জীবনযাপনের পরিবর্তনে বিপর্যস্ত মানসিক স্বাস্থ্য
বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেওয়া করোনাভাইরাসের কারণে ঢাকাসহ দেশ এখন কার্যত অচল। চারদিকে এক দমবন্ধ পরিস্থিতি। এ ছাড়া প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু সংবাদ অনেক বেশি অসহায় করে তুলছে মানবজাতিকে। স্বাভাবিক জীবন ছেড়ে মানুষ তাই 'হোম কোয়ারেন্টাইনে' সময় কাটাচ্ছে দিনের পর দিন। কিন্তু মানুষ এত বেশি বাইরের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে যে, ঘরে থাকতে দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি হয়েছে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর তৎপরতা সত্ত্বেও বিভিন্ন অজুহাতে মানুষ ঘরের বাইরে যেতে চাচ্ছে। ঠিক কবে এ থেকে মুক্তি মিলবে, কবে মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে শান্তির নিঃশ্বাস নেবে তা অনিশ্চিত। এ অনিশ্চয়তা থেকেই মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজধানীর বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা মাহামুদা বেগম। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেই ঘরের কাজ সেরে বাচ্চা নিয়ে স্কুলে যান। ফিরে এসে নিজে তৈরি হয়ে বেরিয়ে যান অফিসের উদ্দেশ্যে। সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পথে বাজার সেরে আসেন। অথচ করোনাভাইরাসের আতঙ্কে অফিসে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। বাচ্চার স্কুলও বন্ধ। এমনকি বাজার করতেও বের হতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে বাসায় সবাইকে সময় দিতে পেরে ভালোই লাগে মাহামুদা বেগমের। কিন্তু তা কতদিন! সরকারি ছুটি বাড়তে থাকায় ঘরে থাকার সময়ও বাড়ছে। ফলে এক প্রকার বন্দি জীবন কাটাতে হচ্ছে।
কথা হয় আরেক চাকরিজীবী সুমাইয়া আরেফীনের সঙ্গে। তিনি জানান, ছুটির দিন বাদে প্রায় প্রতিদিনই সকাল ৮টার মধ্যে ঘর থেকে বের হন। অফিসের কাজ শেষ করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন। এরপর সংসারের টুকিটাকি কাজ। কিন্তু করোনার এ পরিস্থিতিতে অফিস যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। ছুটির দেখা তার মিলত না। সেই সুমাইয়া এখন রাতদিন ঘরেই সময় কাটাচ্ছেন। সুমাইয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, 'সময় কাটাতে এখন ভোরে জেগে উঠি। বাড়ির ছাদে গিয়ে খোলা বাতাসে ব্যায়াম করি। কিন্তু এত কিছুর পরও ঘুমোতে পারি না।'
তবে এ ক্ষেত্রে শিশু ও বয়স্ক মানুষের অবস্থা অনেকটাই নাজুক। বাচ্চাদের বাইরে যাওয়ার বায়না অভিভাবককেও প্রতিনিয়ত বিচলিত করছে। এদিকে, বয়স্করাও ঘরের বাইরে যেতে অস্থির হয়ে উঠেছেন। ৬২ বছর বয়সী মনতাজ উদ্দীন অ্যাজমার সমস্যায় ভুগছেন। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্তের খবর ছড়ানোর পর পরই তিনি গৃহবন্দি হন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, দীর্ঘদিন গৃহবন্দি থাকায় মানুষের মাঝে সৃষ্টি হচ্ছে হতাশা। দেখা দিচ্ছে অস্থিরতা। এতে করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাদের বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ভাবনা মানুষের মেজাজকে করে তুলছে খিটখিটে। যার প্রভাব গিয়ে পড়ছে পরিবার ও স্বজনের ওপর। অস্বাভাবিক এ অবস্থা শিশুদের ওপর ভীষণভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোহিত কামাল সমকালকে বলেন, ঘরে আটকে থাকা অনেকের জন্যই বিনা অপরাধে হাজতবাসের মতো ঠেকছে। ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য। 'গৃহে অন্তরীণ' (হোম কোয়ারেন্টাইন) ব্যবস্থার ফলে বাংলাদেশের জনগণকে ভবিষ্যতের জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার ঝুঁকিতে এবারের মতো করে আগে কখনও পড়তে হয়নি। তবে আধুনিক মধ্যবিত্তের ঘরে সময় কাটানোর উপাদানের অভাব নেই। সেলফোন, কম্পিউটার গেম, হোম থিয়েটার, রান্নাবান্না, সংস্কৃতি চর্চাসহ অনেক মাধ্যমই আছে। টিকে থাকার সম্ভাবনা-অসম্ভাবনার দুর্ভাবনা থেকে নিম্ন আয়ের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যস্ত হচ্ছে। ঠিক একই অবস্থা এখন মধ্যবিত্তেরও। এমনকি করোনাসম্পর্কিত ইতিবাচক খবরও কম প্রকাশিত হচ্ছে। এ ছাড়া জনগণের নেতিবাচক খবরই এখন বেশি টানছে। ফলে এক ধরনের ভীতি তৈরি হচ্ছে সবার মধ্যে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের জন্য করোনার আরেক শিক্ষা এই যে, অনাক্রান্তদের বিপজ্জনক মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলার জন্য আগাম প্রস্তুতি এবং সর্বাত্মক মানসিক সেবা-সহায়তাকে অত্যাবশ্যক কর্মসূচি হিসেবে প্রয়োগের আওতায় আনতে হবে।
