ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদায় নিতে এসে শ্বশুরকে 'শেষ বিদায়'

বিদায় নিতে এসে শ্বশুরকে 'শেষ বিদায়'
×

প্রতীকী ছবি

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১৪:১৮

মাস দুয়েক আগেই একমাত্র মেয়ে বেবী রানী মণ্ডলকে বিয়ে দিয়েছিলেন ভোজেন্দ্র চন্দ্র মণ্ডল (৬২)। এরপর শ্বশুরবাড়ি নরসিংদীর ঘোড়াশালে চলে যান বেবী। বিয়ের পর গতকাল শুক্রবার প্রথমবারের মতো ভোজেন্দ্রের মেয়ের জামাই খোকন চন্দ্র মণ্ডল শ্বশুরবাড়ি ঢাকার তেজগাঁওয়ে আসেন। দুই সপ্তাহ পরই সংযুক্ত আরব আমিরাত যাওয়ার কথা খোকনের। তাই শ্বশুরের কাছ থেকে বিদায় নিতে তাঁর এই আগমন। তবে নিয়তি বড় নিষ্ঠুর! নিজে বিদায় নিতে এসে শ্বশুরকে 'শেষ বিদায়' জানাতে হলো খোকনের। গতকাল সকাল ১০টার দিকে কারওয়ান বাজারে রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান ভোজেন্দ্র। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভোজেন্দ্রের মেয়ের জামাই খোকন সমকালকে বলেন, 'প্রথমবার শ্বশুরবাড়ি এসেছি। তাই সকাল থেকে শ্বশুর ব্যস্ত হয়ে ওঠেন- কী কিনবেন, কী খাওয়াবেন। সকালে একবার বাজারে গিয়ে খাসির মাংস ও নানা ধরনের মাছসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কিনে বাসায় ফেরেন। এর পর আবার কারওয়ান বাজারে টুকটাক কেনাকাটার জন্য যান। তখনই দুর্ঘটনা ঘটে। তেজগাঁওয়ের খ্রিষ্টানপাড়ার বাসা দুর্ঘটনাস্থলের খুব কাছাকাছি।'

খোকন আরও বলেন, শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় আমার স্ত্রী ঢাকায় আসতে পারেনি। বিদেশ চলে যাচ্ছি, তাই শ্বশুরের কাছ থেকে বিদায় নিতে এসেছিলাম। আমাকে দেখে তিনি কী যে খুশি হয়েছিলেন, বলে বোঝাতে পারব না। আমার জন্য কেনাকেটা করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটল; এই দুঃখ কী করে ভুলব সারাজীবন?

তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক তৌকির আহমেদ সমকালকে জানান, কারওয়ান বাজারে ডিআইটি মার্কেটের পেছনে কাঠপট্টি এলাকায় রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। একটি লাইন দিয়ে ট্রেন আসছে দেখে তিনি পাশের লাইনে উঠে হাঁটতে থাকেন। কিন্তু পেছন থেকে এ লাইনেও ট্রেন আসছে, বুঝতে পারেননি তিনি। কারওয়ান বাজারে তিনি ছেলেকে নিয়ে কাঠের ব্যবসা করতেন। ঘটনার পর ভোজেন্দ্রকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন।

দুর্ঘটনার পর নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। নতুন মেয়ের জামাইয়ের প্রথমবারের আগমন ঘিরে উৎসবমুখর একটি পরিবেশ ছেয়ে যায় বিষাদে। ভোজেন্দ্রের গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদীখানে। তাঁর এক ছেলে এক মেয়ে।

ভোজেন্দ্রের ছেলে বিনয় চন্দ্র মণ্ডল বলেন, এমন দুর্ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। আনন্দমুখর একটি বাড়ির পরিবেশ একটি দুর্ঘটনার খবরে পুরোপুরি বদলে গেছে।

আরও পড়ুন

×