীতি ইংরেজি অক্ষর 'কে' আকৃতিতে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। বড় প্রতিষ্ঠান সহজে ও দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু ছোট ও মাঝারিরা কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর পর পুনরায় সংকটে পড়ছে। এ অবস্থায় সবাইকে নিয়ে যে পুনরুদ্ধার, তা হচ্ছে না। এতে বৈষম্য আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। এতে বলা হয়, অর্থনীতিতে মিশ্র প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভালোভাবে পুনরুদ্ধার হচ্ছে। আবার কোনো ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়ছে। বিশেষত বড় প্রতিষ্ঠান ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান ঘুরে দাঁড়ানোর পরিবর্তে সমস্যাসংকুল হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, মহামারির প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সরকার ব্যয় বাড়াচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যয় সম্প্রসারণের পরিবর্তে ব্যয় সংকোচন করছে। অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে সরকারি ব্যয় বাড়ানো দরকার।
তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রথম ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়ন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। মেগা প্রকল্পে বরাদ্দের মাত্র ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে খরচ কমেছে ১৫ শতাংশ। যদিও অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রাজস্ব সংগ্রহ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি হয়েছে। চার মাসে সরকারের ব্যয় ১৩ শতাংশ কমেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থবছরের প্রথমার্ধে শিল্পোৎপাদন বেড়েছে। রপ্তানিও কিছুটা ইতিবাচক। রেমিট্যান্স বেশ শক্তিশালী। আমদানি কমে যাওয়ায় লেনদেনের ভারসাম্য ইতিবাচক। বিনিয়োগের গতি কমে গেছে। এসব কারণে ব্যাংকগুলোতে উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা শক্তিশালী হয়েছে। ফলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় বাজেট সংশোধন করে এর ব্যয় বাড়ানো দরকার। এসএমই খাতের জন্য নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ দরকার। সিপিডির মতে, বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব থেকে বলা যায়, সেবা খাতে পুনরুদ্ধার ভালো। সামগ্রিকভাবে কর্মসংস্থানে উন্নতি হলেও করোনার আগের অবস্থানে ফেরেনি। তিনি বলেন, ব্যাংক খাত উদ্বৃত্ত তারল্য নিয়ে সমস্যায় আছে। যে কারণে আমানতের প্রকৃত সুদহার নেতিবাচক। এ অবস্থায় প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ পরিশোধের সময় বাড়ালে ব্যাংক সমস্যায় পড়বে।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সরকারের ব্যয় ও মুদ্রা সরবরাহ বাড়লে পণ্য ও সেবার চাহিদাও বাড়বে। আবার সরকার ব্যয় না করলে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে না। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়বে না। কর্মসংস্থানও চাঙ্গা হবে না। এজন্য সিপিডির পক্ষ থেকে বিদেশি ঋণ বেশি ব্যবহারের সুপারিশ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও ঋণ নিয়ে হলেও ব্যয় করতে হবে। এসএমই খাতের জন্য ব্যাংক ব্যবস্থার বাইরে নতুন করে প্রণোদনা প্যাকেজ দিতে হবে।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে মানুষের ভোগ ব্যয় বাড়ানোর ক্ষমতা যাতে তৈরি হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বাড়ানো ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এখন জরুরি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার যেসব প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে তার সবগুলো ঠিকমতো বাস্তবায়ন হয়নি। কৃষি খাতে বিতরণ এখনও অর্ধেকের কাছাকাছি। এসএমই খাতের যাদের ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক নেই, তারা প্রণোদনার সুবিধা পাচ্ছে না।
চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) অর্থনীতির স্বাধীন পর্যালোচনা প্রতিবেদনে সিপিডির এমন সুপারিশ রয়েছে। গতকাল সোমবার ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়। ছয় মাস পর পর অর্থনীতির প্রধান প্রধান সূচকের অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে সিপিডি অর্থনীতির ওপর স্বাধীন পর্যালোচনা করে সিপিডি।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদ খাতুন। তিনি বলেন, অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ করোনা পরিস্থিতি ভালোভাবে মোকাবিলা করছে। কৃষি খাত, রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাক রপ্তানি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে রাজস্ব সংগ্রহ এবং প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। অর্থনীতি ইংরেজি অক্ষর 'কে' আকৃতিতে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। বড় প্রতিষ্ঠান সহজে ও দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু ছোট ও মাঝারিরা কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর পর পুনরায় সংকটে পড়ছে। এ অবস্থায় সবাইকে নিয়ে যে পুনরুদ্ধার, তা হচ্ছে না। এতে বৈষম্য আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। এতে বলা হয়, অর্থনীতিতে মিশ্র প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভালোভাবে পুনরুদ্ধার হচ্ছে। আবার কোনো ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়ছে। বিশেষত বড় প্রতিষ্ঠান ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান ঘুরে দাঁড়ানোর পরিবর্তে সমস্যাসংকুল হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, মহামারির প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সরকার ব্যয় বাড়াচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যয় সম্প্রসারণের পরিবর্তে ব্যয় সংকোচন করছে। অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে সরকারি ব্যয় বাড়ানো দরকার।
তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রথম ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়ন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। মেগা প্রকল্পে বরাদ্দের মাত্র ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে খরচ কমেছে ১৫ শতাংশ। যদিও অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রাজস্ব সংগ্রহ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি হয়েছে। চার মাসে সরকারের ব্যয় ১৩ শতাংশ কমেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থবছরের প্রথমার্ধে শিল্পোৎপাদন বেড়েছে। রপ্তানিও কিছুটা ইতিবাচক। রেমিট্যান্স বেশ শক্তিশালী। আমদানি কমে যাওয়ায় লেনদেনের ভারসাম্য ইতিবাচক। বিনিয়োগের গতি কমে গেছে। এসব কারণে ব্যাংকগুলোতে উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা শক্তিশালী হয়েছে। ফলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় বাজেট সংশোধন করে এর ব্যয় বাড়ানো দরকার। এসএমই খাতের জন্য নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ দরকার। সিপিডির মতে, বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব থেকে বলা যায়, সেবা খাতে পুনরুদ্ধার ভালো। সামগ্রিকভাবে কর্মসংস্থানে উন্নতি হলেও করোনার আগের অবস্থানে ফেরেনি। তিনি বলেন, ব্যাংক খাত উদ্বৃত্ত তারল্য নিয়ে সমস্যায় আছে। যে কারণে আমানতের প্রকৃত সুদহার নেতিবাচক। এ অবস্থায় প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ পরিশোধের সময় বাড়ালে ব্যাংক সমস্যায় পড়বে।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সরকারের ব্যয় ও মুদ্রা সরবরাহ বাড়লে পণ্য ও সেবার চাহিদাও বাড়বে। আবার সরকার ব্যয় না করলে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে না। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়বে না। কর্মসংস্থানও চাঙ্গা হবে না। এজন্য সিপিডির পক্ষ থেকে বিদেশি ঋণ বেশি ব্যবহারের সুপারিশ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও ঋণ নিয়ে হলেও ব্যয় করতে হবে। এসএমই খাতের জন্য ব্যাংক ব্যবস্থার বাইরে নতুন করে প্রণোদনা প্যাকেজ দিতে হবে।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে মানুষের ভোগ ব্যয় বাড়ানোর ক্ষমতা যাতে তৈরি হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বাড়ানো ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এখন জরুরি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার যেসব প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে তার সবগুলো ঠিকমতো বাস্তবায়ন হয়নি। কৃষি খাতে বিতরণ এখনও অর্ধেকের কাছাকাছি। এসএমই খাতের যাদের ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক নেই, তারা প্রণোদনার সুবিধা পাচ্ছে না।
