ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

করোনাকে নয় ভয়, আমরা করব জয়

সাঁওতালকন্যার অভয়

 করোনাকে নয় ভয়, আমরা করব জয়

রাজশাহীতে মাইকিং এবং মাস্ক বিতরণ করে করোনা প্রতিরোধে মানুষকে সচেতন করছেন সাঁওতাল তরুণী সাবিত্রী হেমব্রম- সমকাল

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২১ | ১৮:৩৪ | আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২১ | ১৯:১৫

পবা উপজেলার দারুসা বাজার। হ্যান্ড মাইক নিয়ে অনবরত মাইকিং করে চলেছেন একজন আদিবাসী সাঁওতাল তরুণী। বলছেন, 'করোনাকে নয় ভয়, আমরা করব জয়। মাস্ক পরুন, নিরাপদে থাকুন।'
শুধু তাই নয়, নিম্ন আয়ের যেসব মানুষের মুখে মাস্ক নেই, তাদের হাতে মাস্কও তুলে দিচ্ছেন তিনি; খাবারও বিতরণ করছেন তাদের মধ্যে।
করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই সচেতনতা সৃষ্টিতে সক্রিয় এই তরুণী হলেন সাবিত্রী হেমব্রম। রাজশাহী কলেজ থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স শেষ করেছেন তিনি ২০১৮ সালে। এর আগে ২০০৮ সালে রাজশাহীর বিবি হিন্দু একাডেমি থেকে এসএসসি এবং ২০১০ সালে রাজশাহী মহিলা কলেজ থেকে তিনি এইচএসসি পাস করেন। তিনি নগরীর হড়গ্রাম পূর্বপাড়ার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত জেলা সমবায় কর্মকর্তা সূর্য হেমব্রমের মেয়ে। তার মা জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি সুমিলা টুডু। সাবিত্রী হেমব্রম বলেন, মানুষের জন্য কাজ করছি। আমার বড় ভাই সুবাস চন্দ্র হেমব্রমও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তখন দেখেছি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করলে কোনো সমস্যা হয় না। তিনি বলেন, বাইরে গিয়ে মাস্ক খুলে রাখলে সংক্রমণ হবেই। মাস্ক পরলে ভয় নেই।
নৃত্যশিল্পী ও সংগঠক সাবিত্রী এখনও বিয়ে করেননি। হ্যান্ড মাইকটি ধার করেছেন একটি সংগঠন থেকে। তিনি বলেন, কেউ যদি একটি হ্যান্ড মাইক কিনে দিত, তবে সুবিধা হয়। কয়েকজন দাতা আছেন, যাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে দরিদ্র মানুষের মধ্যে খাবার দিচ্ছি। মাস্ক নিজের অর্থেই কিনে বিতরণ করছি। মানুষকে সচেতন করতে প্রচারাভিযান চালাচ্ছি। মাস্ক ব্যবহার ও হাত ধোয়ার বিষয়ে মানুষকে আগ্রহী করছি। অপপ্রচারে কান না দিয়ে সবাইকে করোনার টিকা নিতে বলছি।
সাবিত্রী জানান, করোনা সচেতনতায় আগে রাজশাহী শহরের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করেছেন। এখন শহরের চেয়ে গ্রামের মানুষ আক্রান্ত বেশি হচ্ছে। তাই তিনিও গ্রামমুখী হয়েছেন। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো গ্রামে যাচ্ছেন এবং সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন মানুষজনকে।
সাবিত্রী বলেন, অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। আবার অনেকেই বলছেন, মাস্কের চেয়ে খাবারের প্রয়োজন বেশি। কারণ লকডাউনে অনেকের আয় কমে গেছে। অনেকেই বেকার হয়ে পড়েছেন। রিকশা নিয়ে বের হলে চাকা পাংচার করে দিচ্ছে। দিনমজুররা বেকার হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, তাদের সাহায্য করার মতো এত অর্থ আমার কাছে নেই। তবে কেউ সহযোগিতা করলে আমি তাদের খাবার পৌঁছে দিতে পারব।
সাবিত্রী জানালেন, তার এ কার্যক্রমকে সবাই ভালো চোখে দেখলেও কেউ কেউ বিরক্তও হচ্ছেন। কারণ তাদের ঘরে খাবার নেই। তারা আগে খাবার চান। এই পরিস্থিতিতে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসুন। মহামারি কাটিয়ে উঠতে সবাই সচেতন হোন। মাস্ক পরুন। তবেই এই মহামারি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

আরও পড়ুন

×