ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০২৪

ছুটির দিনে পদ্মা সেতু ভ্রমণ

ছুটির দিনে পদ্মা সেতু ভ্রমণ

শুক্রবার ছুটির দিনে পদ্মা সেতু দেখতে দুই প্রান্তে সমবেত হয় হাজারো মানুষ। মাওয়া প্রান্ত থেকে তোলা ছব-সমকাল

কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু ও মোহাম্মদ আলী মৃধা, পদ্মা সেতু এলাকা থেকে

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ০২ জুলাই ২০২২ | ০০:৩১

ছুটির বিকেলে গর্বের পদ্মা সেতুতে ঢল নেমেছিল পর্যটকের। গতকাল শুক্রবার হাজারো মানুষ সেতুর দুই প্রান্তে জমায়েত হন। মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাঁরা বাস, প্রাইভেটকার এবং মাইক্রোবাসে পারাপার হন। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষের টহল থাকলেও অনেকেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেতুতে নেমে হাঁটেন, ছবি তোলেন।

গত শনিবার উদ্বোধনের পরের দু'দিন যে বিশৃঙ্খল অবস্থা ছিল, তা অবশ্য ছিল না গতকাল। সেতুর টোল প্লাজা এলাকা, ঘাট ও নিচের নদীর চরেও ছিল হাজারো মানুষের ভিড়। শিমুলিয়া ও বাংলাবাজার ঘাট থেকে স্পিডবোটে নদী থেকে সেতু দর্শনকারীর সংখ্যাও কম ছিল না।

ঢাকার গেন্ডারিয়া থেকে আসা কাজী মইনুল হোসেন রুমেল জানান, সেতুতে থামা যাচ্ছে না। তাই নৌকায় ঘুরে নিচ দিয়ে পদ্মা সেতুর সৌন্দর্য দেখছেন।
বরিশাল, খুলনা, গোপালগঞ্জসহ দূরদূরান্ত থেকে মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ভাড়া করে অনেকেই সেতু দেখতে আসেন। যাদের গাড়ি নেই, সেতু পার হতে তাদের গুনতে হয়েছে বাসে বাড়তি ভাড়া। অনেকে এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে মোটরসাইকেলে এসে, তা দূরে রেখে হেঁটে আসেন। খুলনার ডুমুরিয়া থেকে আসা তানভীর আহম্মেদের স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে পদ্মা সেতুতে বেড়ানোর ইচ্ছা ছিল। বাইক দূরে রেখে নিচের চর থেকে সেতু দেখেন। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থেকে আসা বিলকিছ আক্তার জানান, সেতুতে উঠতে না পেরে টোল প্লাজার সামনে থেকে ছবি তোলেন।

বরিশালের বাবুগঞ্জ থেকে আসা গার্মেন্ট ব্যবসায়ী আবু আওয়াল জানান, মাইক্রোবাসে সেতু পার হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। পারাপারে ২ হাজার ৬০০ টাকা টোল লেগেছে।

মাওয়াপ্রান্ত থেকে গাড়িতে জাজিরা যেতে দেখা গেছে অনেককে। গাড়ি থামালে বা সেতুতে নামলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়। দুই প্রান্তে মাইকিং করে সেতুতে না থামা, ছবি না তোলার নির্দেশনা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আবদুল কাদের বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে মানুষের আবেগ অনেক। সেতুতে দাঁড়াতে নিষেধ করলে কেউ কেউ কেঁদেও ফেলেন। তাই দর্শনার্থীদের সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে।

মাদারীপুরগামী যাত্রী সৌরভ হোসেন জানান, পদ্মা সেতু দিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন। কী যে আনন্দ হচ্ছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

শুধু সেতু নয়, মাওয়া-জাজিরায় দর্শনার্থীদের জন্য ভ্রাম্যমাণ ফাস্টফুড, ফুচকা, চায়ের দোকান গড়ে উঠেছে। সিরাজদীখান থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশে রিসোর্ট তৈরি হয়েছে। সেখানে ঘাঁটি গেড়ে কেউ কেউ এসেছেন পদ্মা সেতু দেখতে।

ভাঙ্গা থেকে আসা আসলাম শেখ জানান, স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে এসেছেন। উঠতে না পেরে দূর থেকে সেতু দেখতে দেখতে পরিবার নিয়ে রেস্তোরাঁয় খেয়েছেন।
সেতুসংলগ্ন নাওডোবা এলাকার ফুড এক্সপ্রেস রেস্তোরাঁর মালিক তরিকুল ইসলাম জানান, তিনিই প্রথম খাবারের দোকান দিয়েছেন এ এলাকায়। অন্যান্য খাবারের সঙ্গে আছে পদ্মার ইলিশও। প্রচুর ক্রেতা এসেছে শুক্রবার। ফুচকা বিক্রেতা সাইফুল শেখ জানান, আগে ভ্যান চালাতেন। পর্যটকের আনাগোনায় পেশা বদল করেছেন।

জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর দক্ষিণ থানার সামনের চত্বর ও সড়কে খাবার, খেলনাসহ বারোয়ারি দোকান গড়ে উঠেছে। সেগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়।

আরও পড়ুন

×