ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ৩ ঘণ্টার বৈঠক: হরমুজ প্রণালি সচলে যে শর্ত দিল তেহরান
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট (বাঁ থেকে), পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। মঙ্গলবার জাতিসংঘে। ছবি: আল জাজিরার সৌজন্যে
আল জাজিরা
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:২০ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:২৮
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা পরোক্ষ বৈঠক করেছেন। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টা ধরে যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় দুই দেশের প্রতিনিধিদের সরাসরি সাক্ষাৎ হয়েছিল কি না তা স্পষ্ট নয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মধ্যস্থতাকারীরা পুরো সময় ধরে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বার্তা বিনিময় করেছেন। এক্সে দেওয়া পোস্টে উইটকফ বলেন, ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বৈঠকের ফাঁকে আমরা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছি। তারা (মধ্যস্থতাকারী) দিনজুড়ে দুই পক্ষের মধ্যে যাতায়াত করেছেন।’
উইটকফ আরও লিখেছেন, ‘তারা সফলভাবে এক দফা আলোচনা শেষ করেছেন। আমরা আশা করি, এটি গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক হবে। মধ্যস্থতাকারীরা তাদের কাজ চালিয়ে যাবেন।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য আরও সরাসরি বক্তব্য দিয়েছেন। জাতিসংঘে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিন ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। তাদের খুব ভালো বৈঠক হয়েছে। খুব ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। এতে চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার গতি এসেছে বলে তিনি মনে করেন।
হোয়াইট হাউসের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি কিম্বার্লি হ্যালকেট জানিয়েছেন, ট্রাম্প বৈঠকে ছিলেন না। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে উইটকফ ও কুশনার প্রতিনিধিত্ব করেন।
তেহরান থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি জানান, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে উইটকফের বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ছিল না। এখন যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে বৈঠকটি হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল ইরানের বার্তা ও শর্তগুলো জানা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়ে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের দেওয়া শর্তের মধ্যে আছে- যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, আটকে রাখা ইরানি সম্পদ ছাড় এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা।
এই বৈঠকের আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র। তিনি জানিয়েছিলেন, কূটনীতি এগিয়ে নেওয়ার জন্য নিউইয়র্কে থাকা প্রতিনিধিদলের পূর্ণ ক্ষমতা আছে। আলোচনায় ফেরার জন্য এবারের জাতিসংঘ অধিবেশন একটি স্বর্ণালী সুযোগ।
রয়টার্সকে ওই সূত্র জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ১৬ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য একটি চুক্তির বিস্তারিত নানা দিক নিয়ে নিউইয়র্কে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিলে ইরান সাতদিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে পারে।