ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সবচেয়ে জরুরি

সিপিডির সংলাপে বক্তারা

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সবচেয়ে জরুরি

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২১ | ২০:০২ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৩ | ১৫:৫৫

করোনার প্রভাব থেকে সমাজ ও অর্থনীতি রক্ষায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সবচেয়ে জরুরি। লকডাউনের মাধ্যমে ব্যাপক সংক্রমণ এড়ানো গেলেও সমাধান হবে না। বরং অর্থনৈতিক সমস্যা বাড়বে। এ জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখতে হবে। সোমবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত 'কভিড অতিমারির দ্বিতীয় ঢেউ :কীভাবে সামলাব' শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। জুম প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এ সংলাপ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। এ সংলাপে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, শিল্পোদ্যোক্তা, শ্রমিক নেতারা মতামত দেন।
এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, করোনা দ্রুত শেষ হবে- এমন ইঙ্গিত নেই। ফলে করোনার মধ্যেই বাঁচার উপায় বের করতে হবে। জীবন ও জীবিকার ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে অনেক দুর্বলতা আছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে কমবেশি সবার ক্ষেত্রেই অভিঘাত আসবে। তিনি ইনজেকশন আমদানিতে ভর্তুকি ও পরীক্ষার জন্য অ্যান্টিজেন কিট আমদানি সহজ করার সুপারিশ করেন।
বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের আহ্বায়ক ড. মোশতাক রাজা চৌধুরী বলেন, অনেক কাজই সুষ্ঠুভাবে বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে হচ্ছে না। নতুন রোগীদের দুই-তৃতীয়াংশ ঢাকার। প্রথম দুই সপ্তাহ ঢাকা ও চট্টগ্রামে সত্যিকারের লকডাউন দরকার। লকডাউনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্ররা। সরকারকে তাদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
ল্যাবএইড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএম শামীম বলেন, পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে। হাসপাতালে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়াতে হবে। করোনা ইউনিটে যারা কাজ করছেন, তাদের প্রণোদনা দিতে হবে। করোনা চিকিৎসার ওষুধের দাম কমানোর উদ্যোগ দরকার।
আইইডিসিআরের উপদেষ্টা মুস্তাক হোসেন বলেন, আগে দরকার স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ন; সংক্রমণের প্রত্যক্ষ উৎস বন্ধ করা, সীমিত করা। যারা শনাক্ত হচ্ছেন তাদেরকে চিকিৎসার আওতায় এনে আলাদা আইসোলেশন দরকার।
বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, সামনে ঈদ। কারখানা বন্ধ থাকলে বেতন-বোনাস পাওয়া যাবে না- এমন আশঙ্কায় অস্থিতিশীলতার সুযোগ থাকে। স্থিতিশীলতার জন্য কারখানা খোলা রাখা দরকার।
গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সহপ্রধান তাসলিমা আক্তার বলেন, 'শ্রমিকদের করোনা পরীক্ষা হচ্ছে না। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের পরীক্ষা করা জরুরি। শ্রমিকের স্বাস্থ্যহানি না হয়, জীবিকার সমস্যায় না পড়ে, সে ধরনের পদক্ষেপ দরকার।' আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর বলেন, সংক্রমণ বন্ধ করাই এখন জরুরি। তাই স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং যারা সংক্রমিত হচ্ছেন তাদের সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
দোকান মালিক সমিতির হেলালউদ্দিন বলেন, 'ছোট ব্যবসায়ীদের স্বার্থে রমজান মাসে লকডাউন না দেওয়া গেলে ভালো।' এ ছাড়া সংলাপে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, এমসিসিআই সচিব ফারুক আহমেদ, ফেডারেশন গার্মেন্ট ওয়ার্কারের মহাসচিব চায়না রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন

×