ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নৌকাঘাট ও ভাসমান মঞ্চ পানির নিচে

নৌকাঘাট ও ভাসমান মঞ্চ পানির নিচে

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:৩৭ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ডিএনডি লেকের সৌন্দর্যবর্ধন কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। নৌকাঘাট ও ভাসমান মঞ্চ দুই মাস ধরে পানিতে তলিয়ে আছে।জানা গেছে, ডিএনডি খাল পুনর্খনন ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। চুক্তি সম্পাদন হয় ৪ এপ্রিল। ২টি প্যাকেজে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা ছিল দেড় বছর।বিনোদনের স্পটটি সিটি গভর্ন্যান্স প্রজেক্টের (সিজিপি) অর্থায়নে এটি বাস্তবায়ন করছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। ৯৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে লেকের সৌন্দর্যবর্ধন ও লেক পুনর্খনন, লেকের মধ্যে ভাসমান মঞ্চ, নৌকা চালানোর ঘাট, ওয়াটার গার্ডেন, ঝুলন্ত বাগান, আরসিসি ব্রিজ, ফুট ওভারব্রিজ, রাস্তাসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র।সরেজমিন দেখা যায়, লেকের মধ্যে বিনোদনপিয়াসীদের জন্য যেসব নৌকা চালনাঘাট করা হয়েছে এর মধ্যে নাসিক ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সব ক’টি পানির নিচে ডুবে রয়েছে দুই মাস। ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৩টি ডুবে রয়েছে। ময়লা-আবর্জনায় চালনাঘাট ভরে গেছে। ক্যানেলের মধ্যে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নৌকাঘাটগুলোতে সড়ক থেকে ওঠার সিঁড়ি এখনও নির্মাণ করা হয়নি। নাসিক ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী মো. জাভেদ খান বলেন, সৌন্দর্যবর্ধনের নামে অর্থের অপচয় করা ছাড়া কিছুই না। পরিবহন ব্যবসায়ী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, লেকের মধ্যে নির্মিত স্থাপনাগুলো পানির নিচে ডুবে রয়েছে। এসব কোনো কাজেই আসছে না বিনোদনপিয়াসীদের।১ নম্বর ওয়ার্ডের হিরাঝিলের বাসিন্দা মো. আলম হোসেন বলেন, ওয়াকওয়ে পুরোপুরি করা হয়নি। আদমজী র‍্যাব অফিসের বিপরীত দিকে ওয়াকওয়ের কিছু অংশ দেবে গেছে। লেকের ধারে ঘুরতে আসা আয়শা আক্তার মনি বলেন, এক সময় ডিএনডি লেকের পাড় দিয়ে হেঁটে চলাই দায় ছিল। বিনোদন স্পট হিসেবে লেকের কাজ করায় আমরা অনেক খুশি। লেকের মধ্যে যেসব কাজ করার কথা তা এখনও শতভাগ শেষ না করায় বঞ্চিত হচ্ছি।নাসিক ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জেসমিন বলেন, হাতিরঝিলের আদলে হওয়ার কথা শুনেছি; বাস্তবে তো দেখছি না। ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ শাহজালাল বাদল বলেন, ‘লেকের মধ্যে নৌকা চালনাঘাটগুলো আরও ২-৩ ফুট উঁচু করে তৈরি করতে পরামর্শ দিয়েছিলাম; কিন্তু তা করেনি। উঁচু করে করা হলে পানির নিচে ডুবে যেত না।’উপসহকারী প্রকৌশলী সুমন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ডিএনডি লেকের মধ্যে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং (প্রা.) লিমিটেডে কাজ চলমান থাকায় আদমজীর কদমতলীতে কাজ করতে পারেননি। লেকের পানি শীতলক্ষ্যায় যেতে না পারার কারণে সেগুলো ডুবে গেছে। লেকের মধ্যে নৌকাঘাটের ফ্লোর লেভেলের ৬ ইঞ্চি নিচে পানি থাকার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে ২-৩ ফুট পানির নিচে ডুবে রয়েছে।নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আজগর হোসেন বলেন, ‘স্থাপনাগুলো পানিতে ডুবে আছে, আমি তা দেখে এসেছি। আদমজীর কদমতলী থেকে শিমরাইল পর্যন্ত ডিএনডি খালের পানি অন্যত্র সরানোর ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ডিএনডি খালের এখনও যেসব কাজ বাকি রয়েছে তা পরবর্তী সময়ে নতুন করে বাজেট হওয়ার পর শুরু হবে।’

আরও পড়ুন

×