ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ২২ বছর পরও স্থাপন হয়নি বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সিলেট কেন্দ্র। ফলে ছোটখাটো রেকর্ডিংয়ের জন্য যেতে হয় ঢাকায়। আবার চিঠি পাওয়ার পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে ঢাকায় গিয়ে রেকর্ডিংয়ে অংশ নিতে পারছেন না প্রবীণ সংস্কৃতিকর্মীরা। তরুণ সংস্কৃতিকর্মীদের অনেকে বিভিন্ন পেশায় জড়িত। তাদের পক্ষেও অনেক সময় ঢাকায় গিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অসম্ভব। এ অবস্থায় মুখ থুবড়ে পড়েছে সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গন। ফলে দিনে দিনে এ অঙ্গন থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন অনেক সংস্কৃতিকর্মী। বিটিভির সিলেট কেন্দ্র স্থাপন না হওয়ায় এখানকার সংস্কৃতিকর্মীরা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। বিটিভির সিলেট কেন্দ্র স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় সিলেট অঞ্চলের ইতিহাস ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি-ঐতিহ্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে বিটিভির সিলেট কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৯৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর নগরীর টিলাগড়ে বাংলাদেশ বেতার সিলেট প্রেরণ কেন্দ্রের জায়গায় বিটিভির সিলেট কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান। কেন্দ্রটি নির্মাণে ২৭ কোটি টাকা বরাদ্দও দেওয়া হয়। প্রকল্পের মধ্যে ছিল ১৫০ বর্গমিটার আয়তনের একটি স্টুডিও, ১২০ মিটার উঁচু টাওয়ার, তিনটি
ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম, বহির্দৃশ্য ধারণের জন্য তিনটি সম্পাদনা স্টুডিও, মাইক্রোওয়েভ যোগাযোগ কেন্দ্র, যন্ত্রপাতি ডরমেটরি, বিদ্যুৎ সাবস্টেশন ও পুলিশ ব্যারাক নির্মাণ। কিন্তু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর ক্ষমতার পালাবদল হলে কেন্দ্রটি স্থাপনের ফাইল চাপা পড়ে যায়।
সিলেটের প্রবীণ সঙ্গীতশিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস সমকালকে বলেন, অনেক বয়স হয়েছে। শরীরে অনেক রোগ বাসা বেঁধেছে। ফলে বিশ্রামে থাকতে হয়। ঢাকা থেকে রেকর্ডিংয়ের চিঠি আসে; কিন্তু যেতে পারি না। সিলেটে বিটিভির কেন্দ্র থাকলে কষ্ট করে হলেও যেতাম। তার পরও অনেক সময় ঢাকায় যাই সঙ্গীতের টানে। ১৯৯৫ সালে সিলেটে বিটিভির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠানে আমি উপস্থিত ছিলাম। যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল; মনে অনেক আনন্দ পেয়েছিলাম। অথচ ২২টি বছর পেরিয়ে গেছে। এখনও আলোর মুখ দেখেনি প্রকল্পটি।
বাংলাদেশ মিউজিশিয়ান ফেডারেশন সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক বিক্রম কুমার ভিকি সমকালকে বলেন, সিলেট অনেক সম্ভাবনাময় একটি অঞ্চল। সিলেটের লোকগান দেশের মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছে। অথচ সিলেটে বিটিভির প্রচার কেন্দ্র নেই। ঢাকায় রেকর্ডিংয়ের জন্য অনেক সময় চিঠি আসে। ব্যস্ততার কারণে যাওয়া সম্ভব হয় না। সিলেটে রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থা থাকলে অবশ্যই যেতে পারতাম। নতুনদের সংস্কৃতিমুখী করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ দরকার। বিটিভির সিলেট কেন্দ্র স্থাপিত হলে প্রাণ ফিরে পাবে এখানকার সাংস্কৃতিক অঙ্গন। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের দাবি, এ অঞ্চলের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে সিলেটে দ্রুত বিটিভির কেন্দ্র স্থাপন করা হোক।

মন্তব্য করুন