রাজধানীর বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা মাহামুদা বেগম। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেই ঘরের কাজ সেরে বাচ্চা নিয়ে স্কুলে যান। ফিরে এসে নিজে তৈরি হয়ে বেরিয়ে যান অফিসের উদ্দেশ্যে। সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পথে বাজার সেরে আসেন। অথচ করোনাভাইরাসের আতঙ্কে অফিসে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। বাচ্চার স্কুলও বন্ধ। এমনকি বাজার করতেও বের হতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে বাসায় সবাইকে সময় দিতে পেরে ভালোই লাগে মাহামুদা বেগমের। কিন্তু তা কতদিন! সরকারি ছুটি বাড়তে থাকায় ঘরে থাকার সময়ও বাড়ছে। ফলে এক প্রকার বন্দি জীবন কাটাতে হচ্ছে।
কথা হয় আরেক চাকরিজীবী সুমাইয়া আরেফীনের সঙ্গে। তিনি জানান, ছুটির দিন বাদে প্রায় প্রতিদিনই সকাল ৮টার মধ্যে ঘর থেকে বের হন। অফিসের কাজ শেষ করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন। এরপর সংসারের টুকিটাকি কাজ। কিন্তু করোনার এ পরিস্থিতিতে অফিস যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। ছুটির দেখা তার মিলত না। সেই সুমাইয়া এখন রাতদিন ঘরেই সময় কাটাচ্ছেন। সুমাইয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, 'সময় কাটাতে এখন ভোরে জেগে উঠি। বাড়ির ছাদে গিয়ে খোলা বাতাসে ব্যায়াম করি। কিন্তু এত কিছুর পরও ঘুমোতে পারি না।'
তবে এ ক্ষেত্রে শিশু ও বয়স্ক মানুষের অবস্থা অনেকটাই নাজুক। বাচ্চাদের বাইরে যাওয়ার বায়না অভিভাবককেও প্রতিনিয়ত বিচলিত করছে। এদিকে, বয়স্করাও ঘরের বাইরে যেতে অস্থির হয়ে উঠেছেন। ৬২ বছর বয়সী মনতাজ উদ্দীন অ্যাজমার সমস্যায় ভুগছেন। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্তের খবর ছড়ানোর পর পরই তিনি গৃহবন্দি হন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, দীর্ঘদিন গৃহবন্দি থাকায় মানুষের মাঝে সৃষ্টি হচ্ছে হতাশা। দেখা দিচ্ছে অস্থিরতা। এতে করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাদের বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ভাবনা মানুষের মেজাজকে করে তুলছে খিটখিটে। যার প্রভাব গিয়ে পড়ছে পরিবার ও স্বজনের ওপর। অস্বাভাবিক এ অবস্থা শিশুদের ওপর ভীষণভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোহিত কামাল সমকালকে বলেন, ঘরে আটকে থাকা অনেকের জন্যই বিনা অপরাধে হাজতবাসের মতো ঠেকছে। ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য। 'গৃহে অন্তরীণ' (হোম কোয়ারেন্টাইন) ব্যবস্থার ফলে বাংলাদেশের জনগণকে ভবিষ্যতের জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার ঝুঁকিতে এবারের মতো করে আগে কখনও পড়তে হয়নি। তবে আধুনিক মধ্যবিত্তের ঘরে সময় কাটানোর উপাদানের অভাব নেই। সেলফোন, কম্পিউটার গেম, হোম থিয়েটার, রান্নাবান্না, সংস্কৃতি চর্চাসহ অনেক মাধ্যমই আছে। টিকে থাকার সম্ভাবনা-অসম্ভাবনার দুর্ভাবনা থেকে নিম্ন আয়ের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যস্ত হচ্ছে। ঠিক একই অবস্থা এখন মধ্যবিত্তেরও। এমনকি করোনাসম্পর্কিত ইতিবাচক খবরও কম প্রকাশিত হচ্ছে। এ ছাড়া জনগণের নেতিবাচক খবরই এখন বেশি টানছে। ফলে এক ধরনের ভীতি তৈরি হচ্ছে সবার মধ্যে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের জন্য করোনার আরেক শিক্ষা এই যে, অনাক্রান্তদের বিপজ্জনক মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলার জন্য আগাম প্রস্তুতি এবং সর্বাত্মক মানসিক সেবা-সহায়তাকে অত্যাবশ্যক কর্মসূচি হিসেবে প্রয়োগের আওতায় আনতে হবে।
